কালীই ভরসা, একলা চলো রে নীতিতে কত দূর যাবেন মহুয়া?

দলমত-নির্বিশেষে সকলেই মানবেন, মহুয়ার রাজনৈতিক কেরিয়ার অত্যন্ত স্বচ্ছ। তৃণমূলের নামী অন্য বহু নেতার মতো তাঁর বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই দিয়ে চাপ তৈরি করা যায়নি। তাই দলের এই হাত ধুয়ে নেওয়া তাঁর প্রাপ্য ছিল না বলেই মনে করে একাংশ।

inscript
৩ মিনিট
কালীই ভরসা, একলা চলো রে নীতিতে কত দূর যাবেন মহুয়া?

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে...

কালী বিতর্কে সত্যকে শিখণ্ডী করে একলা চলার নীতিই নিচ্ছেন মহুয়া মৈত্র। দল তাঁকে রীতিমতো এক ঘরে করেছে, ঘটনার বাঁক বুঝে কোণঠাসা করতে কালবিলম্ব করেনি বিজেপি। বিতর্ক শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তারির দাবিতে বিজেপি মহিলা মোর্চার সদস্যরা ৫৬টি অভিযোগপত্র জমা করেছেন বউবাজার থানায়। এই অবস্থাতেও মহুয়া মৈত্র নিজের বক্তব্যেই অনড়। ট্যুইটারে তাঁর একের পর এক বিবৃতি বুঝিয়ে দিচ্ছে, কোনওমতেই পিছু হটতে রাজি নন তিনি। সম্প্রতি তিনি লিখেছেন, "জয় মা কালী। বাঙালি যে দেবীকে পুজো করে তিনি অকুতোভয়, কাউকে তুষ্ট করা তাঁর স্বভাব নয়।" বলা বাহুল্য, মহুয়ার এই মন্তব্যের শিকড় অনেক গভীর।

Jai Ma Kali!

The goddess Bengalis worship is fearless & non-appeasing.

— Mahua Moitra (@MahuaMoitra)

কালী বিতর্কের শুরু ভারতীয় পরিচালক লীনা মনিমেকলেইয়ের একটি তথ্যচিত্রের পোস্টার নিয়ে। সেই পোস্টারে কালীকে ধূমপানরতা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মহুয়া একটি অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন। বিজেপি তাঁকে একহাত নেওয়া শুরু করে এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই। তাতে মহুয়া দমেননি। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় তিনি উত্তর ফেরাতে থাকেন বিজেপিকে। বলেন, "আমি সংঘীদের বলতে চাই, অসত্য বলে আপনারা ভালো হিন্দু হতে পারবেন না।" মহুয়া আরও বলেন, "তারাপীঠে গিয়ে দেখে আসুন সেখানে দেবীকে প্রসাদ হিসেবে কী ধরনের খাবার বা পানীয় দেওয়া হয়।" মহুয়ার বক্তব্য, তিনি ওই সংশ্লিষ্ট পোস্টারটিকে সমর্থন করেননি, ধূমপান শব্দটি উল্লেখই করেননি। তিনি কেবল তথ্য জানিয়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কালীর ধূমপান! কেন বারবার ধ‍র্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে দানা বাঁধছে বিতর্ক?

'কালী’ নামক একটি তথ্যচিত্রের পোস্টার নিয়ে তুমুল বিতর্ক। চলচ্চিত্রকার লীনা মনিমেকলেই ২ জুলাই ট‍্যুইটারে এই পোস্টার শেয়ার করেন। তারপর এই নিয়ে উত্তাল হয় দেশ। কী আছে এতে?

সেই বিতর্কিত পোস্টারঘটনা এখানেই শেষ নয়। বরং শুরু। এই বাকবিতণ্ডার মধ্যেই তৃণমূলের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, মহুয়ার বক্তব্য দল সমর্থন করে না। দলের সঙ্গে মহুয়ার দূরত্ব বাড়তে থাকে জেটগতিতে। মহুয়া তৃণমূলের টুইটার হ্যান্ডেলকে আনফলো করে দেন।

To all you sanghis- lying will NOT make you better hindus.

I NEVER backed any film or poster or mentioned the word smoking.

Suggest you visit my Maa Kali in Tarapith to see what food & drink is offered as bhog.

Joy Ma Tara

— Mahua Moitra (@MahuaMoitra)

বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই আপসহীনভাবে মতপ্রকাশ করে গিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। লোকসভার অন্দরে তো বটেই, নেটদুনিয়াতেও তিনি বারবার সরব হয়েছেন। এমনকী, এই প্রতিবেদন লেখার দিন সকালেও গ্যাসের দাম নিয়ে নিজের ট‍্যুইটার হ্যান্ডলে মতপ্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। রাজনৈতিক মহলের মত, মহুয়ার অকাট্য যুক্তি সময়ে সময়ে আসলে হাত শক্ত করেছে তৃণমূলের। জাতীয় স্তরে তৃণমূলের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করতে সহায়ক হয়েছে মহুয়ার ব্যক্তিত্ব। সেই মহুয়াই আজ সমর্থন পেলেন না তৃণমূলের। ট্যুইটারে দলকে অনুসরণ করাও বন্ধ করে দিলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।

এমনকী তৃণমূলের অন্দরেও একাংশ বলছে, মহুয়া ভুল কথা বলেননি। কারণ বাংলায় মা কালী কীভাবে পূজিতা হন, তা প্রতিটি বাঙালিরই জানা। অন্য দিকে বিজেপি তথা আরএসএস ঘরানার হিন্দুত্বের উপাচার-সংক্রান্ত যে ধারণাগুলি, তার সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক বৈপরীত্য থাকাটাই স্বাভাবিক। কাজেই এই ঘটনায় মহুয়ার পাশে না দাঁড়ানো মানে আসলে আরএসএস-এর হাতই শক্ত করা। একাংশ আবার মনে করেন, ভোট বড় বালাই। পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির হাতে হিন্দুত্বের ব্যাটনটা এককভাবে ছাড়তে চায় না তৃণমূল, তাই এই জুতোয় পা গলানো।

দলমত-নির্বিশেষে সকলেই মানবেন, মহুয়ার রাজনৈতিক কেরিয়ার অত্যন্ত স্বচ্ছ। তৃণমূলের নামী অন্য বহু নেতার মতো তাঁর বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই দিয়ে চাপ তৈরি করা যায়নি। তাই দলের এই হাত ধুয়ে নেওয়া তাঁর প্রাপ্য ছিল না বলেই মনে করে একাংশ।

অবশ্য দল দূরত্ব করলেও পথভ্রষ্ট হননি মহুয়া। সত্যকে পুঁজি করে একলা চলার নীতি নিয়েছেন। কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলছেন তিনি। ট‍্যুইটারে লিখেছেন, আমি কোনো কিছুকে ভয় পাই না, তোমাদের অজ্ঞতাকেও নয়, তোমাদের দুষ্কৃতীদেরও নয়, এমনকী তোমাদের পুলিশকেও নয়। তোমাদের ট্রোলারদেরও আমি ভয় পাই না আর সত্যের কোনও অবলম্বনের প্রয়োজন হয় না।

Bring it on BJP!

Am a Kali worshipper. I am not afraid of anything. Not your ignoramuses. Not your goons. Not your police. And most certainly not your trolls.

Truth doesn’t need back up forces.

— Mahua Moitra (@MahuaMoitra)

ঘটনার গতিপ্রকৃতি দেখে এটুকু বলাই যায়, মহুয়ার এই ধর্মযুদ্ধ শুধুই বিজেপির স্বরূপই চেনাচ্ছে না, বুঝিয়ে দিচ্ছে আগামী দিনে ভোটরাজনীতিকে সামনে রেখে কোন পথে হাঁটবে তৃণমূল।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?