বিকশিত ভারতের হোয়াটস্যাপ পেয়েছেন? ভোটের আগে ভয়াবহ অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে

Viksit Bharat Sampark Message: নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি সংযুক্ত করে ‘বিকশিত ভারত সম্পর্ক’ থেকে লাখে লাখে ভারতীয়দের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে এই গুচ্ছ মেসেজ পাঠানো হয়েছে

inscript
৩ মিনিট
বিকশিত ভারতের হোয়াটস্যাপ পেয়েছেন? ভোটের আগে ভয়াবহ অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে

হোয়াটস্যাপ চ্যাটে বিজেপি সরকারের মেসেজ পেয়েছেন? দেশজুড়ে বহু নাগরিকই কেন্দ্র সরকারের হোয়াটস্যাপ পেয়ে চমকে উঠেছেন। এমনিতে সরকারের নানা বিভাগের তরফে অনেক সময়ই টেক্সট মেসেজ পাঠানো হয়। তবে সরাসরি হোয়াটস্যাপ নম্বরে যোগাযোগ? বিকশিত ভারত সম্পর্ক নামের এই অ্যাকাউন্ট থেকে এই মেসেজটি আসছে। চণ্ডীগড়ের নির্বাচনী কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করার পরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি যে গুচ্ছ মেসেজ পাঠিয়েছে তা আসলে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (এমসিসি) বা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।

যেহেতু এই বার্তা সারা দেশব্যাপী মানুষের হোয়াটস্যাপে পাঠানো হচ্ছে, তাই চণ্ডীগড় প্রশাসন এই নির্বাচনী বিধিভঙ্গের বিষয়ে 'প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ' করার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি সংযুক্ত করে ‘বিকশিত ভারত সম্পর্ক’ থেকে লাখে লাখে ভারতীয়দের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে এই গুচ্ছ মেসেজ পাঠিয়ে মূলত বিজেপি দরকারের দশ বছরের কাজের সাফল্য বর্ণনা করা হয়েছে। আর বলা হয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের বিবিধ প্রকল্পে ১৪০ কোটি মানুষ উপকৃত হয়েছেন এই দশ বছরে। তাই কীভাবে জনগণের আরও উপকার করা যায় এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত ও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাজনীতিতে শূন্য! দিদি নম্বর ১ দিয়ে ভোটে জিততে পারবেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়?

Rachana Banerjee TMC Candidate: রাজনীতি আর টেলিভিশনের পর্দাকে গুলিয়ে ফেলেছেন রচনা। পরপর বেফাঁস মন্তব্য করেছেন।

নরেন্দ্র মোদির স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গত দশ বছরে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, মানুষের জীবনে রূপান্তরই তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন। এরপর তিনি সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চান।

গত ১৭ মার্চ লোকসভার নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। চণ্ডীগড়ের একজন বাসিন্দা যিনি ভোট ঘোষণার একদিন পরে মোদির এই চিঠি পেয়েছিলেন। তিনি ইসিআই-এর সি-ভিজিল অ্যাপের মাধ্যমে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ নির্বাচনের সময় সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হয়েছে।

চণ্ডীগড়ের রিটার্নিং অফিসার তথা ডেপুটি কমিশনার বিনয় প্রতাপ সিং দ্য ওয়্যারকে বলছেন, বিষয়টি যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে করা হয়েছিল, তাই চণ্ডীগড়ের জেলা মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কমিটি এটিকে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা বলেই উল্লেখ করেছে। যেহেতু বিষয়টি ভারত সরকার এবং মেটার সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং কেবল চণ্ডীগড়ের এক্তিয়ারেই সীমাবদ্ধ নয় তাই এই নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছেই আর্জি জানানো হয়েছে।

শশী থারুর এবং মণীশ তেওয়ারি সহ বিরোধী দলের নেতারা এই মেসেজ নিষিদ্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। শশী থারুর X-এ এক বিবৃতিতে জিজ্ঞাসা প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশন শাসক দলের পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের জন্য সরকারি ব্যবস্থা এবং সরকারি তথ্যের এমন নির্লজ্জ অপব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কি কোনও পদক্ষেপ করবে?

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এক নাগরিকের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছেন শশী। ওই ব্যক্তিও ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের কার্যালয়ের ঠিকানা সহ 'বিকশিত ভারত সম্পর্ক' অ্যাকাউন্ট থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মোদির চিঠি পাওয়ার পরে তথ্য লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশের কয়েকজন ব্যক্তিও তাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে এই মেসেজ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

সরকার কীভাবে সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বর পাচ্ছে, সেখানে কী কী আরও তথ্য তাঁদের হাতে আছে এই প্রশ্ন উঠছেই। তাহলে কি সাধারণ মানুষের কোনও কিছুই ব্যক্তিগত নয়? বিজেপি আসলে ভোটারদের তথ্য একাধিক উৎস থেকে জোগাড় করে। বিষয়টা এক বিরাট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হয়। তাতে অজস্র সরকারি ব্যবস্থা, তথ্য দালাল এবং দলীয় কর্মীরা যুক্ত। প্রায়ই দলীয় তথ্য সরকারের কাছে যায় এবং সরকারি তথ্য দালালদের কাছে যায়। তাই বিকশিত ভারত সম্পর্ক থেকে আসা মেসেজ শুধু এড়িয়ে গেলেই চিন্তা কমে না। সরকার কোন নাগরিকের কোন তথ্য মুঠোয় রেখেছে সেই প্রশ্ন আবারও জাগে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।