সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা, নতুন করে যুদ্ধের মুখে পশ্চিম এশিয়া?

Saudi Arabia Riyadh Airport Attack: নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, আমেরিকা, মিশর, জর্ডন, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন ও সুদানের নাগরিক রয়েছেন। এই ঘটনায় পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা, নতুন করে যুদ্ধের মুখে পশ্চিম এশিয়া?

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। ১০ অক্টোবর, শনিবারের এই হামলার কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, আমেরিকা, মিশর, জর্ডন, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন ও সুদানের নাগরিক রয়েছেন। হামলার জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিমানবন্দরের কাজকর্ম। এই ঘটনায় পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবারের হামলার পর সৌদি আরবের অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বিমানবন্দরে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সেই সময় হতাহতের সম্পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়নি। পরে রবিবার, ১১ অক্টোবর, কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং আটজন বিদেশি নাগরিক। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বিমানবন্দরের পরিকাঠামোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা এবং বিমানবন্দরের পরিকাঠামো নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে উড়ানের সময়সূচি জেনে নিতে বলা হয়।

পরিস্থিতির জেরে একাধিক বিমান সংস্থা তাদের উড়ান বাতিল করে। কুয়েত এয়ারওয়েজও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা জানিয়ে রিয়াধগামী এবং রিয়াধ থেকে ছেড়ে যাওয়ার কয়েকটি উড়ান বাতিল করে। সৌদি আরবের বিদেশ মন্ত্রকও যাতায়াতে সমস্যায় পড়া নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাগুলি

Worst Plane Crashes : ভুল যোগাযোগ এবং উচ্চতা নির্দেশনার লঙ্ঘন এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ছিল। এটি বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক মাঝ-আকাশের সংঘর্ষ হিসেবে পরিচিত।

রিয়াধে অবস্থিত আমেরিকা, ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড ও কানাডার দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এবং তার আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। আমেরিকার দূতাবাস জানায়, বিমানবন্দরে হামলার খবর তাদের কাছে রয়েছে। কানাডার দূতাবাসও চলমান সামরিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে ওই এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেয়। জাপান সৌদি আরবের বিমানবন্দর-সহ অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলার নিন্দা জানায়।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে হামলাকে তারা যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে এই হামলার জবাব দেওয়া হবে। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের হামলার দায় হুথিরা নিজেরা স্বীকার করেনি।

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে। ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক হামলার জবাব দিতেই তারা সৌদি ভূখণ্ডে আঘাত হানছে। এর আগে বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, রিয়াধের বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত তিনজন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সৌদি বিমান সংস্থার এক পাইলট। সেই হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন এবং একটি বিমানের ক্ষতি হয়।

হুথিরা এর আগে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য বিমান সংস্থাগুলিকে সতর্ক করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, মক্কা ও মদিনার উপর দিয়ে চলাচল করা বিমান ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় থাকা অন্য বিমানগুলি তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে। ফলে এই হুমকি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রিয়াধ বিমানবন্দরে হামলার পর আমেরিকার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে আমেরিকা যোগ দেবে কি না। উত্তরে ট্রাম্প জানান, বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও হুথিদের হামলার নিন্দা করে বলেন, নিরীহ মানুষের জীবনের প্রতি এই ধরনের হামলা চরম অবহেলার পরিচয় দেয়।

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হচ্ছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারকে সামরিক সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুথিরা দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশেও লড়াই বেড়েছে। এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তার প্রভাব পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপরও পড়তে পারে।

অসামরিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা, একাধিক দেশের নাগরিকের মৃত্যু এবং পাল্টা সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা গোটা অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে শনিবারের হামলার দায় নিয়ে হুথিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায়, হামলার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

পূর্ব মেদিনীপুরে খ্রিস্টান পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মান্তরণের চাপ বজরং দলের বিরুদ্ধে

পার্বতীর অভিযোগ, সন্ধ্যায় যখন তাঁরা প্রার্থনা করতে বসেন, সেই সময় ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় জোর করে বাড়িতে ঢুকে তাঁদের মারধর করেন। তাঁর চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হয়, স্বামীকে গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁর ননদ অর্থাৎ মোহন সোরেনের মেয়ে রেণু সোরেনকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রাথমিকে ‘এক ক্লাস, এক শিক্ষক’ নীতি! পড়ুয়াদের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট?

West Bengal Primary Education: প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হতে পারে ‘এক ক্লাস, এক শিক্ষক’ নীতি। পড়ুয়াদের অগ্রগতির ভিত্তিতে শিক্ষকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও কি নির্ধারিত হবে?

ইজরায়েলে সরকার গড়বে কে?

Israel election results: নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নেতানিয়াহুর টিকে থাকা ও আইজেনকটের ক্ষমতায় আসা অনিশ্চিত; এমতাবস্থায় আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া শেষ পর্যন্ত কে সরকার গঠন করবে?

আইডিবিআই বিক্রির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, রাহুলের চিঠিতে জোর পেল ব্যাঙ্ক কর্মীদের আন্দোলন

IDBI Bank privatisation: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনে, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ মালিকানা কানাডার ফেয়ারফ্যাক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে ₹৫২,৮৭৮ কোটি টাকায় বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধী ব্যাঙ্ক কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, লোকসানে থাকা ব্যাঙ্ক মুনাফায় ফেরার পর কেন বিক্রি করছে সরকার? ২ ও ৩ নভেম্বর দেশব্যাপী অনশনের ডাক ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের।

জিও-র আইপিও: সাধারণ মানুষ শেয়ারহোল্ডার, কিন্তু ক্ষমতার ভাগীদার কতটা?

Jio Platforms IPO launch: ৩০,২১৩ কোটি টাকার জিও প্ল্যাটফর্মস আইপিও ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম। প্রমোটার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের হাতে রয়েছে ৬৪.৫ শতাংশ শেয়ার। সত্যিই কি এর শেয়ারহোল্ডার হওয়া মানেই আম্বানিদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার অংশীদার হওয়া?

হাঙ্গেরি থেকে ভারত: 'প্রজেক্ট ২০২৫'বিশ্ব দক্ষিণপন্থার নতুন বাইবেল?

Heritage Foundation's Project 2025: হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ কেবল আমেরিকার প্রশাসনিক নীলনকশা নয়, জাতীয়তাবাদ ও রক্ষণশীল মতাদর্শকে রাষ্ট্রক্ষমতায় রূপান্তরের মাধ্যমে এটি ক্রমশ আন্তর্জাতিক দক্ষিণপন্থী রাজনীতির এক প্রভাবশালী বৈশ্বিক নির্দেশিকা বা রূপক ‘বাইবেল’ হয়ে উঠছে।

এসআইআর: কতজন ঘুষপেটিয়া পাওয়া গেল?

SIR Process & Voter Deletions: অনুপ্রবেশকারীদের বের করার নামে এসআইআরে কোটি কোটি নাগরিকের নাম বাদ গেলেও বিদেশি মিলল মাত্র হাতে গোনা?

এসআইআর বাতিলের দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের, কী বলছে আন্তর্জাতিক সংস্থা?

Special Intensive Revision SIR: ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তথ্যগত ত্রুটির কারণে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা হরণ হচ্ছে বলে সংগঠনটির অভিযোগ।