ভারতীয়দের বর্ণবৈচিত্র্য নিয়ে বেফাঁস কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ স্যাম পিত্রোদা! পদত্যাগে সম্ভব ড্যামেজ কন্ট্রোল?

Sam Pitroda: ভোটের বাজারে পিত্রোদার কথাবার্তার মাশুল ভালোই দিতে হতে পারে কংগ্রেসকে। তা বোঝার পর আমেরিকা-নিবাসী স্যামের মন্তব্যের দায় ঝেড়ে ফেলেছে কংগ্রেসও।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভারতীয়দের বর্ণবৈচিত্র্য নিয়ে বেফাঁস কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ স্যাম পিত্রোদা! পদত্যাগে সম্ভব ড্যামেজ কন্ট্রোল?

বৈচিত্র্যই ভারতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর তা বোঝাতে গিয়েই ফের বিপাকে পড়লেন ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের সভাপতি স্যাম পিত্রোদা। লোকসভা ভোটের মরসুম। এমনিতেই গেরুয়া শিবিরের নিশানায় সবসময় বিঁধেই রয়েছে যেন কংগ্রেস। তার মধ্যে তিনি কংগ্রেসের শাহজাদা তথা রাহুল গান্ধির পরামর্শদাতা বলে কথা। ফলে একটু বেফাঁস হয়েছেন কি হয়নি, আর রক্ষা নেই। দিন কয়েক আগেই উত্তারাধিকার কর বসানোর দাবি তুলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন শ্য়াম। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বর্ণবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে পদ গেল স্যাম পিত্রোদার।

সম্প্রতি একটি ইংরেজি সংবাদপত্রকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন স্যাম। সেখানে ভারতের বৈচিত্র্য বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, পূর্ব ভারতের মানুষদের নাকি চিনাদের মতো দেখতে। দক্ষিণ ভারতীয়দের সঙ্গে আফ্রিকার মানুষেক মিল। পশ্চিমের বাসিন্দারা নাতি আরবের লোকেদের মতো দেখতে। আর এই বৈচিত্র্য বোঝানোর ফাঁকে গায়ের রং নিয়েও মন্তব্য করে বসেন স্যাম পিত্রোদা। স্বাভাবিক ভাবেই স্যামের কথা মাটিতে পড়তে দেয়নি গেরুয়া শিবির। শুরু হয়ে যায় নানা দিক থেকে নানা কথাবার্তা। সোশ্যাল মিডিয়া ভরে ওঠে নয়া বিতর্কে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অম্বানি, আদানি-আঁতাতের অভিযোগে এবার বিদ্ধ কংগ্রেস! ভোটবাজারে বারবার কেন বেফাঁস মোদি?

Narendra Modi: যে আদানি-অম্বানিদের সঙ্গে মোদির এত দহরম-মহরম, সেই আদানিদের এখন কংগ্রেসের ঘাড়ে ঠেলার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে গেরুয়া শিবির। উত্তর একটাই, ভোট। এবার তেলঙ্গানায় নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন মোদি।

বুধবার তেলঙ্গানার ওয়ারঙ্গলে ভোটপ্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘কংগ্রেসের শাহজাদার পরামর্শদাতা গাত্রবর্ণ তুলে ভারতবাসীকে আক্রমণ করেছেন। আমি ক্রুদ্ধ। আমাকে আপনারা অনেক কটু কথা বলেছেন। আমি কিছু মনে করিনি। কিন্তু আমার দেশের মানুষকে আক্রমণ করলে সহ্য করব না।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘গায়ের রং যা-ই হোক না কেন, আমরা সকলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুজো করি।’’ শুধু মোদিই নন, এক্স হ্যান্ডেলে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা টুইট করে লেখেন, ‘স্যাম ভাই, আমি উত্তরপূর্বের লোক এবং আমাকে একজন ভারতীয়র মতো দেখতে। আমরা বৈচিত্র্যময় একটি দেশের মানুষ। হয়তো আমাদের চেহারায় ভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু আমরা আসলে এক।’ কংগ্রেস নেতাকে হিমন্তের খোঁচা, ‘আমাদের দেশটাকে একটু বোঝার চেষ্টা করুন!’ লোকসভা ভোটের প্রচরে ‘বিভাজনের রাজনীতি’র অভিযোগ উঠছে যে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে, তাঁরাই সুযোগ বুঝে কংগ্রেস নেতাকে ‘বিভাজনকারী’ বলে তোপ দাগছেন। বলি অভিনেত্রী তথা মাণ্ডি লোকসভার বিজেপি প্রার্থী কঙ্গনা রানাওয়াত বলেন, স্যাম ‘বর্ণবিদ্বেষী’ তথা ‘বিভাজনকারী। একের পর এক বিজেপি নেতা-মন্ত্রী আসরে নামেন পিত্রোদার বক্তব্যের বিরোধিতায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কংগ্রেস নয়, মোদি জমানাতেই বেশি সোনা খুইয়েছেন মানুষ! প্রকাশ্যে যে ভয়ানক তথ্য

Economy of India: নোটবন্দী থেকে জিএসটি— এই প্রতিটি পদক্ষেপ যে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে, তা আজকে আর নতুন করে বলার নয়।

যদিও আসলে বিভাজনের নয়, ভারতের বৈচিত্র্যময় ঐক্যের কথাই বলতে চেয়েছিলেন স্যাম পিত্রোদা। সংবাদপত্রকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীরা হিন্দুত্ব নয়, ধর্মনিরেপক্ষ দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান…আজকে ওদের অবস্থা গোটা পৃথিবী দেখছে। অপরপক্ষে আমরা বিশ্বে গণতন্ত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছি। অকারণ মারামারি বাদ দিয়ে ৭০-৭৫ বছর আনন্দের সঙ্গে বেঁচে আছি।’ তাঁর মতে, ‘গণতন্ত্র, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ভ্রাতৃত্বে নিহিত ভারতের শিকড়। অথচ ভাষা, ধর্ম এবং সংস্কৃতির ভিন্নতা রয়েছে।’ একই সঙ্গে মোদিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব সময় মন্দিরেই যাচ্ছেন, তাঁর কথাবার্তা একজন বিজেপি নেতার মতো, জাতীয় নেতার মতো নয়।" আর পিত্রোদার সেই বক্তব্যের উল্টো মানে বের করে তাঁকেই কোণঠাসা করেছে সব পক্ষ। আসলে বলার উদ্দেশ্য ভুল না হলেও, যেভাবে একেকটা অঞ্চলের মানুষকে চেনা ছকে বেঁধে ফেলতে চেয়েছেন তিনি, তাতেই বিতর্কের সূত্রপাত।

ভোটের বাজারে পিত্রোদার কথাবার্তার মাশুল ভালোই দিতে হতে পারে কংগ্রেসকে। তা বোঝার পর আমেরিকা-নিবাসী স্যামের মন্তব্যের দায় ঝেড়ে ফেলেছে কংগ্রেসও। এআইসিসি মুখপাত্র তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশ বলেন, ‘‘ভারতের জাতিগত বৈচিত্রের কথা বোঝাতে গিয়ে স্যাম পিত্রোদা যে মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কংগ্রেস তাঁর ওই মন্তব্য থেকে দূরত্ব রাখছে।’’ অতীতেও ভারতীয় সংবিধান রচনায় জওহরলাল নেহরুর ভূমিকা এবং ১৯৮৪-র শিখবিরোধী দাঙ্গা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল স্যামের বিরুদ্ধে। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ঝড় উঠতেই নাকি নিজের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন স্যাম। কংগ্রেসের তরফে জয়রাম রমেশ স্যাম পিত্রোদার এই পদ ছাড়ার কথা প্রকাশ্যে আনেন। জানা গিয়েছে, তাঁর পদত্যাগ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তবে সত্যিই সেই পদত্যাগ স্বেচ্ছায়, না কংগ্রেসের চাপেই সরে দাঁড়ালেন পিত্রোদা, প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। ভোটের বাজারে বিজেপির হাতে এক কথায় ফুলটস বল তুলে দিয়েছেন পিত্রোদা। এখন তাঁর পদত্যাগ আদৌ কংগ্রেসের ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারে কিনা, সেটাই দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।