প্রধানমন্ত্রী ভাষণ ঘিরে বিতর্ক: ৭০০-র বেশি নাগরিকের নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ

PM Modi speech controversy: প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ কি আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে? সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে কি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে? ৭০০-র বেশি নাগরিক কেন নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন? বিরোধীদের অভিযোগ কতটা ভিত্তিসম্পন্ন?

inscript
৩ মিনিট
প্রধানমন্ত্রী ভাষণ ঘিরে বিতর্ক: ৭০০-র বেশি নাগরিকের নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীের জাতির উদ্দেশে ভাষণ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হলো। ১৮ এপ্রিলের ভাষণকে কেন্দ্র করে ৭০০-র বেশি নাগরিক যৌথভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গ করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা সরকারি ভাষণ হিসেবে দেখানো হলেও তার মধ্যে বিরোধী দলগুলিকে সরাসরি আক্রমণ করা হয়। বিশেষ করে মহিলাদের সংরক্ষণ বিল, লোকসভা আসন বৃদ্ধি এবং ডিলিমিটেশন ইস্যুতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহার করা হয়। অভিযোগকারীদের মতে, এই ভাষণ কার্যত নির্বাচনী প্রচারের মতো ছিল।

এই ভাষণটি সম্প্রচারিত হয়েছিল সরকারি অর্থে চলা মাধ্যম যেমন দূরদর্শন, অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং সংসদ টিভি-তে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী। কারণ, এতে ক্ষমতাসীন দল অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পায়।

নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি পদমর্যাদা এবং সরকারি সম্প্রচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার করেছেন। এই ধরনের কাজ নির্বাচনী লড়াইয়ে সমান সুযোগের নীতি নষ্ট করে। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, সরকারি খরচে কোনো দলীয় প্রচার চালানো হলে তা সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জাতির উদ্দেশে ভাষণে ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম, মোদিকে নিশানা বিরোধীদের

PM Modi Speech on Women Reservation Bill: মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণে কেন ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম নিলেন প্রধানমন্ত্রী? তবে কি নারী সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়ে গেল দেশে?

চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির কয়েকটি নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দল সরকারি গাড়ি, কর্মী, সম্প্রচারমাধ্যম বা সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার করতে পারে না। মন্ত্রীদের সরকারি সফর এবং রাজনৈতিক প্রচারকে আলাদা রাখতে হবে। সরকারি অর্থে বিজ্ঞাপন বা রাজনৈতিক প্রচারও এড়াতে হবে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীের এই ভাষণ সেই সব নিয়মের পরিপন্থী।

এই অভিযোগে শুধু সাধারণ নাগরিকরাই নন, বিরোধী দলগুলিও সরব হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই)-এর সাংসদ পি. সন্তোষ কুমার নির্বাচন কমিশনের কাছে আলাদা করে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং তা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখা নির্বাচনী নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন।

একইভাবে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. বেবি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বিষয়বস্তু, ভাষা এবং উপস্থাপনা কোনো ভাবেই সরকারি প্রশাসনিক বার্তা হিসেবে ধরা যায় না। তাঁর মতে, এটি ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক বক্তব্য, যেখানে বিরোধী দলগুলিকে নাম করে আক্রমণ করা হয়েছে এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বারবার কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম এবং সমাজবাদী পার্টির নাম উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই দলগুলি সংসদে মহিলাদের অধিকার রুখে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী 'ফিমেল ফিটিসাইড' বা 'নারী অধিকার হত্যার' মতো শব্দও ব্যবহার করেন, যা নিয়ে বিরোধীরা আরও ক্ষুব্ধ।

অভিযোগকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, পুরো ভাষণের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যদি দেখা যায় যে ভাষণটি কমিশনের অনুমতি ছাড়া সম্প্রচারিত হয়েছে, তাহলে সেটি সরকারি নথি, ওয়েবসাইট এবং সম্প্রচারমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। আর যদি কমিশনের অনুমতি নিয়ে এই ভাষণ সম্প্রচার করা হয়ে থাকে, তাহলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও সমান সময় দিতে হবে নিজেদের বক্তব্য রাখার জন্য।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং কোনো পদক্ষেপ করে কি না। কারণ, ভোটের আবহে সরকারি পদ ও সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে একসঙ্গে ৭০০-র বেশি নাগরিক, বিরোধী দল এবং প্রাক্তন আমলাদের সরব হওয়া এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।