ঠিক ভোটের মুখেই কেন গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর?

Vinesh Chandel: ভোটের মুখে আই-প্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতার। শুধুই কি কয়লা পাচার মামলার তদন্ত, নাকি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল?

inscript
৩ মিনিট
ঠিক ভোটের মুখেই কেন গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আর তার আগেই কয়লা পাচার মামলার তদন্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লি থেকে আই-প্যাকের ডিরেক্টর ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, অর্থ পাচার, আর্থিক তছরূপ এবং বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার গভীর রাতে আইপ্যাক কর্তাকে আটক করা হয়। এরপর রাতেই তাঁকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট-এ পেশ করা হয়। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত শুনানি চলে। এরপর আদালত ভিনেশকে ১০ দিনের জন্য ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

কী অভিযোগ?

তদন্তকারীদের দাবি, চান্ডেলের সঙ্গে যুক্ত একটি আর্থিক চক্রের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের হিসাববহির্ভূত টাকা লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা হাওয়ালা মারফত দেশ ও বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চক্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপের হদিশ মিলেছে বলে দাবি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইডি-সিবিআই ও ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতি: কেজরিওয়াল মামলার রায় কী বলছে?

Arvind Kejriwal verdict: স্বাভাবিকভাবেই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে এই মামলার ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং আম আদমি পার্টি পর্যদুস্ত হয়। সেই সময় গোদি মিডিয়া সমান্তরালভাবে কেজরিওয়াল এবং মণীশের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল চালাতে থাকে যাতে তাঁরা গণশত্রু হিসাবে জনতার দরবারে চিহ্নিত হতে পারেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে ভুয়ো বিল তৈরি, ব্যবসায়িক কারণে অসুরক্ষিত ঋণ নেওয়া এবং অঘোষিত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে ভিনেশের উপর। দিল্লি পুলিশের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয় এবং পরে তা অর্থ পাচার আইনের আওতায় নিয়ে আসে ইডি।

তল্লাশি ও আগের পদক্ষেপ?

এর আগে ২ এপ্রিল দিল্লিতে ভিনেশ চান্ডেলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। একই দিনে বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ের একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঋষিরাজ সিংয়ের বাড়িতেও তল্লাশি হয়। মুম্বইয়ে আরও একাধিক সংযোগস্থলেও অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

এই মামলায় আগেই আই-প্যাকের কর্তা প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিংকে তলব করা হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বেকসুর খালাস পেলেন কেজরিওয়াল! যেভাবে চলছে ‘ন্যারেটিভ’-এর যুদ্ধ

Arvind Kejriwal and Manish Sisodia: আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চার্জশিটে যে তথ্য ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ফৌজদারি ষড়যন্ত্র বা দুর্নীতির অপরাধ গঠনের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ভোটের আগে বিরোধী শিবিরকে চাপে ফেলতেই এই পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, এতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, এর আগেও এই মামলায় কলকাতায় আই-প্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাইল নিয়ে আসতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয় এবং বিষয়টি শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

কে এই ভিনেশ চান্ডেল?

ভিনেশ চান্ডেল একজন নির্বাচনী কৌশলবিদ। তিনি আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর এবং সংস্থার উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের একজন। এই সংস্থা রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী প্রচার, জনসংযোগ এবং কৌশল নির্ধারণে কাজ করে। সংস্থাটি গড়ে ওঠে প্রশান্ত কিশোর, প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিংয়ের উদ্যোগে।

ভিনেশ চান্ডেল আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন ভোপালের একটি জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পেশাগত জীবনের শুরুতে সাংবাদিকতা এবং আইন পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে কাজ শুরু করেন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছেন। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার কৌশলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হয়।

কেন গ্রেফতার?

ইডি-র দাবি, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আর্থিক তছরূপ, হাওয়ালা মারফত অর্থ পাচার এবং অঘোষিত লেনদেনের একাধিক প্রমাণ সামনে এসেছে। সেই সূত্রেই চান্ডেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে কী তথ্য প্রকাশ্যে আসে সেটাই দেখার। তবে, নির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার অতি সক্রিয়তা নিয়ে। বিজেপি কি ইডি-কে ব্যবহার করে চাপে ফেলতে চাইছে তৃণমূলকে?

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।

এসআইআর: মূল টার্গেট ছিল বাংলা?

SIR West Bengal controversy: এসআইআরের নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সুপরিকল্পিত? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কারচুপি ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটা?

Garment Workers' Protest in Bangladesh: বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি মূল্যবৃদ্ধি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার ক্ষোভ? সরকারের দাবির পক্ষে কতটা প্রমাণ রয়েছে?

সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা

Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।

৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত, মোদীর দাবির আড়ালে কোন পরিসংখ্যানগত বিতর্ক?

World Bank's claim about India's poverty decline: বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩-এ ভারতের চরম দারিদ্র্য ২৭.১% থেকে ২.৬%-এ নেমেছে বলে দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক প্রচারের কাজেও লাগাচ্ছেন। কিন্তু, পরিসংখ্যানের আড়ালে আসল সত্য কি? কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা?

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৫০-র বেশি কারখানা বন্ধ, কী বলছে বাংলাদেশ সরকার?

Bangladesh garment workers protest: মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৫০-র বেশি কারখানা বন্ধ, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার?

কেন পঞ্জাবে ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে আপের?

Major Setback for AAP in Punjab: ২০২২ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পঞ্জাবে ক্ষমতায় এসেছিল আম আদমি পার্টি। কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যেই দলের অন্দরে বিদ্রোহ, বিধায়কদের দলত্যাগ, মাদক সমস্যা, দুর্নীতি ও ঋণের বোঝা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২৭-এর নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখা কি কঠিন হয়ে উঠছে আপের?