EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

inscript
৩ মিনিট
EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

বিধানসভা ভোটের আগে শেষপর্যায়ে দল পরিচালনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তৃণমূলের বিধায়ক তথা অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। পাশাপাশি, আইপ্যাকের ভূমিকা এবং দলের কাজে তাদের উপর ‘অতিরিক্ত নির্ভরতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সামগ্রিক ভাবে অভিষেকের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও কুণাল মনে করেন, দলের পরিচালনার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকের কোথাও একটা ‘ফাঁক’ তৈরি হয়েছিল। তাঁর কথায়,

শেষদিকটায় দল পরিচালনায় আমাদের আরও বেশি সতর্কতা দরকার ছিল। কখনও সেটা অভিষেকের অফিস ঠিকঠাক ম্যানিং করেনি। কোথাও একটা গ্যাপ হচ্ছিল।

তাঁর মতে, সেই সময়ই দলের সঙ্গে আইপ্যাকের যোগাযোগ এবং ওই সংস্থার কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। কুণালের বক্তব্য,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

আইপ্যাকের আসা, তাদের কিছু লোকের ভূমিকা একদম ঠিক ছিল না।

তাঁর দাবি,

মমতা সরকার পরিচালনার কাজে যত বেশি ব্যস্ত হয়েছেন, তত বেশি দলের তরফে আইপ্যাকের উপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর ফলে দলের কিছু সিদ্ধান্ত এবং কাজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরক্তিও তৈরি হয়েছিল।

অভিষেকের নেতৃত্বের মূল্যায়ন করতে গিয়ে অবশ্য প্রত্যাশিত ভাবেই কুণাল খুব সমালোচনা করেননি। বরং তাঁর প্রশংসাই করেছেন। কুণালের বক্তব্য, অভিষেক বয়সে ছোট হলেও নেতা হিসেবে অনেকটা এগিয়ে। বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দি— তিন ভাষাতেই সাবলীলভাবে বক্তৃতা করার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যের বিষয়বস্তুও শক্তিশালী। জনসভা থেকে সংসদ— দু’জায়গাতেই অভিষেকের সক্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে এই দুই মঞ্চে এমনভাবে বক্তৃতা করার ক্ষমতা বিরল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় অভিষেকের ভূমিকার কথাও আলাদা করে তুলে ধরেছেন কুণাল। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, সেই পরিস্থিতিতে অভিষেক সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন। দলকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনার যে চেষ্টা অভিষেক করেছিলেন, তার প্রাথমিক পর্যায়কে কুণাল ‘ইতিবাচক’ হিসাবেই দেখেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তাঁর গলায় কি শুভেন্দু বকলস পরিয়ে রেখেছেন? ইনস্ক্রিপ্টের পডকাস্টে কী বললেন ঋতব্রত?

Ritabrata Bandyopadhyay: ইনস্ক্রিপ্টে প্রকাশিত হয়েছে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টের নতুন পর্ব। এই পর্বে অনিন্দ্য জানার মুখোমুখি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পাওয়া ঋতব্রত কথা বলেছেন তাঁর রাজনৈতিক উত্থান, তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং দলীয় প্রতীক নিয়ে চলা বিতর্ক নিয়ে।

তবে পাশাপাশিই কুণালের মতে, পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি বদলায়। সেই বদলের কারণ হিসেবে অভিষেকের ‘ওভার কনফিডেন্স’ বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কথাও বলেছেন তিনি। পাশাপাশি, দলের অন্দরে অভিষেক যাঁদের উপর নির্ভর করছিলেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে এমন লোকও ছিলেন, যাঁরা অভিষেকের সামনে একরকম এবং তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে অন্যরকম আচরণ করতেন। কুণালের কথায়,

তাদেরই তো অধিকাংশ এখন অন্যদিকে গিয়ে বসে আছে!

দলের ভিতরে অভিষেককে নিয়ে ক্ষোক্ভ থাকলেও মমতা কেন অভিষেককে ছাড়তে পারেন না— সে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কুণাল অভিষেকের প্রতি মমতার আস্থার পিছনে তৃণমূলের সর্বভারতয় সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক ভূমিকার কথাই তুলে ধরেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে দল যখন ভাঙনের মুখে, সেই সময় অভিষেক যে পরিশ্রম করেছিলেন, তা-ও মনে করিয়ে দেন তিনি। কুণাল বলেন,

আমরা যারা কনফিডেন্টলি লড়েছিলাম, তাদের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে অভিষেক একটা ফাইট দিয়েছিল।

তাঁর মতে, সেই সময় অভিষেকের নেতৃত্বে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টার মধ্যে একটি ‘ইতিবাচক প্রভাব’ ছিল। তবে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিষেক-বিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে (ইন্সক্রিপ্টের পডকাস্টে ঋতব্রত বলেছিলেন, ক্যামাক স্ট্রিট ১৪ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছিল। যাঁদের ভোটে হারানোর পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই তালিকার এক নম্বরে ছিল মমতার নাম) একেবারেই একমত নন কুণাল। তিনি সরাসরি ঋতব্রতের বক্তব্যকে ‘মিথ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। কুণালের যুক্তি, ঋতব্রত নিজেই ‘অভিষেকের প্রার্থী’ হিসেবে বিধানসভা ভোটে এবং দলের রাজনীতিতে এগিয়েছেন। রাজ্যসভায় দ্বিতীয়বার (জহর সরকারে জায়গায়) মনোনয়ন পাওয়ার পর অভিষেকই তাঁকে ‘যোগ্যতম’ বলে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন কুণাল।

অভিষেককে ঘিরে দলের ভিতরের বিতর্কের মধ্যেই কুণালের বক্তব্যে একই সঙ্গে প্রশংসা, আত্মসমালোচনা এবং সাংগঠনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন উঠে এসেছে। তাঁর কথায়, অভিষেকের নেতৃত্বের ক্ষমতা নিয়ে তাঁর আস্থা রয়েছে, কিন্তু দল পরিচালনার শেষ পর্যায়ে কোথায় ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছিল, কেন তৈরি হয়েছিল এবং সেই ‘গ্যাপ’ কেন পূরণ করা যায়নি কেন— সেই প্রশ্নগুলিও এখন গুরুত্বপূর্ণ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?