হামলাকারীরা ভারতের নাগরিক? সরবেড়িয়া কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

Justice Abhijit Ganguly: সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রাজ্যে কোনও আইনশৃঙ্খলা আছে বলে আপনার মনে হয়? তদন্ত আটকানোর জন্য এর আগে মানুষের টাকা খরচ করা হচ্ছিল মামলা মোকদ্দমা করে।"

Sindhu Som
৩ মিনিট
হামলাকারীরা ভারতের নাগরিক? সরবেড়িয়া কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

গত শুক্রবার তল্লাশি করতে গিয়ে সন্দেশখালির সরবেড়িয়াতে আক্রান্ত হন ইডি আধিকারিকেরা। তিনজন আধিকারিক গুরুতর আহত। গাড়ি ভাঙচুর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তাঁদের ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য সামগ্রী। রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে গিয়ে একই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে বনগাঁতেও। ঘটনা কেন্দ্র করে নিন্দার ঝড় উঠেছে দেশের সর্বত্র। নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি। ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে বারবার উঠে আসছে অধুনা জেলবন্দি তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম। শাহজাহান শেখ এবং শঙ্কর আঢ্য─দুজনেই তার ঘনিষ্ঠ। সারা বাংলার বিশিষ্ট জনেরা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারই মধ্যে এই হামলা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রাজ্যে কোনও আইনশৃঙ্খলা আছে বলে আপনার মনে হয়? তদন্ত আটকানোর জন্য এর আগে মানুষের টাকা খরচ করা হচ্ছিল মামলা মোকদ্দমা করে। কোনও অন্যায় বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিলেই তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চলে যাওয়া হচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু কী করার জন্য যাওয়া হচ্ছে? আমি তো আজকে জানতে চাইব, মোট কত টাকা খরচ হল! এই তদন্ত আটকানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কত কোটি টাকা খরচ করল? আশা করি, যাঁকে খুঁজতে গিয়েছিল সেই শেখ শাহজাহান রাত ১২ টার মধ্যে ইডি অফিসে এসে ধরা দেবেন। আশা করব, তাঁর যাঁরা নেতা আছেন, তাঁরাই সেই নির্দেশ দেবেন।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ইডির উপর হামলা: নেপথ্যে কোন দুইজন?

Attack on ED: গত শুক্রবার সকালে সন্দেশখালির সরবেড়িয়াতে ইডি অফিসারেরা তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল। সেখানেই হামলা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও আধিকারিকদের উপরে। ভাঙচুর চলে আধিকারিকদের গাড়িতেও। আহত হন তিনজন আধিকারিক।

এর আগেও রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি নিয়ে বারবার সোচ্চার হতে দেখা গেছে তাঁকে। তিনিই সেই দুর্নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপর থেকে বারবার বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। অথচ ঝড়ের মুখে তিনি অবিচল। ইডি আধিকারিকদের উপর আক্রমণের পর ওইদিন উচ্চ আদালতে অন্য এক মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি বলেন, "আপনাদের সঙ্গে বন্দুক, লাঠি থাকে না? চালাতে পারেন না?”

রেশন দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূল নেতা শাহজাহান সেখের বাড়িতে শুক্রবার তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল ইডি আধিকারিকদের দলটি। সকালে তাঁরা খবর পেয়েছিলেন শাহজাহান বাড়িতেই রয়েছে। কিন্তু বারবার ডাকা সত্ত্বেও দরজা খোলে না শাহজাহান। বাধ্য হয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন তাঁরা। আর তখনই স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, প্রায় ৮০০-১০০০ জন হামলা চালায় তাঁদের উপরে। গাড়ি ভেঙে ছিনিয়ে নেয় জিনিসপত্র, ল্যাপটপ। ইডি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানও তোলে তারা। এই ঘটনায় এ'পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে প্রায় একই রকমের ঘটনা ঘটেছে বনগাঁতেও। প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যকে গ্রেফতারের সময় জনতার রোষের মুখে পড়েন আধিকারিকেরা। রাত সাড়ে বারোটায় শঙ্করকে গ্রেফতার করেন আধিকারিকেরা। সেখানেই বাধার মুখে পড়তে হয় তাদের। তদন্তকারীদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ চলে। পথ আটকানোর চেষ্টা করেন মহিলারা। ইট পাটকেলও ছোঁড়া হয় ইডির গাড়িতে।

এ'দিন এজলাসে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কেন এখনও রাজ্যপাল ঘোষণা করছেন না যে, রাজ্যের সাংবিধানিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে? যদি তদন্তকারীরাই মার খান, তাহলে তদন্ত হবে কী করে?” রাতেও সেই বক্তব্যকেই সমর্থন করলেন তিনি। বললেন, "দুপুরে যা বলেছি, তা সচেতনভাবে বলেছি। আমি বিশ্বাস করি, পশ্চিমবঙ্গের সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে।” হামলাকারীদের আসল পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতে সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতালে আহত ইডি আধিকারিকদের দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, "যাদের লেলিয়ে দেওয়া হল, তারা ভারতবর্ষের নাগরিক তো? অন্য কোনও জায়গার না তো? তারা নৌকা করে আসেনি তো? সঠিক তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে কারা কাকে আশ্রয় এ'সব করছে।” এই মন্তব্য বসিরহাটে বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেই মনে করছেন কেউ কেউ।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।