এনসিপিআই থেকে এবার বিজেপি? সুদীপ-কাকলিদের ঘিরে নতুন জল্পনা
Rebel TMC MPs May Join BJP: এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ বিদ্রোহী সাংসদ? এমন পদক্ষেপে এনডিএর শক্তি কতটা বাড়তে পারে? দলত্যাগ বিরোধী আইন তাঁদের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে?
তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এক মাস আগেই তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেছিলেন। এখন আবার তাঁদের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও বিজেপি বা এনসিপিআই—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবু একাধিক রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, এই সম্ভাবনা নিয়ে শাসক জোটের অন্দরে আলোচনা চলছে।
বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো সাংসদ। এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর তাঁরা লোকসভায় পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি, আলাদা সংসদীয় অফিস এবং সাংগঠনিক পরিকাঠামোর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে তাঁদের সেই দাবি পুরোপুরি মেটেনি। সংসদে তাঁদের বসার আসনের পরিবর্তন হলেও পৃথক সংসদীয় দফতর বা অন্যান্য সাংগঠনিক সুবিধা এখনও পুরোপুরি মেলেনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির কাছে এই ২০ জন সাংসদ কেবল সংখ্যার অঙ্ক নয়, রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের থেকে উঠে আসা একদল সাংসদ যদি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে তা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সংসদে এনডিএ-র শক্তি আরও বাড়বে এবং বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে সরকার আরও স্বস্তির জায়গায় পৌঁছতে পারে।
তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কারণ এই সাংসদরা নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে। পরে তাঁরা দল ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। এখন যদি সেই নতুন দলও ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রশ্ন সামনে আসতে পারে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ritabrata and Mamata July 21 Rally: একদিকে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূলের সমাবেশ। অন্যদিকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ঋত-তৃণমূলের সভা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন বিধায়কের অধিকাংশই এখন ঋতব্রত শিবিরে। ফলে সাংগঠনিক শক্তির বিচারে সেই শিবিরই এগিয়ে। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের জনসমাগম দেখাল, সাংগঠনিক সমর্থন আর জনসমর্থন এক নয়।
ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা অ্যান্টি-ডিফেকশন আইন অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্বেচ্ছায় নিজের দলের সদস্যপদ ত্যাগ করলে বা দলীয় নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। যদিও কোনো রাজনৈতিক দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে অন্য দলে মিশে গেলে তাকে বৈধ 'মার্জার' হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এই কারণেই বিদ্রোহী সাংসদরা প্রথমে নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছিলেন।
কিন্তু পরিস্থিতি আবার বদলালে আইনি প্রশ্নও নতুন করে উঠতে পারে। যদি এনসিপিআই-র সাংসদরা দলগতভাবে বিজেপিতে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত দলত্যাগ আইনের আওতায় কীভাবে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত লোকসভার স্পিকার এবং প্রয়োজনে আদালতের ব্যাখ্যাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রতিটি ঘটনার বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা করে বিচার করা হয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও নিশ্চুপ বসে থাকবে না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। যদি বিদ্রোহী সাংসদরা বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে তৃণমূল দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানাতে পারে। অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে দলবদলের ঘটনায় আদালত এবং স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিজেপির দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টির রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রতিটি অতিরিক্ত সাংসদ সরকারের পক্ষে সুবিধাজনক। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী, বিতর্কিত বিল বা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে বেশি সংখ্যক সাংসদ সরকারকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারের ক্ষেত্রেও এই ধরনের যোগদান রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।
দলবদল শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সাংবিধানিক বিধান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজন হলে বিচারবিভাগের ব্যাখ্যাও। তাই বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধুমাত্র তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, দলত্যাগ বিরোধী আইন কীভাবে প্রয়োগ হবে, সেই প্রশ্নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।
আগামী কয়েক সপ্তাহে যদি এনসিপিআই এবং বিজেপির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমঝোতা হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। আর যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ আসার সম্ভাবনাও প্রবল। ফলে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা চলছে, তার উত্তর নির্ভর করছে সাংসদদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত, লোকসভার স্পিকারের অবস্থান এবং প্রয়োজন হলে আদা
লতের ব্যাখ্যার উপর।








