পাখার বাতাস ও জামাই আদর, ডিজিটাল জামাই ষষ্ঠী হয়ে যাক!

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাওয়া-দাওয়া – আদ্যন্ত বাঙালির সংস্কৃতিতে বদল এসেছে, এরপরেও বোধহয় কোনও ব্যস্তবাগিশ জামাইও চাইবে না যে ভার্চুয়ালি জামাই আদর সারুন শাশুড়িরা। তাহলে ডিজিটালের পাশাপাশি বেঁচে থাক সাবেকিয়ানা।

tiasa gupta
৪ মিনিট
পাখার বাতাস ও জামাই আদর, ডিজিটাল জামাই ষষ্ঠী হয়ে যাক!

ভার্চুয়াল ক্লাস, ভার্চুয়াল মিটিং, ভার্চুয়াল চিকিৎসা। তাহলে ভার্চুয়ালি পাখার বাতাস আর জামাই আদর হবে না কেন? বালাই ষাট!

করোনার দাপটে গত দুই বছর অনলাইনে জামাইষষ্ঠী হয়েছে। এবছর সেই ট্রেন্ড জারি থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এই নতুন ভার্চুয়াল জামাইষষ্ঠীকে স্বাগত জানাচ্ছেন শ্বশুররা। কারণ এটা তাঁদের পক্ষে পকেট ফ্রেন্ডলি। তাই জামাই আদর যদি ভার্চুয়ালি হয়, তাহলে কী সর্বনাশটাই না হবে! সকালে লুচি, আলুর দম দিয়ে শুরু করে দুপুরে কব্জি ডুবিয়ে ইলিশ, চিংড়িতে ডুব। মাঠে মারা? ভার্চুয়ালি ভোজন!

জামাইয়ের শোকে ডুব দেওয়ার কিচ্ছু হয়নি। কারণ তাঁদের জন্য হরেক পদ নিয়ে হাজির হোম ডেলভারি অ্যাপ। তাহলে শাশুড়ি থেকে জামাই-সবাই স্বাগত জানাতে পারেন এই ডিজিটাল জামাইষষ্ঠীকে।

হোয়াটসঅ্যাপে পাখার বাতাস

গত ২ বছর করোনা দাপিয়ে বেড়িয়েছে। ফলে ইচ্ছে থাকলেও জামাইরা লকডাউনের জেরে শাশুড়ির হাতের রান্না খেতে পারেননি। এবার অবস্থা বদলেছে। তবে চাকরির কারণে অনেক জামাই-ই শ্বশুর বাড়ি পৌঁছাতে পারেন না। সেক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে পাখার বাতাস তো আছে।

যেহেতু জামাই এবং শাশুড়ি দুইজনেই রয়েছেন ভিন্ন জায়গায় সেকারণে সরাসরি আশীর্বাদ করা সম্ভব নয়। কিন্তু ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন। আশীর্বাদ করতে পারেন নিজের আদরের জামাইকে। এর জন্য দুই জনেই কোনও ভিডিয়ো কলিং অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাইলে পারবেন আপনিও! দেখিয়ে দিলেন ইউপিএসসি-তে সফল হওয়া তিন কন্যা

সত্যিই তো আমাদের মেয়েরা কোনও অংশেই ছেলেদের থেকে কম তো ননই, বরং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছেন তাঁদের সঙ্গে।

খুব সহজেই Whatsapp-এ ভিডিয়ো কল করতে পারবেন। ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে উইশ করুন জামাইকে। Whatsapp ছাড়াও রয়েছে আরও কয়েকটি অ্যাপ যেগুলির মাধ্যমে নিজের প্রিয় জামাইকে উইশ করতে পারেন। ফোনে ইনস্টল করতে পারেন Duo, Skype, Facebook Messanger ইত্যাদি অ্যাপগুলির মাধ্যমে জামাইয়ের সঙ্গে ভিডিয়ো কল করতে পারবেন। অন্যদিকে যদি শাশুড়ি ও জামাই দুইজনের কাছেই থাকে Apple iPhone তাহলে Facetime ব্যবহার করতে পারেন।

অনলাইনে খাওয়া দাওয়া

জামাইষষ্ঠী আর কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া – এ যেন সমর্থক। পেটরোগা জামাইও এদিন ভোজনরসিক হয়ে ওঠেন। হবেন নাই কেন, এমন আহ্লাদের খাওয়ার সুযোগ জামাইদেরও সারা বছর মেলে না।

তাহলে পোলাও হবে নাকি সাদা ভাত? ইলিশ সর্ষে ভাল হবে নাকি চিংড়ির মালাইকারি? মিষ্টি বাছাই করতেও বেশ মাথা ঘামাতে হয়। জামাইষষ্ঠীর পেটপুজো বলে কথা! বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন। গ্রীষ্মকালে যে পার্বনটির জন্য বাঙালির ঘরে ঘরে আগে থেকেই প্রস্তুতি চলে তার অন্যতম হল জামাইষষ্ঠী। আগে থেকে মেনু ঠিক করা, বাজার করা তারপর রান্না। এত কাজ সামলাতে লোকবল চাই। কিন্তু এখন ছোট পরিবার। অত লোক কোথায়? জামাইষষ্ঠী মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। মাছ, মাংস সহ একাধিক ভাজাভুজি থাকবে খাবার থালায়। এটাই স্বাভাবিক। জামাইকে যদি বাড়িতে বসেই খাওয়াতে চান তাহলে অর্ডার করুন Swiggy বা Zomato-তে। প্রায় প্রত্যেক শহরে পরিষেবা দেয় এই দুই অ্যাপ। তাই খুব সহজেই যে কোনও রেস্টুরেন্ট থেকে জামাইয়ের পছন্দমতো খাবার অর্ডার করতে পারেন এই দুই অ্যাপের মাধ্যমে। সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের অধীনস্থ ওয়েস্ট বেঙ্গল কম্প্রিহেনসিভ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন।

কী ভাবে? জামাই ষষ্ঠীর জন্য স্পেশাল মেনু চালু করেছে তারা। সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে বাড়িতে। ইদানিং বাড়িতে রান্না করেন না অনেকে। কোনও রেস্তরাঁয় টেবিল বুক করে অনুষ্ঠান করেন। কিন্তু তাতে তো বাড়ির আবহ থাকে না। সেদিকটি ভেবেই এমন কাজ। রান্নার ঝামেলা নেই, অর্ডার করলেই সময়মতো বাড়িতে আসবে এলাহি খাবার।

একটি ‘থালায়’ দেওয়া হবে, কড়াইশুঁটি দেওয়া গন্ধরাজ ভাত, ইলিশ পাতুরি, ঝাড়গ্রামের বনমুরগির মাংস, আনারসের চাটনি ও শক্তিগড়ের ল্যাংচা। দ্বিতীয় ‘থালায়’ থাকবে, কড়াইশুঁটি দেওয়া গন্ধরাজ ভাত, গলদা চিংড়ির মালাইকারি, ঝাড়গ্রামের পাঁঠার মাংস, আনারসের চাটনি ও শক্তিগড়ের ল্যাংচা। দুটি ‘থালা’র মূল্যই ৫০০ টাকা করে। এই রকম মেনু শুনে খাদ্যে চরম বেরসিক জামাইয়েরও জিভে জল আসবে না!

পয়লা বৈশাখ দিয়ে শুরু হয়েছে বাঙালির পার্বনের পর্ব। এরপরই জ্যৈষ্ঠের জামাইষষ্ঠীর উৎসব। আর আদরের জামাইকে এই বিশেষ দিনে কোন নতুনত্বে ভরিয়ে দেওয়া যায় তার প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যেই শেষ করে ফেলেছেন শাশুড়িরা! জেনে নেওয়া যাক এই উৎসব ঘিরে কিছু রীতিনীতি। অনলাইনে জামাইষষ্ঠী এসেছে ও জনপ্রিয়ও হয়েছে, তবে হারিয়ে যায়নি সাবেকিয়ানা ও ঐতিহ্য।

আম, কাঁঠালের সমাহারে জামাইকে আদর করে আসন পেতে বসিয়ে, কুলোর বাতাস দিয়ে খাওয়ানোর চিরাচরিত রূপ বহু বাঙালি বাড়িতে এখনও দেখা যায়। সাবেকিয়ানা ও ঐতিহ্যের এই উৎসব ২০২২ সালে ৫ জুন পড়ছে। ৫ জুন অর্থাৎ বাংলা সাল অনুযায়ী ২১ জ্যৈষ্ঠ রবিবার এই বিশেষ উৎসব পালিত হতে চলেছে। ফলে যে শাশুড়িরা জামাইষষ্ঠীর অপেক্ষায় রয়েছেন। শুধু জামাইকেই নয়, সন্তানসম প্রত্যেক স্নেহের মানুষের জন্যই এই তিথিতে মাতৃ স্থানীয়রা উপবাস রেখে আসেন। সন্তানের মঙ্গল কামনায় ষষ্ঠীর ব্রত পালন করে থাকেন। সাধারণত মরশুমি ফল দিয়ে জামাই আদর করা হয়। আম, জাম, কাঁঠালের মরশুমে জামাইকে ফল দিয়ে আদর যত্ন করার পাশাপাশি দুপুরে ভাতপাতে একাধিক লোভনীয় পদও রাখার রীতি রয়েছে। বহু বাড়িতেই জামাইকে এই দিনে বাসন্তি পোলাও এবং পাঁঠার মাংস খাইয়ে আদর যত্ন করা হয়। সঙ্গে চলে তাল পাতার পাখার হাওয়া। জামাইকে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র, উপহার। তাঁকে আসনে বসিয়ে খাওয়ানোর রীতি রয়েছে। সঙ্গে মঙ্গলদীপও জ্বালানো হয়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাওয়া-দাওয়া – আদ্যন্ত বাঙালির সংস্কৃতিতে বদল এসেছে, এরপরেও বোধহয় কোনও ব্যস্তবাগিশ জামাইও চাইবে না যে ভার্চুয়ালি জামাই আদর সারুন শাশুড়িরা। তাহলে ডিজিটালের পাশাপাশি বেঁচে থাক সাবেকিয়ানা।

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।