গাড়ি থামিয়ে খুন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে!
ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে গুলি করে খুন করা হলো শুভেন্দু অধিকারীর সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়াতে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা।
ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে গুলি করে খুন করা হলো শুভেন্দু অধিকারীর সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়াতে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। বুধবার রাতের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
বাড়ি ফেরার পথেই এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় গাড়িতে চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে ছিলেন গাড়ির চালক-সহ আরও এক ব্যক্তি। এই ঘটনায় চালকও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় চন্দ্রনাথকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে খবর।
চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে পরপর দু’টি গুলি লাগে। হাসপাতালে নিয়ে এসে সিপিআর দেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সব মিলিয়ে প্রথম দু’দিনেই অন্তত চার জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলগুলির তরফে পাল্টা অভিযোগ শোনা গিয়েছে।
চারটি মোটরবাইকে মোট আটজন দুষ্কৃতী চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছু নেয়। সেই সময় গাড়িটি দোহাড়িয়া লেনের ভিতরে ঢুকছিল। হামলাকারীদের সবার মাথায় হেলমেট ছিল, ফলে কাউকে আপাতত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

দুষ্কৃতীরা একটি ছোট গাড়ি এবং চারটি মোটরবাইকে করে ঘটনাস্থলে আসে। গুলি চালানোর পর তারা বাইক নিয়েই দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে যে ছোট গাড়িতে তারা এসেছিল, সেটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে পুলিশ সেই গাড়িটিকে ঘিরে রেখেছে এবং গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। গাড়ির নম্বর WB74AK2270।
চন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরাও গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর শরীরে মোট তিনটি গুলি লাগে—একটি বুকের ডান দিকে, একটি পেটে এবং একটি ডান হাতে। হাসপাতালে আনার সময় তাঁর জ্ঞান ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অস্ত্রোপচার জরুরি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
BJP Government in West Bengal: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এল বাংলার ক্ষমতায়। এই পরিবর্তনে কি সত্যিই দুর্নীতি, বেকারত্ব, কাটমানির রাজনীতি শেষ হবে? নাকি শুধু শাসকের মুখ বদলাবে, মানুষের ভাগ্য নয়?
চন্দ্রনাথের পূর্ব মেদিনীপুরে হলেও বহু বছর ধরে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় থাকতেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও তাঁর পরিচিতি ছিল যথেষ্ট।
ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর হয়ে যে বিশেষ ‘টিম’ কাজ করেছিল, চন্দ্রনাথ ছিলেন সেই টিমের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে গুলিবিদ্ধ অন্য ব্যক্তিও ওই দলের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। গুলিবিদ্ধ বুদ্ধদেব বেরাও একই টিমের সদস্য ছিলেন। ফলে এই হামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন,
চক্রান্ত করেই এই খুন। কী এবং কেন, তা খতিয়ে দেখা উচিৎ। এবং অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি পাওয়া উচিৎ। তৃণমূলের আমলেও দেখেছি, ভোট মিটে গেলেই যা খুশি করা। এখনও সেই বাংলাকে আরও বেশি গরম, বিপর্যস্ত করে দেওয়া; এটা কখনও হতে পারে না।
মধ্যমগ্রামের মতো ব্যস্ত এলাকায় এভাবে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী মধ্যমগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে খবর। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন প্রান্তে হিংসা ও অশান্তির খবর এসেছে। ইতোমধ্যেই তৃণমূল-বিজেপি উভয় দলেরই চার কর্মীকে খুন করার অভিযোগও সামনে এসেছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে খুনের ঘটনার পর রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে।






