অঞ্জলির দুর্ঘটনা দেখেও পালাল বান্ধবী, কেন দিল্লি পুলিশকে ফোন করল না নিধি?
Dellhi Death Case : সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দিল্লি দুর্ঘটনার ঠিক আগের রহস্যময় মুহূর্ত

দিল্লির ভয়াবহতা যেন কিছুতেই কাটছে না। একটা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন চাঞ্চল্য। শনিবার মধ্যরাতের ঘটনা। অর্থাৎ সবেমাত্র নতুন বছরের দামামা বেজেছে দেশে। দিল্লির কাঞ্ঝাওয়ালা রোডের লাডপুর গ্রামের কাছে মাঝরাস্তায় একটি স্কুটিতে করে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। হঠাৎই একটি চার চাকা এসে ধাক্কা মারে সেই স্কুটিতে। ছিটকে পরে যান তরুণী। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়, বরং বলা ভালো,এখানে শুরু। এরপরই সেই ভয়াবহ দৃশ্য। যে যে গাড়িটির ধাক্কায় মেয়েটি পড়ে যায় সেই গাড়িটি চোখের নিমেষে ইউ টার্ন নিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন তরুণীকে। প্রায় কয়েক কিলোমিটার পথ ওভাবেই ঘষটাতে ঘষটাতে মেয়েটিকে নিয়ে যায় ঘাতক গাড়ি।
প্রাথমিক ভাবে প্রতক্ষ্যদর্শী দীপক ধাইয়া সম্পূর্ণ ঘটনা পুলিশের কাছে জানান। পরে অবশ্য তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে প্রকাশ্যে আসে সেই রাতের দিল্লির রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনাতিকেনিচক দুর্ঘটনা বলতে প্রথম থেকেই অরাজি ছিলেন দীপক বাবু। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গিয়েছে, গাড়ি যে দিকে যাচ্ছিল, স্কুটিতে ধাক্কা মারার পর সম্পূর্ণ উল্টো দিকে ঘুরে আবার তা চলতে থাকে। গাড়ির চাকার সঙ্গে হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় তরুণীর দেহও।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Delhi Woman Car Accident : কিন্তু ২০২৩-এর প্রথম দিনেই এমন ঘটনা বুঝিয়ে দিল, এখনও অবস্থা ফেরেনি। নারী সুরক্ষা এখনও বিশ বাঁও জলে।
কিন্তু এই ঘটনার চাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, ফুটেজের অন্য একটি দৃশ্য। সেখানে দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় স্কুটিতে মৃত অঞ্জলি একা ছিলেন না, তার সঙ্গে ছিল এক বান্ধবীও। নাম নিধি। ঠিক ঘটনা শুরুর সময়, অর্থাৎ যখন স্কুতিতে ধাক্কা লাগে ঘাতক গাড়িটির তখন দুজনেই ছিটকে পরে যান। অঞ্জলির শরীর আটকে যায় চাকার নিচে। এবং অদ্ভুতভাবে ঠিক এই সময়ের ফুটেজে দেখা যায়, ওই অবস্থা থেকে কার্যত পালিয়ে যাচ্ছেন বান্ধবী নিধি।
ঘটনার মোড় বদল আবার শুরু। যে বান্ধবীর সঙ্গে অত রাতে পার্টি করে একসঙ্গে ফিরছিলেন তিনি, তাঁর এমন ভয়াবহ পরিণতি চোখের সামনে দেখে কেন পালিয়ে গেলেন নিধি। কেন নিজে থেকে পুলিশকে ফোন করলেন না? কেন কোনও ভাবেই বাঁচানোর চেষ্টা করলেন না অঞ্জলীকে? ক্রমশ জট পাকিয়েছে এই সব প্রশ্নের।
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় সামান্যই আঘাত পেয়েছিল অঞ্জলির বান্ধবী। অথচ তারই চোখের সামনে অমন বিভৎস পরিণতি হল বান্ধবীর। আর তিনি কিনা স্রেফ পালিয়ে গেলন! কী অদ্ভুত একটা সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা! এ কোন বন্ধুত্ব, যা কেবল স্বার্থপর হতে শেখায়? সন্দেহ দানা বাঁধতেই বান্ধবী নিধিকে জেরা করে পুলিশ। জেরারুখে পড়ে তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় অঞ্জলি খুব জোরে চিৎকার করছিল, কিন্তু ওই লোকেরা গাড়ি থামায়নি এবং তাকে টানতে থাকে। এ ঘটনায় তিনি নাকি আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি চলে যান। কিন্তু তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে কেন ফোন করলেন না পুলিশকে? কোন অভিসন্ধি ছিল এর পিছনে?
এখানেই শেষ নয়, নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, স্কুটিতে ওঠার আগেও কিছু একটা নিয়ে নিধির সঙ্গে অঞ্জলির একপ্রস্থ ঝগড়া-হাতাহাতি হয়েছিল। পার্কিং লটেই দুই বান্ধবীকে ঝগড়া করতে দেখা যায়। অঞ্জলিকে দেখা যায় নিধির কাছ থেকে কিছু একটা ছিনিয়ে নিতে। কী নিয়ে বচসা তা অবধি এখনও খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। মৃতের পরিবারও ইতিমধ্যেই সেই বান্ধবীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশের কাছে। যদিও এখনও সবটাই অধরা। অন্যদিকে নিধিকে প্রশ্ন করা হলে, সে দাবি করে যে অঞ্জলী নাকি মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সেই নিয়েই একটা বচসা হয়েছিল। কিন্তু এই কথা অস্বীকার করেছে অঞ্জলির পরিবার। উপরন্তু অঞ্জলির মা বলেছেন তাঁর মেয়ে নাকি কখনওই মদ খেত না। তাই সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে নিধি। দুই পক্ষের বয়ান সামনে আসায় এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ময়নাতদন্তের নথি। কিন্তু এই সবের মধ্যেই আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন যান্ত্রিক সময়ের বন্ধুত্বের সংজ্ঞা। বিশ্বাস এবং বিশ্বাসভঙ্গের কোন এক বেড়াজালে আটকে হারাতে বসেছে নিঃস্বার্থ শব্দটাই।







