লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোটের পুনরুজ্জীবন, কী ভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন মমতা

Mamata Banerjee: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরতে চাইছেন? বসিরহাট থেকে লোকসভায় লড়াবেন তিনি? ইন্ডিয়া জোটকে সক্রিয় করতে তাঁর নতুন কৌশল কী?

inscript
৩ মিনিট
লক্ষ্য ইন্ডিয়া জোটের পুনরুজ্জীবন, কী ভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন মমতা

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চাইছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, এবার তাঁর লক্ষ্য শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নয়, জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হয়ে ওঠা। সেই কারণেই বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR), ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নকে সামনে রেখে ইন্ডিয়া জোটকে আরও সক্রিয় করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।

১৪ মে কালীঘাটে তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষ সাংসদরা। সেখানে আগামী সংসদ অধিবেশনে দলের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে শুধু আদালতে নয়, সংসদের ভেতরেও জোরালোভাবে তুলতে চাইছেন তাঁরা।

দলের নেতাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনে যা ঘটেছে, তা শুধু রাজ্যের বিষয় নয়। বিরোধী দলগুলির অনেকেরই অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন, বুথ পরিচালনা এবং ইভিএমের তথ্য নিয়ে নানা অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। তৃণমূল এই বিষয়গুলিকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। মমতার পাশে আছেন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য নেতারাও।

এদিকে ১৪ মে কলকাতা হাই কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। আইনজীবীর পোশাকে আদালতে হাজির হওয়ার পর বেরোনোর সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। মমতা সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপমান। দলের সাংসদরা মনে করছেন, এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের উপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরা উচিত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জেলায় জেলায় বিপর্যয়, ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি তৃণমূল?

২০২১ সালে যেখানে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন এবং তৃণমূল ২১৫। ২০২৬-এ দেখা যাচ্ছে বিজেপি জয়লাভ করেছে ২০৭ আসনে এবং তৃণমূল ধরে রাখতে পেরেছে মাত্র ৮০টি আসন।

দলের নেতাদের মতে, এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে না দেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাই সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হবে। তৃণমূলের মতে, যদি দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনৈতিক নেত্রী আদালত চত্বরে এভাবে হেনস্তার শিকার হন, তবে সাধারণ বিরোধী কর্মীদের পরিস্থিতি কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ফের লোকসভায় দলের চিফ হুইপ করা হয়েছে। সংসদে তৃণমূলের অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে। বর্তমানে তিনি কোনো সাংবিধানিক পদে নেই। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে, এবং তিনি এখন শুধু দলের সর্বোচ্চ নেতা। তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হলে তাঁকে সরাসরি সংসদে নিয়ে আসা দরকার।

সেই কারণেই সূত্রের দাবি, তাঁকে বসিরহাট আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বসিরহাট সীমান্তবর্তী এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই আসন থেকে জয়ী হলে মমতা শুধু সংসদে প্রবেশ করবেন না, বিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবেও নতুন করে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন।

দলের একাংশের মতে, সংসদে মমতার উপস্থিতি তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। সেই শক্তিকে ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও ধারালো অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি, ইন্ডিয়া জোটের অভ্যন্তরেও মমতার গুরুত্ব বাড়বে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চারবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং তিনবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা বিরোধী রাজনীতিতে বড় সম্পদ। তৃণমূল সেই অভিজ্ঞতাকে এখন জাতীয় স্তরে কাজে লাগাতে চাইছে।

এখনও বসিরহাট থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে কালীঘাটের এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পর রাজনৈতিকভাবে পিছু হটছেন না। তিনি আবারও নতুন করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।

আরও চাপে জ্ঞানেশ কুমার, দু'দশকের পুরনো মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

Gyanesh Kumar Under Scrutiny: ২০০৬ সালে কেরলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

যন্তর মন্তর বিক্ষোভ: তিন মহিলা সাংবাদিকের হেনস্থার অভিযোগ, তদন্তে ক্রাইম ব্রাঞ্চ

Delhi Protest: দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন তিন মহিলা সাংবাদিক। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগগুলি নিউ দিল্লি জেলা পুলিশ থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কামলা মার্কেট শাখায় পাঠানো হয়েছে।

মুম্বই বিক্ষোভে অভিজিৎ দীপকে-সহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর

CJP Protest Against Gyanesh Kumar: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ ঘিরে কেন এফআইআর দায়ের করল পুলিশ? সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে-সহ ৪০০-র বেশি মানুষের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ায় কোথায় কোথায় বিক্ষোভ?

Annapurna Bhandar Protest Timeline: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বারবার বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও মহিলারা বিডিও বা পুরসভা ঘেরাও করেছেন, কোথাও হয়েছে রাস্তা ও রেল অবরোধ। কোন কোন জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে, পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এবং এই বিক্ষোভের পিছনে মূল অভিযোগগুলি কী?

রামরাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার দায় আর কতদিন এড়াবে বিজেপি?

Politics of denial By BJP: ২০২৬ সালের ৪ মে ২০৭টি আসনে জিতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মাত্র চার দিনেই রাজ্যজুড়ে ৬৪টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল। ‘এসিএলইডি’ (ACLED)-র তথ্যে উঠে আসে, এর মধ্যে ৪২টিতেই হামলাকারী ছিল বিজেপি। নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখের মৃত্যু, লেনিনের মূর্তি ভাঙচুর কিংবা বামপন্থীদের সভায় হামলা— তাণ্ডবের এই ধারা এখনও অব্যাহত। যদিও, প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, আমাদের 'কোনো কর্মী এবিষয়ে জড়িত নন'। এহেন, দায় এড়ানোর রাজনীতি আর কতদিন?

মধুর থেকে অম্ল: যেভাবে পাল্টাচ্ছে মুরলী মনোহর যোশী ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর সম্পর্ক

Rebel in the Margdarshak Mandal: ৯২ বছর বয়সি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী 'অমর উজালা'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতে শিক্ষার সরকারি বাজেট ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে তিনি দুর্নীতির রাজনীতির ফলাফল বলেছেন। বদ্রীনাথের সরকারি ডিজে ইভেন্টকে, 'সাংস্কৃতিক পবিত্রতার লঙ্ঘন' বলে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন। 'মার্গদর্শক মণ্ডল'-এ ঠেলে দেওয়া এই নেতার সোচ্চার মোদীবিরোধী অবস্থান বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি তৈরি করেছে।