ইরানে যুদ্ধ শেষ হোক, কেন চায় না উপসাগরীয় দেশগুলি

US-Iran Conflict: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় কেন? ট্রাম্প প্রশাসন কি তাদের সতর্কবার্তা মানবে?

inscript
৩ মিনিট
ইরানে যুদ্ধ শেষ হোক, কেন চায় না উপসাগরীয় দেশগুলি

আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সাতাশতম দিনে উপসাগরীয় দেশগুলির অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিল—আক্রমণ করা উচিত হবে না, এই মর্মে। কিন্তু ইরানের প্রত্যাঘাতের পর এখন তারা চাইছে, যুদ্ধ চলুক। ইরানের সামরিক শক্তি যথেষ্ট দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ না হোক, এমনটাই মতামত তাদের। ওয়াশিংটন পোস্ট আজ লিখেছে, “উপসাগরীয় দেশগুলি ট্রাম্পকে বলছে—ইরান যুদ্ধ শেষ করুন, তবে এখনই নয়।” সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী আশঙ্কা করছে, তাড়াহুড়ো করে শান্তি চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থিতিশীল, আরও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।

আজ, বৃহস্পতিবার যুদ্ধের সাতাশতম দিনে, টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে চারজন উচ্চপদস্থ উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেছেন, “ইরান এখন যে অস্ত্র দিয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলিকে আক্রমণ করছে, সেগুলি হাতে রেখে যুদ্ধ শেষ করা হবে একটি কৌশলগত বিপর্যয়।” তাঁরা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতার বিশেষভাবে চাইছে ইরানের সামরিক শক্তি এমনভাবে খর্ব করা হোক যাতে ভবিষ্যতে প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি না হয়। এক কর্মকর্তা বলেছেন, “আমরা চাই এই যুদ্ধ শেষ হোক ইরানের প্রতিবেশীদের ক্ষতি করার ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে।” পাশাপাশি একটি পক্ষ বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত—যাতে “প্রজন্মের পর প্রজন্মের ক্ষতি” বন্ধ হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কত যুদ্ধ থামালেন বিশ্বগুরু?

Narendra Modi Vishwaguru: ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধে ভারত কেন মধ্যস্থতা করতে পারছে না? বিশ্বগুরু হিসেবে তাঁর ভূমিকা শুধুই কল্পনা?

যুদ্ধ শুরুর আগে উপসাগরীয় দেশগুলির অবস্থান ছিল ভিন্ন। তারা ট্রাম্পকে বলেছিল, সামরিক আক্রমণের বদলে কূটনৈতিক পথে সমাধান খোঁজা উচিত। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান পালটা বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। এতে পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়, তেল-গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হয়, দুবাই-কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান ভেবেছিল, এতে উপসাগরীয় দেশগুলি ট্রাম্পের ওপর চাপ দেবে যুদ্ধ থামাতে। কিন্তু ফল হয় উলটো। এখন এইসব দেশের শীর্ষকর্তারা বলছেন, “ইরানের আক্রমণ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে—সশস্ত্র ইরানকে ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ।” যদিও স্বাভাবিক ভাবেই, ট্রাম্প এই যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম কিনা সে প্রশ্ন উঠছে বারবার।

যুদ্ধের প্ৰশ্নে ভিন্নমতও রয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এ লিখেছেন, “ইরান ও আমেরিকা উভয়ের জাতীয় স্বার্থে যুদ্ধ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করা উচিত।” কিন্তু সৌদির মতো দেশগুলি মনে করে, ইরানের সামরিক শক্তি খর্ব না করে শান্তি চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালী, তেলের পরিকাঠামো ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলি চিরকাল ঝুঁকিতে থাকবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান সংকটে লকডাউনের জল্পনা, কী হতে চলেছে?

India energy crisis: ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে কি ভারতে ‘এনার্জি লকডাউন’ আসছে? তেল-গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন, হরমুজ প্রণালীর সংকট এবং কম তেল মজুত কি নতুন করে লকডাউনের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে? নাকি সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে?

ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করেছে। তার উপসাগরীয় মিত্ররা চাইছে, আলোচনার আগে ইরানকে আরও চাপে ফেলা হোক। কয়েকটি দেশ এমনকী যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কথাও ভাবছে। তবে তারা জানে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নিজেদের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপসাগরীয় দেশগুলি চায় যুদ্ধ শেষ হোক—কিন্তু এমনভাবে যাতে ইরান আর কখনও তাদের ওপর হামলা করার সাহস না পায়। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই সতর্কবার্তায় কতটা গুরুত্ব দেন। সর্বোপরি, ইরান কী পদক্ষেপ করে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।