অঞ্জলির দুর্ঘটনা দেখেও পালাল বান্ধবী, কেন দিল্লি পুলিশকে ফোন করল না নিধি?

Dellhi Death Case : সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দিল্লি দুর্ঘটনার ঠিক আগের রহস্যময় মুহূর্ত

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
অঞ্জলির দুর্ঘটনা দেখেও পালাল বান্ধবী, কেন দিল্লি পুলিশকে ফোন করল না নিধি?

দিল্লির ভয়াবহতা যেন কিছুতেই কাটছে না। একটা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন চাঞ্চল্য। শনিবার মধ্যরাতের ঘটনা। অর্থাৎ সবেমাত্র নতুন বছরের দামামা বেজেছে দেশে। দিল্লির কাঞ্ঝাওয়ালা রোডের লাডপুর গ্রামের কাছে মাঝরাস্তায় একটি স্কুটিতে করে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। হঠাৎই একটি চার চাকা এসে ধাক্কা মারে সেই স্কুটিতে। ছিটকে পরে যান তরুণী। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়, বরং বলা ভালো,এখানে শুরু। এরপরই সেই ভয়াবহ দৃশ্য। যে যে গাড়িটির ধাক্কায় মেয়েটি পড়ে যায় সেই গাড়িটি চোখের নিমেষে ইউ টার্ন নিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন তরুণীকে। প্রায় কয়েক কিলোমিটার পথ ওভাবেই ঘষটাতে ঘষটাতে মেয়েটিকে নিয়ে যায় ঘাতক গাড়ি।

প্রাথমিক ভাবে প্রতক্ষ্যদর্শী দীপক ধাইয়া সম্পূর্ণ ঘটনা পুলিশের কাছে জানান। পরে অবশ্য তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে প্রকাশ্যে আসে সেই রাতের দিল্লির রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনাতিকেনিচক দুর্ঘটনা বলতে প্রথম থেকেই অরাজি ছিলেন দীপক বাবু। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গিয়েছে, গাড়ি যে দিকে যাচ্ছিল, স্কুটিতে ধাক্কা মারার পর সম্পূর্ণ উল্টো দিকে ঘুরে আবার তা চলতে থাকে। গাড়ির চাকার সঙ্গে হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় তরুণীর দেহও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টেনে হিঁচড়ে তরুণীকে নিয়ে গেল গাড়ি, রক্তে ভাসল রাস্তা, দিল্লিতে নারী সুরক্ষা এখনও বিশ বাঁও জলে?

Delhi Woman Car Accident : কিন্তু ২০২৩-এর প্রথম দিনেই এমন ঘটনা বুঝিয়ে দিল, এখনও অবস্থা ফেরেনি। নারী সুরক্ষা এখনও বিশ বাঁও জলে।

কিন্তু এই ঘটনার চাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, ফুটেজের অন্য একটি দৃশ্য। সেখানে দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় স্কুটিতে মৃত অঞ্জলি একা ছিলেন না, তার সঙ্গে ছিল এক বান্ধবীও। নাম নিধি। ঠিক ঘটনা শুরুর সময়, অর্থাৎ যখন স্কুতিতে ধাক্কা লাগে ঘাতক গাড়িটির তখন দুজনেই ছিটকে পরে যান। অঞ্জলির শরীর আটকে যায় চাকার নিচে। এবং অদ্ভুতভাবে ঠিক এই সময়ের ফুটেজে দেখা যায়, ওই অবস্থা থেকে কার্যত পালিয়ে যাচ্ছেন বান্ধবী নিধি।

ঘটনার মোড় বদল আবার শুরু। যে বান্ধবীর সঙ্গে অত রাতে পার্টি করে একসঙ্গে ফিরছিলেন তিনি, তাঁর এমন ভয়াবহ পরিণতি চোখের সামনে দেখে কেন পালিয়ে গেলেন নিধি। কেন নিজে থেকে পুলিশকে ফোন করলেন না? কেন কোনও ভাবেই বাঁচানোর চেষ্টা করলেন না অঞ্জলীকে? ক্রমশ জট পাকিয়েছে এই সব প্রশ্নের।

জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় সামান্যই আঘাত পেয়েছিল অঞ্জলির বান্ধবী। অথচ তারই চোখের সামনে অমন বিভৎস পরিণতি হল বান্ধবীর। আর তিনি কিনা স্রেফ পালিয়ে গেলন! কী অদ্ভুত একটা সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা! এ কোন বন্ধুত্ব, যা কেবল স্বার্থপর হতে শেখায়? সন্দেহ দানা বাঁধতেই বান্ধবী নিধিকে জেরা করে পুলিশ। জেরারুখে পড়ে তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় অঞ্জলি খুব জোরে চিৎকার করছিল, কিন্তু ওই লোকেরা গাড়ি থামায়নি এবং তাকে টানতে থাকে। এ ঘটনায় তিনি নাকি আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি চলে যান। কিন্তু তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে কেন ফোন করলেন না পুলিশকে? কোন অভিসন্ধি ছিল এর পিছনে?

এখানেই শেষ নয়, নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, স্কুটিতে ওঠার আগেও কিছু একটা নিয়ে নিধির সঙ্গে অঞ্জলির একপ্রস্থ ঝগড়া-হাতাহাতি হয়েছিল। পার্কিং লটেই দুই বান্ধবীকে ঝগড়া করতে দেখা যায়। অঞ্জলিকে দেখা যায় নিধির কাছ থেকে কিছু একটা ছিনিয়ে নিতে। কী নিয়ে বচসা তা অবধি এখনও খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। মৃতের পরিবারও ইতিমধ্যেই সেই বান্ধবীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশের কাছে। যদিও এখনও সবটাই অধরা। অন্যদিকে নিধিকে প্রশ্ন করা হলে, সে দাবি করে যে অঞ্জলী নাকি মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সেই নিয়েই একটা বচসা হয়েছিল। কিন্তু এই কথা অস্বীকার করেছে অঞ্জলির পরিবার। উপরন্তু অঞ্জলির মা বলেছেন তাঁর মেয়ে নাকি কখনওই মদ খেত না। তাই সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে নিধি। দুই পক্ষের বয়ান সামনে আসায় এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ময়নাতদন্তের নথি। কিন্তু এই সবের মধ্যেই আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন যান্ত্রিক সময়ের বন্ধুত্বের সংজ্ঞা। বিশ্বাস এবং বিশ্বাসভঙ্গের কোন এক বেড়াজালে আটকে হারাতে বসেছে নিঃস্বার্থ শব্দটাই।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।