'দিদি মারা গেছেন, চিঠি দিয়ে গেলাম'

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। নিজেকে নানাভাবে খণ্ড-বিখণ্ড করেছেন। খণ্ডগুলোকে করেছেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এইসব সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে দাঁড়িয়ে আমরা দেখতেও চাইছি তাঁকে— তাঁর লেখাকে, এমনকী, তাঁর চিঠিপত্রকেও।

Ekram Ali
৪ মিনিট
'দিদি মারা গেছেন, চিঠি দিয়ে গেলাম'

বার-দুই হয়তো দেখেছি। নাচতে। ঘুরে-ঘুরে। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও, তাঁকে। ডানহাতের দু'-আঙুলে ধরা থাকত রুমালের একটা কোনা। সেটা উড়ত। কখনও ঝুঁকে অন্য কোনাটা মাটিতে ঠেকিয়ে দিলে উত্তেজনার চূড়ান্ত!

সেসময় তিনি পরিত্যক্ত এক তরুণীর ভূমিকায়। গলায় ক্ষুব্ধ প্রেমের গান। কেউ একজন তাঁকে ঠকিয়ে কেটে পড়েছে। সেই কথাটাই ইনিয়েবিনিয়ে সুর বসিয়ে অবসন্ন গলায় বলার চেষ্টা। হতে পারে বাঁকুড়ার কোনও ঝুমুর গানের আসর সেটা, হতে পারে প্যারির কোনও সস্তা বার। গানটা ছিল ছোট্ট। পুরোটাই পাস্ট টেন্সে। চার কি পাঁচ পঙক্তির। তবু, কথাগুলো আর মনে নেই। শুধু একটা লাইন ভুলতে পারিনি— সে যে মুসলমান ছিল!

লাইনটা গাওয়ামাত্র শ্রোতা-দর্শকদের সমবেত উল্লাস— আ… আ… হা-হা… ধ্বনি।

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। আমাদের সন্দীপনদা।

ইতস্তত তাঁর চিঠিপত্র ছাপা হয়েছে বেশ কিছু। কিন্তু দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাটিয়েও লেখক সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের তেমন কোনও চিঠি আমি পাইনি। যেগুলো পেয়েছি, সেগুলোকে বলা উচিত টেলিগ্রাম। আয়তনে এবং কিছুটা চরিত্রেও। কে না জানে, চিঠির চেয়ে টেলিগ্রামের গুরুত্ব অনেক বেশি।

যেমন—

MOTHER ILL. COME SOON.

চারটেমাত্র শব্দ। কিন্তু একেকটা শব্দের বিস্তার কতখানি, এরকম টেলিগ্রাম যাঁর হাতে এসেছে বা আসবে, তিনিই জানেন। তেমনই একটি ছিল—

একরাম দিদি আজ মারা গেছেন। চিঠি দিয়ে গেলাম।

স. চ.

৩১/৩

একরামের পর কমা নেই, যা সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে অভাবনীয়। সালেরও উল্লেখ নেই। লেখার জন্য, হাত বা টেবিল মোছার এবং নানাবিধ কাজের জন্য, খবর-কাগজ অফিসে অতি-দরকারি যে-প্যাড, সেই প্যাড থেকে পাতা ছিঁড়ে লেখা।

কর্পোরেশন থেকে অবসর নেওয়ার পর ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয়বার তিনি যোগ দেন 'আজকাল'-এ। আগের মতোই চিঠিপত্র সম্পাদনার কাজে, যে-বিভাগটির নাম ‘প্রিয় সম্পাদক’। তার আগে ছিলেন 'আজকাল'-এর জন্মলগ্ন থেকে। বাংলা খবরের কাগজের চিঠিপত্র, বলতে গেলে, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের সোনার কাঠির ছোঁয়াতেই প্রাণ পায়। তাঁর প্রথম পর্বের সময় এমনও পাঠক দেখেছি, কাগজ হাতে নিয়ে পাতা উলটে সোজা চারের পাতায়। প্রিয় সম্পাদক বিভাগটি ছিল সংবাদপত্রটির সমান্তরাল একটা ব্যাপার।

একবার হলো কী, কেন্দ্রে তখন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি মন্ত্রী। ফলে গাড়িতে জাতীয় পতাকা। কিন্তু সেটা-যে উলটো করে লাগানো, কে আর দেখছে! যা কেউ দেখতে পায় না, তা-ই দেখে কাগজের রিপোর্টার আর ফোটোগ্রাফার— অন্তত তখনও দেখত। ছবি চলে এল অফিসে। খবরও হল। কিন্তু সন্দীপনদা মনে মনে তাতে সন্তুষ্ট নন। পেয়েও গেলেন একাধিক চিঠি। ছবি-সহ চিঠিপত্র বিভাগে ছাপা হল। শিরোনাম— ‘তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শকতি’।

দ্বিতীয় দফায় তাঁর একজন সহকারীর দরকার হলো। নিয়মিত আসবেন না। সেই ফাঁকগুলো পূরণ করার জন্যে, অর্থাৎ প্রক্সি দেওয়ার জন্যে, আনা হলো আমাকে।

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের প্রক্সি দেওয়া? সেবার খড়গপুরে একটা স্টেডিয়াম হওয়ার কথা। সম্ভবত রেলের। হচ্ছিলও। কিন্তু কী কারণে যেন থমকে গেছে কয়েক বছর। চিঠি এল। হেডিং হলো— খড়গপুরে স্টেডিয়াম কি মায়ের ভোগে?

অনেক আপত্তির পরও পাতায় লাগলই এবং সন্দীপনদা সেদিন এলেন না। সম্পাদক চিঠিটা তুলে দিতে বললেন। একটু পরই সন্দীপনদার ফোন— তোমার মাথায় অদৃশ্য একটা টিকি আছে, বুঝলে!

আসলে বল নিয়ে যখন ড্রিবল করতে করতে মারাদোনারা মাঝমাঠ থেকে এগোয়, সামনে শুধু দেখতে পায় স্বর্গদ্বার, অর্থাৎ গোলপোস্ট। চারপাশের ছোট-ছোট সাদা রুমালের ওড়াওড়ি তারা দেখতে পায় না— যেগুলোতে নৈতিকতার নকশা আঁকা। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তেমনই এগিয়ে খেলার লোক। এগিয়ে খেলার লেখক তো বটেই।

ফাইল ঘেঁটে দেখছি, সব ক'-টা চিঠিই 'আজকাল'-এর প্রিয় সম্পাদক বিভাগ সম্পর্কিত। ফলে, চিঠি হলেও সেগুলোকে ঠিক চিঠি বলা যায় না। কিন্তু যখন ফোনে কথা হতো, শুরুটা হত যদিও চিঠি-সংক্রান্ত কথা দিয়েই; তারপর সে-কথা এঁকেবেঁকে চলে যেত কোথায়, তাঁর কোন উপন্যাসের বা গল্পের বহুপঠিত পৃষ্ঠায়— যেখানে যৌনতা আর মৃত্যু হাত ধরাধরি করে হেঁটে যাচ্ছে।

আজ শুধু কথা বলতে এত দূরে চলে এসে, হেনা, দ্যাখো, এ কোথায় আর কত কাছাকাছি আমরা এসে পড়েছি। এর তুলনায়, জন্মদিনে তুমি যা দিয়েছিলে, তোমার যৌবন, যৌবনই তো দিয়েছিলে, তা আমাদের কতটুকু কাছে এনেছিল হেনা, আমাকে তোমার বাইরেই ঠেলে দিয়েছিল। লুতাতন্তু ছিঁড়ে বৃদ্ধ যৌবনের গা থেকে, সবুজ ডালপালা, কই, বেরুল না তো। সেদিন থেকে তাই, আমি সর্বান্তঃকরণে চেয়েছি : তুমি মরো।

সেই কবেকার লেখা— ‘এখন আমার কোনো অসুখ নেই’; উনিশশো আটাত্তর-টাটাত্তর হবে সম্ভবত।

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

এমন একটা গুজব চালু ছিল একসময় যে, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের কথাবার্তার একটা সংকলন-গ্রন্থ করতেই হবে, যার নাম হবে— ‘সন্দীপন কথামৃত’। তাঁর কাছে আমরা সবাই চাইতাম মজার মজার কথা, যা এক ধরনের নতুন। তাই তাঁর সর্বার্থে নতুন লেখাগুলি আমাদের পড়া আর হয়ে ওঠেনি।

তাঁর আলগা পা ফেলে হাঁটায় অনেকে মনে করতেন, লোকটা কি সত্যিই সিরিয়াস? দায়িত্ববান? তাঁদের জন্য একটা চিঠির অংশ, কেজো হলেও। কোনও এক শনিবার, ৫ অগাস্টে লেখা।

...ব্যালান্স করেই তো ছাপতে হবে। কিন্তু ...এর সমর্থনে চিঠি কই? ভাল চিঠি এলেই ছাপা হবে।... আসল ব্যাপার হল ইস্যুটা এবং তার ওপর বিতর্ক।... ইস্যুটি অত্যন্ত সেনসিটিভ বলেই, আমি চিঠি চেয়েছি।

সে-সময় বিবেকানন্দ-বিষয়ে একটা বিতর্ক বেশ ঘনিয়ে উঠেছিল 'আজকাল'-এ। চিঠিও আসছিল প্রচুর। সেসব চিঠির অধিকাংশই ছিল বিবেকানন্দ-বিরোধী। আমরা চাইতাম, বিতর্কটা চলুক— কিন্তু সুস্থভাবে।

আর, লেখক সন্দীপনের দায়িত্ববোধ? সেসব ছড়িয়ে আছে তাঁর রচনারাশিতে। আমি বরং ব্যক্তি সন্দীপনের কথা বলি— মূলত হাসাহাসি হতো যে-দিকটা নিয়ে।

রোগা। লম্বাটে। মুখে-চোখে বিষণ্ণ আলো। কাউকে অপমান করতেন এই প্রত্যাশায় যে, সে-ই অপমান করুক তাঁকে। এহেন সন্দীপনদা কখনও একা, কখনও বৌদি-সহ, আমার পারিবারিক সমস্যার সমাধানে একাধিক জায়গায় গিয়েছেন। আমাকে নিয়েই।

একবারের কথা বলি। হাটখোলার দত্তবাড়ির সঙ্গে রিনাবৌদির রক্তের সম্পর্ক। সেই বাড়ির এক মহিলা, তখন তিনি গড়িয়াহাটের ফ্ল্যাটে, সম্পর্কে বৌদির বোন, বহু বছর অস্ট্রেলিয়ার নামী হৃদরোগ-বিশেষজ্ঞ। ওঁরা নিয়ে গেছেন আমাকে। তিনি যদি আমার ছেলের চিকিৎসায় কোনও কাজে লাগতে পারেন।

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। নিজেকে নানাভাবে খণ্ড-বিখণ্ড করেছেন। খণ্ডগুলোকে করেছেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এইসব সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে দাঁড়িয়ে আমরা দেখতেও চাইছি তাঁকে— তাঁর লেখাকে, এমনকী, তাঁর চিঠিপত্রকেও।

লিখেছেন
Ekram Ali
Ekram Ali
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।