EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল
Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই তৃণমূলের রাজনৈতিক লড়াই, দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, ছাত্র সংসদের নির্বাচন না-করানো এবং দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে খোলাখুলি মতপ্রকাশ করলেন তৃণমূলের বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।
কুণালের কথায়,
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় পায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার সৈনিকদের ভয় পায় বলেই টার্গেটটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কখনও দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা, কখনও নির্বাচন কমিশনকে ‘ব্যবহার’ করে নানা পদক্ষেপ— সব দিক থেকেই মমতাকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।তবে এই পরিস্থিতিকে মমতার রাজনৈতিক জীবনের ‘শেষ’ বলে দেখতে নারাজ কুণাল। তাঁর মতে, মমতাকে রাজনৈতিক জীবনে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিও সেই ধরনেরই একটি সমস্যা। অতীতে যেমন নানা বাধা পেরিয়ে মমতা রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, তেমনই এখনও তাঁর লড়াই চলবে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে পাশাপাশিই কুণালের বক্তব্য, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ‘ভূমিকা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তৃণমূলের নিজেদের ভুলগুলিও খোলাখুলি আলোচনা করা দরকার ছিল। বিশেষত, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়াকে দলের বড় ‘সাংগঠনিক ব্যর্থতা’ বলেই মনে করছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ছাত্রনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য-সহ তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রসঙ্গও এসেছে। কুণালের মতে, ছাত্র রাজনীতি থেকেই একজন ভবিষ্যৎ জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক জীবন এবং জনসংযোগের প্রাথমিক পাঠ শুরু হয়। কলেজের ক্লাস থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন, সেখান থেকে বৃহত্তর রাজনীতি— এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নেতৃত্ব তৈরি হয়।
কুণালের কথায়,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
ছাত্র রাজনীতি থেকে এলে সেই ছাত্র একদম কলেজ থেকে শুরু করে ক্লাস থেকে শুরু করে সিইউ নির্বাচন থেকে শুরু করে একজন যে জনপ্রতিনিধি যে পরে হবে, সে যে জনসংযোগটা শুরু করছে সোপানটা ওখান থেকেই শুরু হয়।
কুণালের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি বন্ধ রাখার যুক্তি দেখানো হলেও সেটি একতরফাভাবে তৃণমূলের সিদ্ধান্ত হতে পারে না। সব রাজনৈতিক দল অথবা রাষ্ট্র যদি একমত না হয়, তা হলে শুধু একটি দল নির্বাচন বন্ধ রাখবে কেন? তাঁর অভিযোগ, যাঁরা মমতাকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন আর দলের সঙ্গে নেই। কেউ অন্য দিকে চলে গিয়েছেন, কেউ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ক্ষতি শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকেই বহন করতে হচ্ছে।
কুণালের মতে, মমতা বহু স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছেন। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আরও বহু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করার স্বপ্ন দেখা যেত। ছাত্র রাজনীতিতে নির্বাচন না হওয়ায় সেই প্রক্রিয়াটাই ধাক্কা খেয়েছে। এটিকে তিনি তৃণমূলের বড় ‘মাইনাস পয়েন্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে তৃণমূলের অভ্যন্তরে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন কুণাল। তাঁর মতে, বিজেপির চক্রান্ত, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার মতো বিষয়গুলি নিয়ে দলের অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু তার পাশাপাশি নিজেদের ভুলগুলিও স্বীকার করা জরুরি। কুণালের বক্তব্য, নির্বাচনে যে পদ্ধতিগত ভুলগুলির কারণে দলের ক্ষতি হয়েছে, সেগুলি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। এই আলোচনা দলের ভিতরেই জোরালোভাবে হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন,
বিজেপি চক্রান্ত করেছে, নির্বাচন কমিশন ডুবিয়েছে, ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে, আমরা প্রকৃতপক্ষে হারিনি— এটা তো আছে। বাট আমাদের তো নিজেদেরটাও স্বীকার করতে হবে।
তাঁর মতে, পাড়ায় পাড়ায় মানুষের সঙ্গে কথা বললেই দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং অসন্তোষের বিষয়গুলি জানা যায়। সেগুলি নিয়ে দলের ভিতরে আলোচনা হওয়া দরকার ছিল।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোর পদ্ধতি নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল। তাঁর মতে, বিজেপির সাহায্য নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি তৃণমূল ভাঙতে যাঁদের ব্যবহার করছে, তাঁরা শেষ পর্যন্ত বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই পূরণ করছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,
আমার যদি কোনও ক্ষোভ বা কিছু থাকে, সে তো আমরা দলে শুধরে নিতে পারতাম। আমি তার জন্য বঙ্গভবনের পার্কিংয়ে গিয়ে শুভেন্দুর জন্য দাঁড়িয়ে থাকব কেন?
কুণালের বক্তব্য, দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলে তা দলের অভ্যন্তরেই মেটানো সম্ভব ছিল। সে কারণে বিজেপির নেতাদের সাহায্য নেওয়া কিংবা বিধানসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে দল ভাঙার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার বিরোধী তিনি।
উল্লেখ্যে, কুণালের বক্তব্যে তৃণমূলের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব তৈরির সংকটের দিকটিও উঠে এসেছে। মমতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা এবং দলের ভুল সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, দলের ভিতরে মতবিরোধ থাকলে তা দলের মধ্যেই আলোচনা করে মেটানো উচিত। বিজেপির সাহায্যে সেই লড়াই চালানো নয়, বরং নিজেদের ভুল সংশোধন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম লক্ষ্য।






