কেন সুদান গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে অরক্ষিত মহিলারা?

War Strategy in Sudan: আরএসএফ নামে পরিচিত সুদানের আধা সামরিক বাহিনী যুদ্ধে কেবল সামরিক ভাবে লড়াই করছে তাই নয়, তারা সুদানের নারীদের উপর যৌন সহিংসতাকে একটি পরিকল্পিত ও সাংগঠনিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।

inscript
৩ মিনিট
কেন সুদান গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে অরক্ষিত মহিলারা?

সুদানের দীর্ঘ চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে এক মানবাধিকার সংস্থা সম্প্রতি একটি খুবই গুরুতর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) নামে পরিচিত সুদানের আধা সামরিক বাহিনী যুদ্ধে কেবল সামরিকভাবে লড়াই করছে তাই নয়, তারা সুদানের নারীদের উপর যৌন সহিংসতাকে একটি পরিকল্পিত ও সাংগঠনিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই সহিংসতা এতটাই ব্যাপক যে এটি এক-দু'টি ঘটনা নয়, রীতিমতো নিয়মিতভাবে সংঘটিত হচ্ছে, এমনটাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে স্ট্র্যাটেজিক ইনিশিয়েটিভ ফর ওমেন ইন দ্য হর্ন অব আফ্রিকা (Strategic Initiative for Women in the Horn of Africa) নামের একটি সংস্থা, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এই গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে নারী ও মেয়েদের উপর সংঘটিত যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার মতো ঘটনাগুলি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছিল। তাদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে ১৪টি রাজ্যে প্রায় ১,৩০০টি ঘটনা ধরা পড়েছে যেখানে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা গিয়েছে। এই ঘটনাগুলি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরএসএফের দায়ী থাকার হার প্রায় ৮৭ শতাংশ। আরও উদ্বেগজনক হলো, অনেক ক্ষেত্রেই যৌন সহিংসতা ছাড়াও শিশুদেরও আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে।

এগুলো কোনোটি হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া এলোমেলো ঘটনা ছিল না। ওই প্রতিবেদনে আরএসএফের কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট ধরন তুলে ধরা হয়েছে: প্রথমে যখন তারা কোনো শহর বা গ্রামে প্রবেশ করে, সেখানকার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ডাকাতির পাশাপাশি নারীদের ধর্ষণ ও নিপীড়ন শুরু হয়; এরপর তারা নিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলার পর জনসমক্ষে বা রাস্তার মতো খোলা জায়গাতেও এই ধর্ষণগুলি চালিয়ে যায়; এবং অনেক ক্ষেত্রে নারীদের আটক করে রেখে তাদের উপর আরও ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়, গণধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ‘বিয়ে’ করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ ঘর ছাড়া! কোন পথে সুদান?

Sudan Massacre: দারফুরের অনেকেই মনে করেন, আরএসএফ ও তাদের মিত্র মিলিশিয়ারা অঞ্চলটিকে পুরোপুরি আরবদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে।

এই সব কিছু ঘটছে এমন সময় যখন সুদানের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা এল-ফাশির মতো জায়গাগুলিতে আরএসএফ নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ যুদ্ধ, অপহরণ ও অত্যাচারের হাত থেকে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক নারী ও মেয়েরা পালানোর সময় অথবা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই আরএসএফের সদস্যদের হাতে তাদের উপর যৌন অত্যাচারের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকদের দল নিশ্চিত করেছে, এমনকি বেশ কিছু নারী গর্ভবতী ছিলেন বলেও জানান তাঁরা।

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি যাঁরা সংঘাতকালে যৌন সহিংসতার বিষয়ে কাজ করেন তাঁরা এই ধরণের অপরাধকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন এবং এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, শুধুমাত্র কিছু কাগজ লিখে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসব বন্ধ হবে না, বাস্তবে যেভাবে নারীদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, তা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন আন্তর্জাতিক মহল আরএসএফের বিরুদ্ধে নানা রকম জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। যুক্তরাজ্য-সহ কিছু দেশ আরএসএফের সিনিয়র কমান্ডারদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং এই সংঘাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিকল্পিতভাবে, ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত এই যৌন সহিংসতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শুধু বর্তমান প্রজন্মই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক ও সামাজিক কাঠামোও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এই প্রতিবেদন কেবল অভিযোগের তালিকা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য এক জোরালো সতর্কবার্তা। দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সংঘাত বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন আর নৈতিক আহ্বান নয়, বরং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মানবিক দায়িত্ব।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।