বিকশিত ভারতের হোয়াটস্যাপ পেয়েছেন? ভোটের আগে ভয়াবহ অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে
Viksit Bharat Sampark Message: নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি সংযুক্ত করে ‘বিকশিত ভারত সম্পর্ক’ থেকে লাখে লাখে ভারতীয়দের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে এই গুচ্ছ মেসেজ পাঠানো হয়েছে

হোয়াটস্যাপ চ্যাটে বিজেপি সরকারের মেসেজ পেয়েছেন? দেশজুড়ে বহু নাগরিকই কেন্দ্র সরকারের হোয়াটস্যাপ পেয়ে চমকে উঠেছেন। এমনিতে সরকারের নানা বিভাগের তরফে অনেক সময়ই টেক্সট মেসেজ পাঠানো হয়। তবে সরাসরি হোয়াটস্যাপ নম্বরে যোগাযোগ? বিকশিত ভারত সম্পর্ক নামের এই অ্যাকাউন্ট থেকে এই মেসেজটি আসছে। চণ্ডীগড়ের নির্বাচনী কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করার পরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি যে গুচ্ছ মেসেজ পাঠিয়েছে তা আসলে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (এমসিসি) বা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
যেহেতু এই বার্তা সারা দেশব্যাপী মানুষের হোয়াটস্যাপে পাঠানো হচ্ছে, তাই চণ্ডীগড় প্রশাসন এই নির্বাচনী বিধিভঙ্গের বিষয়ে 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' করার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি সংযুক্ত করে ‘বিকশিত ভারত সম্পর্ক’ থেকে লাখে লাখে ভারতীয়দের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে এই গুচ্ছ মেসেজ পাঠিয়ে মূলত বিজেপি দরকারের দশ বছরের কাজের সাফল্য বর্ণনা করা হয়েছে। আর বলা হয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের বিবিধ প্রকল্পে ১৪০ কোটি মানুষ উপকৃত হয়েছেন এই দশ বছরে। তাই কীভাবে জনগণের আরও উপকার করা যায় এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত ও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rachana Banerjee TMC Candidate: রাজনীতি আর টেলিভিশনের পর্দাকে গুলিয়ে ফেলেছেন রচনা। পরপর বেফাঁস মন্তব্য করেছেন।
নরেন্দ্র মোদির স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গত দশ বছরে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, মানুষের জীবনে রূপান্তরই তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন। এরপর তিনি সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চান।
গত ১৭ মার্চ লোকসভার নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। চণ্ডীগড়ের একজন বাসিন্দা যিনি ভোট ঘোষণার একদিন পরে মোদির এই চিঠি পেয়েছিলেন। তিনি ইসিআই-এর সি-ভিজিল অ্যাপের মাধ্যমে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ নির্বাচনের সময় সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হয়েছে।
চণ্ডীগড়ের রিটার্নিং অফিসার তথা ডেপুটি কমিশনার বিনয় প্রতাপ সিং দ্য ওয়্যারকে বলছেন, বিষয়টি যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে করা হয়েছিল, তাই চণ্ডীগড়ের জেলা মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কমিটি এটিকে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা বলেই উল্লেখ করেছে। যেহেতু বিষয়টি ভারত সরকার এবং মেটার সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং কেবল চণ্ডীগড়ের এক্তিয়ারেই সীমাবদ্ধ নয় তাই এই নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছেই আর্জি জানানো হয়েছে।
শশী থারুর এবং মণীশ তেওয়ারি সহ বিরোধী দলের নেতারা এই মেসেজ নিষিদ্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। শশী থারুর X-এ এক বিবৃতিতে জিজ্ঞাসা প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশন শাসক দলের পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের জন্য সরকারি ব্যবস্থা এবং সরকারি তথ্যের এমন নির্লজ্জ অপব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কি কোনও পদক্ষেপ করবে?
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এক নাগরিকের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছেন শশী। ওই ব্যক্তিও ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের কার্যালয়ের ঠিকানা সহ 'বিকশিত ভারত সম্পর্ক' অ্যাকাউন্ট থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মোদির চিঠি পাওয়ার পরে তথ্য লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশের কয়েকজন ব্যক্তিও তাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে এই মেসেজ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সরকার কীভাবে সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বর পাচ্ছে, সেখানে কী কী আরও তথ্য তাঁদের হাতে আছে এই প্রশ্ন উঠছেই। তাহলে কি সাধারণ মানুষের কোনও কিছুই ব্যক্তিগত নয়? বিজেপি আসলে ভোটারদের তথ্য একাধিক উৎস থেকে জোগাড় করে। বিষয়টা এক বিরাট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হয়। তাতে অজস্র সরকারি ব্যবস্থা, তথ্য দালাল এবং দলীয় কর্মীরা যুক্ত। প্রায়ই দলীয় তথ্য সরকারের কাছে যায় এবং সরকারি তথ্য দালালদের কাছে যায়। তাই বিকশিত ভারত সম্পর্ক থেকে আসা মেসেজ শুধু এড়িয়ে গেলেই চিন্তা কমে না। সরকার কোন নাগরিকের কোন তথ্য মুঠোয় রেখেছে সেই প্রশ্ন আবারও জাগে।






