দু'মাস ব্যাপী ভোট! এলাকা ধরে ধরে দখলদারির আয়োজন?

Lok Sabha Election Dates 2024: সিকিম, ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ- এই চারটি রাজ্যে লোকসভা এবং বিধানসভার একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

inscript
৩ মিনিট
দু'মাস ব্যাপী ভোট! এলাকা ধরে ধরে দখলদারির আয়োজন?

দু’মাস ধরে লোকসভা ভোট চলবে দেশে! তীব্র দাবদাহের মধ্যে ৫৪৩টি লোকসভা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৭ দফায়। ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ভোট গ্রহণ চলবে ১ জুন পর্যন্ত চলবে! বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক উৎসবের ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার জানিয়েছেন আগামী ৪ জুন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ প্রায় দু'মাস ধরে সারা দেশে নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলবে। এত দীর্ঘমেয়াদি ভোটগ্রহণ পর্ব কেন? শুধু লোকসভা নির্বাচনই নয়, মনে রাখতে হবে চারটি রাজ্যে একই সময়ে চলবে বিধানসভা ভোটও।

সিকিম, ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ- এই চারটি রাজ্যে লোকসভা এবং বিধানসভার একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জম্মু ও কাশ্মীর ২০১৮ সাল থেকে রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে রয়েছে, ভোটের তালিকায় নেই এই রাজ্য।

বিহার, গুজরাত, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান এবং তামিলনাড়ু সহ একাধিক রাজ্যের ২৬ টি বিধানসভা আসনের জন্যও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এই একই সময়পর্বে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘ সময়ের এই লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট, পাশাপাশি চারটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা ও একাধিক রাজ্যে উপনির্বাচন একসঙ্গেই রেখে কি এলাকা দখল করতে চাইছে বিজেপি?

প্রথম দফার ভোট ১৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার ২৬ এপ্রিল, তৃতীয় দফার ৭ মে, চতুর্থ দফার ১৩ মে, ২০ মে পঞ্চম দফার, ২৫ মে ষষ্ঠ দফার এবং ১ জুন সপ্তম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবার অন্ধ্রপ্রদেশে ১৩ মে, অরুণাচল প্রদেশে এবং সিকিমে ১৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওড়িশায় ১৩ মে এবং ২০ মে দু'টি দফায় বিধানসভা ভোটও হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোটি কোটি টাকা বন্ডের নামে রাজনৈতিক দলের বেইমানি এখনও সহ্য করে যাবেন?

Electoral Bond Donation: যারা শাসক দলকে টাকা দিচ্ছে তারাই যে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটা বুঝতে পারছেন কি? বুঝতে পারছেন আপনি আমি আসলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় গৌণ?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থা, উৎসব, পরীক্ষা এবং অন্যান্য বিষয়ের কথা মাথায় রেখেই সাত দফায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু খুব স্পষ্ট করে দেখলে বিধানসভা দখলের লড়াইকে লোকসভার ছায়া থেকে বের করে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনিতেই বিজেপি সরকার এক দেশ এক নির্বাচনের পথে হাঁটতে চেয়েছে। টানা দু'মাস ধরে নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় এলাকা ভিত্তিক প্রচার আরও জমকালো হবে। যে যে রাজ্যে উপ নির্বাচন ও বিধানসভা ভোট সেখানেও বাড়তি সুবিধা কুড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছেই।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩০৩টি আসন জিতেছিল। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে ব্যাপক জয় হয় বিজেপির। সেখানে তারা ৮০টি আসনের মধ্যে ৬২টি আসন জিতে নেয়। কংগ্রেস মাত্র ৫২ টি আসন পেয়েছিল সেবার। এবার কংগ্রেস বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের অংশ। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং তামিলনাড়ুতে আসন ভাগাভাগির চুক্তি করেছে কংগ্রেস। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব এবং বিহারে জোট হয়নি কংগ্রেসের। মহারাষ্ট্রের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে আসন ভাগাভাগি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

২০১৯ সালেও চারটি রাজ্যে - ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে, ওয়াইএসআর কংগ্রেস ১৫১ টি বিধানসভা আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসে। তেলেগু দেশম পার্টি পায় মাত্র ২৩ টি।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল (বিজেডি) ২০১৯ সালে ১৪৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১১৭টি জিতেছিল। বিজেপি পায় ২৩টি আসন, আর কংগ্রেস মাত্র ৯টি।

সিকিমে, পুরনো দল সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এসডিএফ) তুলনায় তুলনামূলকভাবে নতুন রাজনৈতিক শক্তি, সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা (এসকেএম), বিজয়ী হয়। মোট ৩২টির মধ্যে ১৭টি আসন পায় তারা।

অরুণাচল প্রদেশে বিজেপি এবং তার সহযোগীরা জয়ী হয়। ৬০ টি আসনের মধ্যে ৪১টি জিতে নেয় তারা। কংগ্রেস পায় মাত্র ৪টি আসন। এবার এই চারটি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার কোনও কসুরই ছাড়বে না বিজেপি। দু'মাসে এই দখলদারিত্ব ফলানোর যথেষ্ট সময়ও পাওয়া যাবে।

প্রায় ৯৬.৮ কোটি মানুষ এবার ভোট দেবেন। রাজীব কুমার জানিয়েছেন, যে ভোটারদের বয়স ৮৫ বছরের বেশি, যারা প্রতিবন্ধী, ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধী, সেই ব্যক্তিরা বাড়ি থেকেই ভোট দিতে পারবেন। এই মুহূর্তে প্রায় ৮২ লাখ ভোটারের বয়স ৮৫ বছরের বেশি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।