রেলকর্মীর ছোট্ট ভুলের মাশুল! ফের বড় দুর্ঘটনা ভারতীয় রেলে
Andhra Pradesh Train Accident: বিজয়নগরম জেলায় একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সঙ্গে এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। যার জেরে লাইনচ্যুত হয়ে যায় প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। ঘটনায় মৃত্যু অন্তত ১৪ জনের।

একের পর এক রেলদুর্ঘটনা। মৃত মানুষের তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে। তবু যেন টনকই নড়ছে না রেল কর্তৃপক্ষের। শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণটুকু ঘোষণা করেই দায় এড়াচ্ছে রেলমন্ত্রক! মাস কয়েক আগেই ঘুম উড়িয়েছিল ওড়িশার বালেশ্বরের রেলদুর্ঘটনা। ওড়িশা, বিহারের পর এবার অন্ধ্রপ্রদেশ। বিজয়নগরম জেলায় একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সঙ্গে এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। যার জেরে লাইনচ্যুত হয়ে যায় প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। ঘটনায় মৃত্যু অন্তত ১৪ জনের। জখম অন্তত ৫০। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাস কয়েক আগেই বালেশ্বরে দুটি যাত্রীবাহি ট্রেন ও মালগাড়ির সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছিল মোট ২৮০ জনের। জখম হন অসংখ্য মানুষ। দিন কয়েক আগেই বিহারের বক্সারে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হন। জখম হন অন্তত একশো জন। আর ওড়িশা, বিহারের পর এবার অন্ধ্রপ্রদেশ। রবিবার বিশাখাপত্তনম থেকে রায়গড়া যাচ্ছিল ট্রেনটি। জানা যায়, ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ট্রেনটি দাঁড়িয়ে পড়ে। আর সেই ট্রেনটিতে এসে ধাক্কা মারে পালাসা এক্সপ্রেস। বিশাখাপত্তনম থেকে পালাসা যাচ্ছিল ট্রেনটি। আর সেই ধাক্কাতেই কান্তকাপল্লীর কাছে প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির তিনটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে । খবর ছড়াতেই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এনডিআপএফ। পাঠানো হয় অ্যাম্বুলেন্স। উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় আরও একটি ট্রেন। উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয়রাও।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রেল কর্মীদের ভুলেই এই দুর্ঘটনা। লোকো পাইলট ভালো করে সিগন্যাল দেখতে না পাওয়াতেই বিপর্যয়। ইতিমধ্যেই ইস্টকোস্ট রেলওয়ের তরফে হেল্প লাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থানের বিভিন্ন ছবি সামনে এসেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে লাইনচ্য়ুত হয়ে পড়ে রয়েছে রেলগাড়িটির তিনটি কামরা। সেখানে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ। চলছে উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যেই জখমদের স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গিয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bihar Train Derailment: দুর্ঘটনাগ্রস্তদের মধ্যে এ রাজ্যের বাসিন্দাদের থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নিহতদের পরিবার প্রতি ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।
ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি। আশ্বাস দেন সব রকম সাহায্যের। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। ইতিমধ্যেই রেলমন্ত্রী টুইট করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার মৃতদের ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে রেল। গুরুতর আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে ও সামান্য চোট পেয়েছেন যাঁরা, তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে রেলের তরফে। দুর্ঘটনার জেরে বেশ কয়েকটি লাইনে বিঘ্নিত হয়েছে ট্রেনচলাচল। বাতিল করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। ঘুরিয়েও দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি শাখার ট্রেন।

ট্রেন দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর দফতর বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, "বিজয়নগরম জেলার কণ্টকাপল্লিতে ট্রেন দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছেন।" বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে কাছের জেলা বিশাখাপত্তনম এবং আনাকাপল্লি থেকে যত বেশি সম্ভব অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলিকেও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সময়ে সময়ে তাঁকে ঘটনার বিষয়ে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
বারবার কেন রেল দুর্ঘটনা! স্বাভাবিক ভাবেই উঠে গিয়েছে প্রশ্ন। ঘটনায় রেলমন্ত্রকের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়ে রেলমন্ত্রককে এক হাত নেন তিনি। "কবে ঘুম থেকে জাগবে রেল?" - প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। তবে সত্যিই কি ঘুম ভাঙবে রেলের। পরের পর এতগুলো দুর্ঘটনা, এত মৃত্যু, এই গাফিলতির দায় কি এড়াতে পারবে ভারতের রেলমন্ত্রক। নাকি ক্ষতিপূরণটুকু দিয়েই দায় এড়াবে? প্রশ্নটা থাকছেই।







