দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ইডির উপর হামলা: নেপথ্যে কোন দুইজন?

Attack on ED: গত শুক্রবার সকালে সন্দেশখালির সরবেড়িয়াতে ইডি অফিসারেরা তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল। সেখানেই হামলা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও আধিকারিকদের উপরে। ভাঙচুর চলে আধিকারিকদের গাড়িতেও। আহত হন তিনজন আধিকারিক।

Sindhu Som
৩ মিনিট
দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ইডির উপর হামলা: নেপথ্যে কোন দুইজন?

গত শুক্রবার সকালে সন্দেশখালির সরবেড়িয়াতে ইডি অফিসারেরা তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল। সেখানেই হামলা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও আধিকারিকদের উপরে। ভাঙচুর চলে আধিকারিকদের গাড়িতেও। আহত হন তিনজন আধিকারিক। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সারা দেশে।

১৮টি জায়গায় তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা ছিল ইডি-র। রেশন দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূল নেতা শাহজাহান সেখের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল আধিকারিকদের দলটি। সেখানেই স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, প্রায় ৮০০-১০০০ জন হামলা চালায় তাঁদের উপরে। গাড়ি ভেঙে ছিনিয়ে নেয় জিনিসপত্র, ল্যাপটপ। ইডি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানও তোলে তারা। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শাহজাহান শেখ

এই ঘটনার নেপথ্যে যে শাহজাহান শেখ, তাঁর পরিচয় কী? শাহজাহানের উত্থান কাহিনির শুরু বাম আমলে। মামা মোসলেম শেখ ছিল সরবেড়িয়ার পঞ্চায়েত প্রধান, তৎকালীন সিপিএমের বেশ প্রভাবশালী নেতা। শুরুতে সন্দেশখালি-সরবেড়িয়া রুটে ট্রেকারের পাদানিতে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের থেকে ভাড়া সংগ্রহ করত শাহজাহান। পরে মামার আশীর্বাদে একটা মাছের ভেড়ি হয়। প্রথম স্বচ্ছল জীবন যাপনের এই শুরু। হাতে আসছিল কাঁচা টাকা। বাম জমানার শেষদিকে মোসলেম প্রভূত ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। উত্তর ২৪ পরগণা-র বারাসাতে ভেড়ি দেখতেন সিপিএমের নেতা মজিদ মাস্টার, ঠিক তেমনই দক্ষিণ ২৪ পরগণায় মোসলেম-শাহজাহান জুটি ভেড়ি নিয়ন্ত্রণ করত। সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক অধুনা প্রয়াত অবনী রায়ের সঙ্গেও দহরম মহরম ছিল শাহজাহানের। তবে ২০১০ থেকেই সিপিএমের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে শুরু করে সে। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগেই স্থানীয় মানুষের কাছে শাহজাহান জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল। শুধু ব্যবসা নয়, পাশাপাশি কার কী প্রয়োজন, কখন হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে─সবটাই দেখত সে। ফলে মানুষের কাছে ধীরে ধীরে মুসকিল আসান হয়ে উঠেছিল। ২০১৩ সালে হাওয়া বুঝে তৃণমূলে চলে এল শাহজাহান।

মোসলেম থেকে গিয়েছিল পুরনো দলেই। কিন্তু তাতে বাধ সাধল ভাগ্নে। মোশলেমের তৈরি ক্যাডারদের ধীরে ধীরে তৃণমূলে আনতে শুরু করল সে। শেষে উপায়ন্তর না দেখে তৃণমূলে নাম লেখাতে হল মোসলেমকেও। তৃণমূলে এলেও ভেড়ির নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি শাহজাহান। উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালি-১ মহকুমার সভাপতি সে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তৃণমূলের বিরুদ্ধে এত দুর্নীতির অভিযোগ, তাও ইডি-সিবিআই তদন্ত শেষ করে না কেন?

TMC and ED-CBI Tussle : যাঁরা প্রকৃতই ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ করে টাকা পেল না এবং তৃণমূলের ধরনায় যোগ দিল না, তাঁরা ব্রাত্যই থেকে যাবেন! তাঁদের টাকা কে দেবে?

শাহজাহান সেখ

বিশেষজ্ঞদের মতে, শাহজাহানের মাথার উপর অধুনা জেলবন্দি তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ছিল। মোসলেমের মতো প্রতিদ্বন্দীকে ঠেকাতে জ্যোতিপ্রিয় ঘরশত্রু বিভীষণ তৈরি করেছিল শাহজাহানকেই। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শাহজাহানের জনপ্রিয়তা যে এখনও কমেনি, তাই আরেকবার প্রমাণিত হল। ইডির উপর হামলার ঘটনায় তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, 'এই ঘটনা নিঃসন্দেহে খুবই নিন্দনীয়। তবে এই ঘটনার পেছনে প্ররোচনা রয়েছে। যেভাবে যেখানে সেখানে কেন্দ্রীয় এজেন্সিদের লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ ক্ষেপে যাচ্ছেন। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।'

শঙ্কর আঢ্য

অন্যদিকে প্রায় একই রকমের ঘটনা ঘটেছে বনগাঁ-তে। প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যকে গ্রেফতারের সময় জনতার রোষের মুখে পড়েন আধিকারিকেরা। রাত সাড়ে বারোটায় শঙ্করকে গ্রেফতার করেন আধিকারিকেরা। সেখানেই বাধার মুখে পড়তে হয় তাদের। তদন্তকারীদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ চলে। পথ আটকানোর চেষ্টা করেন মহিলারা। ইট পাটকেলও ছোঁড়া হয় ইডির গাড়িতে।

শঙ্কর আঢ্যের পরিচয় কী? দু'টি প্রসঙ্গেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম উঠে আসছে। জ্যোতিপ্রিয়র ঘনিষ্ঠ ছিল শঙ্করও। রেশন দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধেও। শঙ্করের বাবা ছিলেন কংগ্রেসমনস্ক। তবে শঙ্কর এলাকার দাপুটে ব্যবসায়ী। নিজের হাতে ব্যবসা তৈরি করেছে সে। অবশ্য নিজের এলাকায় 'ডাকু' হিসেবেই পরিচিতি ছিল তার। শঙ্করের স্ত্রী জ্যোৎস্না আঢ্য বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান। শংকরের গ্রেফতারির পরেই তাঁর স্ত্রী চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন।

শঙ্কর আঢ্য

বর্তমান পুরপ্রধান গোপাল শেঠ বলেন, 'বিষয়টি বিচারাধীন। তদন্তে সত্যিটা অবশ্যই সামনে আসবে।' শুক্রবার রাতেই শংকরকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় সিজিও কমপ্লেক্সে। ওইদিন শংকরের শ্বশুরবাড়ি এবং ভাইয়ের আইসক্রিম কারখানাতেও অভিযান চালায় ইডি। তবে শাহজাহান শেখ এখনও পলাতক। তাকে ধরে উঠতে পারেনি পুলিশ।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।