ইরান সংকটে লকডাউনের জল্পনা, কী হতে চলেছে?
India energy crisis: ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে কি ভারতে ‘এনার্জি লকডাউন’ আসছে? তেল-গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন, হরমুজ প্রণালীর সংকট এবং কম তেল মজুত কি নতুন করে লকডাউনের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে? নাকি সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎই ট্রেন্ডিং ‘এনার্জি লকডাউন’ লব্জটি। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে তেল-গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাতের আশঙ্কায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে, ভারতে কি আবার করোনা-কালের মতো লকডাউন আসছে? গুগলে ‘ইন্ডিয়া লকডাউন এগেইন’ সার্চের পরিমাণ বেড়েছে। কথাবার্তা চলছে অফিসে, পাড়ার মোড়ে মোড়ে — কোনো ধরনের লকডাউন বা চলাচল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা নেই।
‘এনার্জি লকডাউন’ আসলে সোশ্যাল মিডিয়ার তৈরি একটি শব্দ। এর অর্থ—জ্বালানি সংকটের সময় সরকারি নির্দেশে বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাসের ব্যবহার কমানো, যাত্রা সীমিত করা বা দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে। ভারতের ৮৮ শতাংশ ক্রুড তেল আমদানি হয়, তার মধ্যে ৪০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে আসে। এলপিজি-র ৬০-৯০ শতাংশও আসে একই পথে। ফলে কিছু শহরে এলপিজি সিলিন্ডারের লাইন পড়েছে, মানুষের উৎকণ্ঠা বেড়েছে। বড় শহরগুলিতে বন্ধ হয়েছে বেশ কিছু রেস্তোরাঁও। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ইনডাকশান কেনা। এদিকে যুদ্ধও থামার নাম নেই। এখান থেকেই শুরু জল্পনা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
India oil reserves: ছ’দিনের তেলেই কি চলবে ভারত? পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সরবরাহ বন্ধ হলে কী হবে জ্বালানি নিরাপত্তা, দাম ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ?
দুটি বক্তব্য এক্ষেত্রে ঘৃতাহুতির কাজ করেছে। প্রথমত, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের রাজ্যসভায় দেওয়া তথ্য। রাষ্ট্রমন্ত্রী সুরেশ গোপি জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেডের (আইএসপিআরএল) কাছে বর্তমানে ৩৩ লক্ষ ৭২ হাজার টন ক্রুড তেল মজুত রয়েছে যা মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৬৪ শতাংশ। তিনটি ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার (বিশাখাপত্তনম, মঙ্গালুরু, পাদুর) পুরোপুরি ভর্তি হলে ৯.৫ দিনের তেল পাওয়া যায়। বর্তমানে তা মাত্র ৫-৬ দিনের। দ্য ওয়্যার ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদে বক্তব্য। ২৩-২৪ মার্চ তিনি বলেন, “এই যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। করোনার সময়ের মতো আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।” এখান থেকেই তৈরি হয়েছে প্যারানোইয়া বা অমূলক ভীতি। যদিও মোদি আশ্বাস দিয়েছেন—“ভারতে যথেষ্ট ক্রুড তেলের মজুত রয়েছে, সরবরাহ অব্যাহত। গত ১১ বছরে ৫৩ লক্ষ টন স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ তৈরি হয়েছে, আরও ৬৫ লক্ষ টন তেল মজুতের কাজ চলছে।” সরকার সাতটি দল গঠন করেছে জ্বালানি ও জোগান পরিকাঠামো দেখভালের জন্য।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Iran Conflict: ইরান-আমেরিকা সংঘাতে আদৌ কি কোনো পক্ষ জিততে পারবে?শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে? এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, “কোনো লকডাউনের পরিকল্পনা নেই। প্রধানমন্ত্রীর কথা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সাপ্লাই চেইনের প্রসঙ্গে বলা, চলাচল বন্ধের বার্তা নয়।” বিবৃতি অনুযায়ী, পেট্রোল-ডিজেল-এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক। চারটি জাহাজ শিগগিরই আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের মোট জ্বালানি মজুত (বাণিজ্যিক+স্ট্র্যাটেজিক) প্রায় ৭৪ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। তবে হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে দাম বাড়বে, শিল্প ও কৃষিতে প্রভাব পড়বে। সরকার আমদানির রুট বদল ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। জল্পনার মধ্যেই সরকারি বার্তা একটাই—আতঙ্কিত হবেন না, সরকারি তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন। এ কথা ঠিক, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট ভারতকে জ্বালানি সংক্রান্ত পরীক্ষায় ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, মোদি সরকার কত দ্রুত মজুত বাড়িয়ে এবং বিকল্প পথ খুঁজে সাধারণ মানুষের জীবন অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে। একথা ঠিক, পেট্রল ডিজেল বা গ্যাস কিনতে ভোগান্তি হলে তা সরাসরি বিপাকে ফেলবে সরকারকে।






