কমিশন বনাম তৃণমূল, যে ৬ সিদ্ধান্তে পক্ষপাতের অভিযোগ

election commission vs tmc: পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের একের পর এক সিদ্ধান্ত কি সত্যিই নিরপেক্ষ? এসআইআর-এ ২৭ লক্ষ ভোটার, ৪৮৩ আধিকারিক বদলি, হাজার হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী, বাইক নিষেধাজ্ঞা—কেন সব বিতর্কের কেন্দ্র শুধু বাংলা?

inscript
২ মিনিট
কমিশন বনাম তৃণমূল, যে ৬ সিদ্ধান্তে পক্ষপাতের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তগুলিকে বিজেপির পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন তার কার্যকলাপের সাফাই হিসেবে দাবি করেছে নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

এসআইআর

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া। এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী অভিযানটি আটটি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালানো হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এটি অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ ক্যাটাগরিতে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রাখা হয়েছে। শীর্ষ আদালত জানায়, ভোটাররা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন, কিন্তু এত অল্প সময়ে ২৭ লক্ষ লোকের নাম তোলা যে সম্ভব নয়, তা বোঝা কঠিন নয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু জীবিত ও বৈধ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, এটি একটি “বড় ধরনের কেলেঙ্কারি” এবং বিজেপির সুবিধার্থে ভোটার তালিকা থেকে বিরোধী ভোটারদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা। টিএমসি দাবি করেছে যে তাদের প্রচার ও আন্দোলনের ফলে প্রায় বহু নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কিন্তু এখনও অনেক বৈধ ভোটার বাদ রয়েছেন।

ব্যাপক আধিকারিক বদলি

আসাম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতে মিলিয়ে মাত্র ২৩ জন আধিকারিক বদলি করা হয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে একাই ৪৮৩ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে—যা অন্য চার রাজ্যের মোটের চেয়ে ২০ গুণেরও বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি জমানায় ৫০০% বেড়েছে ইডির অভিযান, শাস্তি হয়েছে ক'জনের?

Enforcement Directorate investigation increase: মোদি জমানায় ইডির মামলা ৫০০% বেড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে। ভোটের আগে বাংলায় ইডির তৎপরতা কি শুধুই তদন্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে বিরোধীদের কোণঠাসা করার বৃহত্তর কৌশল?

সশস্ত্র বাহিনীর বিপুল মোতায়েন

প্রথম দফায় ২,৪০০-এর বেশি কোম্পানি এবং দ্বিতীয় দফায় ২,৩২১ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। তুলনায়, মণিপুরের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সময় কেন্দ্র মাত্র ২৮৮ ইউনিট পাঠিয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে বাংলা কি কাশ্মীর, বাংলার অবস্থা কি মণিপুরের চেয়েও খারাপ?

দু-চাকার যানবাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচনের আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত দুই চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রী বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই নিয়মটিও শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই প্রয়োগ হয়েছে। পরে কলকাতা হাইকোর্ট এই সময়সীমা সংশোধন করে।

দুষ্কৃতীদের তালিকা:

নির্বাচন কমিশন ৮০০ জন ‘ট্রাবলমেকার’-এর তালিকা প্রকাশ করে পুলিশকে তাদের আটক করার নির্দেশ দেয়। সংবাদমাধ্যমে অনেকের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগসূত্র দেখানো হয়। কলকাতা হাইকোর্ট পরে এই পদক্ষেপ বাতিল করে দেয়।

আইপ্যাক-এ ইডি রেড

নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) হানা দেয় এবং চাপ সৃষ্টি করে।

এই ঘটনাগুলি প্রথমবার ঘটছে এমন নয়।

সার্বিক চিত্র দেখলে বোঝা যায়, বিজেপি শাসনকালে নির্বাচনের বিভিন্ন দিক—নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠন, ভোটার তালিকা প্রস্তুতি, আধিকারিক বদলি, নিরাপত্তা মোতায়েন—সবকিছুতেই হস্তক্ষেপ বেড়েছে। ঘৃণামূলক বক্তব্য, নির্বাচনের সময় সরকারি অর্থ বিতরণ, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘন উপেক্ষা এবং ভোটের দিন ভোটারদের ভয় দেখানো—এসব ঘটনাও দেখা গেছে।

Copy uthbe @⁨Tanvia Barua⁩ Decoder

GFX @⁨~Anindita Sur⁩

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।