ইরান সংকটে লকডাউনের জল্পনা, কী হতে চলেছে?

India energy crisis: ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে কি ভারতে ‘এনার্জি লকডাউন’ আসছে? তেল-গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন, হরমুজ প্রণালীর সংকট এবং কম তেল মজুত কি নতুন করে লকডাউনের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে? নাকি সরকারের আশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে?

inscript
৩ মিনিট
ইরান সংকটে লকডাউনের জল্পনা, কী হতে চলেছে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎই ট্রেন্ডিং ‘এনার্জি লকডাউন’ লব্জটি। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে তেল-গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাতের আশঙ্কায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে, ভারতে কি আবার করোনা-কালের মতো লকডাউন আসছে? গুগলে ‘ইন্ডিয়া লকডাউন এগেইন’ সার্চের পরিমাণ বেড়েছে। কথাবার্তা চলছে অফিসে, পাড়ার মোড়ে মোড়ে — কোনো ধরনের লকডাউন বা চলাচল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা নেই।

‘এনার্জি লকডাউন’ আসলে সোশ্যাল মিডিয়ার তৈরি একটি শব্দ। এর অর্থ—জ্বালানি সংকটের সময় সরকারি নির্দেশে বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাসের ব্যবহার কমানো, যাত্রা সীমিত করা বা দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে। ভারতের ৮৮ শতাংশ ক্রুড তেল আমদানি হয়, তার মধ্যে ৪০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে আসে। এলপিজি-র ৬০-৯০ শতাংশও আসে একই পথে। ফলে কিছু শহরে এলপিজি সিলিন্ডারের লাইন পড়েছে, মানুষের উৎকণ্ঠা বেড়েছে। বড় শহরগুলিতে বন্ধ হয়েছে বেশ কিছু রেস্তোরাঁও। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ইনডাকশান কেনা। এদিকে যুদ্ধও থামার নাম নেই। এখান থেকেই শুরু জল্পনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আপৎকালীন ভাণ্ডারে ছ'দিনের তেল সঞ্চিত রয়েছে ভারতের কাছে, তারপর?

India oil reserves: ছ’দিনের তেলেই কি চলবে ভারত? পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সরবরাহ বন্ধ হলে কী হবে জ্বালানি নিরাপত্তা, দাম ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ?

দুটি বক্তব্য এক্ষেত্রে ঘৃতাহুতির কাজ করেছে। প্রথমত, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের রাজ্যসভায় দেওয়া তথ্য। রাষ্ট্রমন্ত্রী সুরেশ গোপি জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেডের (আইএসপিআরএল) কাছে বর্তমানে ৩৩ লক্ষ ৭২ হাজার টন ক্রুড তেল মজুত রয়েছে যা মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৬৪ শতাংশ। তিনটি ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার (বিশাখাপত্তনম, মঙ্গালুরু, পাদুর) পুরোপুরি ভর্তি হলে ৯.৫ দিনের তেল পাওয়া যায়। বর্তমানে তা মাত্র ৫-৬ দিনের। দ্য ওয়্যার ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদে বক্তব্য। ২৩-২৪ মার্চ তিনি বলেন, “এই যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। করোনার সময়ের মতো আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।” এখান থেকেই তৈরি হয়েছে প্যারানোইয়া বা অমূলক ভীতি। যদিও মোদি আশ্বাস দিয়েছেন—“ভারতে যথেষ্ট ক্রুড তেলের মজুত রয়েছে, সরবরাহ অব্যাহত। গত ১১ বছরে ৫৩ লক্ষ টন স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ তৈরি হয়েছে, আরও ৬৫ লক্ষ টন তেল মজুতের কাজ চলছে।” সরকার সাতটি দল গঠন করেছে জ্বালানি ও জোগান পরিকাঠামো দেখভালের জন্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান যুদ্ধ: জিতবে কে, হারবে কে? না কি হারবে সবাই?

Iran Conflict: ইরান-আমেরিকা সংঘাতে আদৌ কি কোনো পক্ষ জিততে পারবে?শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে? এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?

ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, “কোনো লকডাউনের পরিকল্পনা নেই। প্রধানমন্ত্রীর কথা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সাপ্লাই চেইনের প্রসঙ্গে বলা, চলাচল বন্ধের বার্তা নয়।” বিবৃতি অনুযায়ী, পেট্রোল-ডিজেল-এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক। চারটি জাহাজ শিগগিরই আসছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের মোট জ্বালানি মজুত (বাণিজ্যিক+স্ট্র্যাটেজিক) প্রায় ৭৪ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। তবে হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে দাম বাড়বে, শিল্প ও কৃষিতে প্রভাব পড়বে। সরকার আমদানির রুট বদল ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। জল্পনার মধ্যেই সরকারি বার্তা একটাই—আতঙ্কিত হবেন না, সরকারি তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন। এ কথা ঠিক, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট ভারতকে জ্বালানি সংক্রান্ত পরীক্ষায় ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, মোদি সরকার কত দ্রুত মজুত বাড়িয়ে এবং বিকল্প পথ খুঁজে সাধারণ মানুষের জীবন অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে। একথা ঠিক, পেট্রল ডিজেল বা গ্যাস কিনতে ভোগান্তি হলে তা সরাসরি বিপাকে ফেলবে সরকারকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।