ইরানে যুদ্ধ শেষ হোক, কেন চায় না উপসাগরীয় দেশগুলি
US-Iran Conflict: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় কেন? ট্রাম্প প্রশাসন কি তাদের সতর্কবার্তা মানবে?
আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সাতাশতম দিনে উপসাগরীয় দেশগুলির অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিল—আক্রমণ করা উচিত হবে না, এই মর্মে। কিন্তু ইরানের প্রত্যাঘাতের পর এখন তারা চাইছে, যুদ্ধ চলুক। ইরানের সামরিক শক্তি যথেষ্ট দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ না হোক, এমনটাই মতামত তাদের। ওয়াশিংটন পোস্ট আজ লিখেছে, “উপসাগরীয় দেশগুলি ট্রাম্পকে বলছে—ইরান যুদ্ধ শেষ করুন, তবে এখনই নয়।” সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী আশঙ্কা করছে, তাড়াহুড়ো করে শান্তি চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থিতিশীল, আরও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।
আজ, বৃহস্পতিবার যুদ্ধের সাতাশতম দিনে, টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে চারজন উচ্চপদস্থ উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেছেন, “ইরান এখন যে অস্ত্র দিয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলিকে আক্রমণ করছে, সেগুলি হাতে রেখে যুদ্ধ শেষ করা হবে একটি কৌশলগত বিপর্যয়।” তাঁরা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতার বিশেষভাবে চাইছে ইরানের সামরিক শক্তি এমনভাবে খর্ব করা হোক যাতে ভবিষ্যতে প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি না হয়। এক কর্মকর্তা বলেছেন, “আমরা চাই এই যুদ্ধ শেষ হোক ইরানের প্রতিবেশীদের ক্ষতি করার ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে।” পাশাপাশি একটি পক্ষ বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত—যাতে “প্রজন্মের পর প্রজন্মের ক্ষতি” বন্ধ হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Narendra Modi Vishwaguru: ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধে ভারত কেন মধ্যস্থতা করতে পারছে না? বিশ্বগুরু হিসেবে তাঁর ভূমিকা শুধুই কল্পনা?
যুদ্ধ শুরুর আগে উপসাগরীয় দেশগুলির অবস্থান ছিল ভিন্ন। তারা ট্রাম্পকে বলেছিল, সামরিক আক্রমণের বদলে কূটনৈতিক পথে সমাধান খোঁজা উচিত। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান পালটা বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। এতে পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়, তেল-গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হয়, দুবাই-কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান ভেবেছিল, এতে উপসাগরীয় দেশগুলি ট্রাম্পের ওপর চাপ দেবে যুদ্ধ থামাতে। কিন্তু ফল হয় উলটো। এখন এইসব দেশের শীর্ষকর্তারা বলছেন, “ইরানের আক্রমণ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে—সশস্ত্র ইরানকে ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ।” যদিও স্বাভাবিক ভাবেই, ট্রাম্প এই যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম কিনা সে প্রশ্ন উঠছে বারবার।
যুদ্ধের প্ৰশ্নে ভিন্নমতও রয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এ লিখেছেন, “ইরান ও আমেরিকা উভয়ের জাতীয় স্বার্থে যুদ্ধ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করা উচিত।” কিন্তু সৌদির মতো দেশগুলি মনে করে, ইরানের সামরিক শক্তি খর্ব না করে শান্তি চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালী, তেলের পরিকাঠামো ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলি চিরকাল ঝুঁকিতে থাকবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
India energy crisis: ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে কি ভারতে ‘এনার্জি লকডাউন’ আসছে? তেল-গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন, হরমুজ প্রণালীর সংকট এবং কম তেল মজুত কি নতুন করে লকডাউনের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে? নাকি সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে?
ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করেছে। তার উপসাগরীয় মিত্ররা চাইছে, আলোচনার আগে ইরানকে আরও চাপে ফেলা হোক। কয়েকটি দেশ এমনকী যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কথাও ভাবছে। তবে তারা জানে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নিজেদের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপসাগরীয় দেশগুলি চায় যুদ্ধ শেষ হোক—কিন্তু এমনভাবে যাতে ইরান আর কখনও তাদের ওপর হামলা করার সাহস না পায়। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই সতর্কবার্তায় কতটা গুরুত্ব দেন। সর্বোপরি, ইরান কী পদক্ষেপ করে।






