দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় কতটা লাগাম পড়বে?

US midterms 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দুর্গে বড় ধস নামিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শুল্কনীতি এবং যুদ্ধ সংক্রান্ত অসন্তোষের জেরে ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান করল ভোটাররা। বদলের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে?

Asish Gupta
৮ মিনিট
দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় কতটা লাগাম পড়বে?

সদ্য সমাপ্ত আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনের মাঝপথে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্গে বড় ধরনের ধস নামিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে শুধু প্রচলিত ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজ্যগুলিতেই নয়, কানসাস, টেক্সাস এবং সাউথ ক্যারোলিনার মতো ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকান-প্রভাবিত রাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের জয় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে। ৪ নভেম্বর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ১৮ টি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সেনেটেও অন্তত সাতটি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করেছে তারা। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম আগের নির্বাচনে সেনেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা দল পরবর্তী মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই নিয়ন্ত্রণ হারাল।

এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে আমেরিকার সমাজ ও অর্থনীতির ভিতরে জমে থাকা অসন্তোষ, বৈষম্য এবং রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, স্বাস্থ্য পরিষেবার অপ্রতুলতা, আবাসন সংকট, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, অভিবাসন নীতি এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য—এই সমস্ত বিষয় নির্বাচনী বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ট্রাম্পবিরোধী এই জনমত কি শুধুই ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, নাকি আমেরিকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় আরও মৌলিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারও প্রকাশ?

কানসাসের ফলাফল এই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ১৯৩২ সালের পর এই প্রথম রাজ্যটি থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হলেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প কানসাসে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সেই রাজ্যেই ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একইভাবে টেক্সাসে জেমস টালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন কে পরাজিত করেছেন। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম টেক্সাসে কোনো ডেমোক্র্যাট রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেলেন। সাউথ ক্যারোলিনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজের জয়ও উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম রাজ্যটি থেকে কোনও ডেমোক্রেট সিনেটর নির্বাচিত হলেন। আইওয়া, নর্থ ক্যারোলিনা এবং ওহাইওতেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ভিত্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভোটারদের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচনা করেছেন। বিপুল সংখ্যক ভোটার মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ ভোটার।

আমেরিকার অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম হলেও সেই সমৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরে সমানভাবে পৌঁছয় না। একদিকে কর্পোরেট সংস্থাগুলির বিপুল মুনাফা, সম্পদের কেন্দ্রীভবন এবং ধনকুবেরদের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। বাড়ির ভাড়া, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি এবং পরিবহনের ব্যয় সাধারণ মানুষের আয়ের উপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করছে। অর্থনীতির সামগ্রিক বৃদ্ধির পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। এই বৈপরীত্যই আমেরিকার রাজনৈতিক অসন্তোষের অন্যতম প্রধান উৎস।

ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছর পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর শুল্কনীতি বা ট্যারিফের প্রভাবও অর্থনীতিতে বিতর্ক তৈরি করেছে। আমদানি করা পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার যুক্তি প্রশাসন সামনে এনেছিল। কিন্তু আমদানিনির্ভর পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের খরচ বাড়লে তার বোঝা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের উপর পড়তে পারে। ব্যবসায়িক সংস্থাগুলিও বাড়তি ব্যয়ের অংশ ভোক্তাদের উপর চাপিয়ে দেয়। ফলে বাণিজ্য সুরক্ষার নামে নেওয়া নীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মিডটার্ম নির্বাচনে কে কত টাকা ঢাললেন?

US midterm elections 2026: আমেরিকার নির্বাচনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ব্যয়। ইলন মাস্ক ও জর্জ সোরোসের মতো ধনকুবেরদের অনুদান, সুপার প্যাক ও ডার্ক মানি কীভাবে আমেরিকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে?

এই নির্বাচনে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছিল। যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য শুধু সামরিক বাজেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। জ্বালানির বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পরিবহন ব্যয় এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপর তার প্রভাব পড়ে। জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। বিভিন্ন  রাজনৈতিক বিশ্লেষণেও যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়কে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমেরিকার সামরিক ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ব্যয়কারী রাষ্ট্র হিসেবে আমেরিকা প্রতিরক্ষা, অস্ত্র উৎপাদন, সামরিক অভিযান এবং বিদেশে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। অথচ দেশের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের কাছে প্রশ্নটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—যে অর্থ দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার এত বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় করার যৌক্তিকতা কী?

নির্বাচনে তরুণ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো ভোটারদের সমর্থন পরিবর্তনও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এক লক্ষেরও বেশি ভোটারকে নিয়ে করা AP Voter Poll অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সি ভোটারদের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন। ২০২৪ সালে এই তরুণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের সমর্থন প্রায় সমান ছিল। হিস্পানিক ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের প্রায় ৯০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। ৫০ হাজার ডলারের কম বার্ষিক আয়ের পরিবারের ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন। এই পরিসংখ্যান ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী জোটের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে তরুণ ও লাতিনো ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন হারানো রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভিতরেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের মধ্যপন্থী নেতৃত্বের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার সর্বজনীন অধিকার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্পোরেট পুঁজির উপর অধিক কর, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সামরিক ব্যয় কমানোর দাবিতে সরব একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে। বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ এবং রাশিদা তালিবের মতো নেতারা এই দাবিগুলিকে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন।

এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা বা DSA-র সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্যও উল্লেখযোগ্য। তাঁদের সমর্থনপুষ্ট অন্তত পাঁচজন প্রার্থী প্রতিনিধি পরিষদে জয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নিউইয়র্কের দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে ও ক্লেয়ার ভালদেজ, কলোরাডোর মেলাত কিরোস, মিশিগানের ডোনাভান ম্যাককিনি এবং পেনসিলভানিয়ার ক্রিস র‍্যাব। এই সাফল্য দেখাচ্ছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভিতরে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও কর্পোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে আরও সরাসরি অবস্থানের জন্য একটি নির্বাচনী ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিশু পরিচর্যা, শ্রমিকদের অধিকার এবং ধনীদের উপর অধিক করের মতো বিষয় তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান এবং মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়েও এই গোষ্ঠীর অবস্থান প্রচলিত দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা। তাঁদের একাংশ ইজরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। এই অবস্থান আমেরিকার তরুণ ভোটারদের একটি অংশের মধ্যেও সমর্থন পেয়েছে। তবে এই নির্বাচনী ফলাফলকে গোটা আমেরিকার সমাজের রাজনৈতিক আদর্শগত পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ভোটারদের একটি বড় অংশ মূলত জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার প্রভাব। নির্বাচনী সমীক্ষায় প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, কংগ্রেসের উচিত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার উপর আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর নির্বাহী ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ভোটারদের মধ্যে কাজ করেছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, সরকারি ব্যয়ের হিসাব পরীক্ষা এবং বিভিন্ন নীতির উপর নজরদারির সুযোগ পাবেন।

তবে ডেমোক্র্যাটদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখনই শুরু হচ্ছে। ট্রাম্পবিরোধী জনমতকে নির্বাচনী জয়ে রূপান্তরিত করা এক বিষয়, আর সেই জনমতের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন ঘটানো সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যে মধ্যপন্থী নেতৃত্ব এবং অধিকতর পরিবর্তনকামী প্রতিনিধিদের মধ্যে কর্পোরেট স্বার্থ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, করনীতি, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। নতুন কংগ্রেসে এই মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটরা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকা ভেটো ক্ষমতা অতিক্রম করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। ফলে নতুন আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় এবং করনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সামনে এখন দুটি দায়িত্ব—একদিকে প্রশাসনের নীতির উপর কার্যকর নজরদারি, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল আমেরিকার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, সম্পদের অসম বণ্টন এবং যুদ্ধনীতির প্রশ্নকে আর উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। কর্পোরেট সংস্থাগুলির বিপুল মুনাফা এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা ক্রমশ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসছে।

তবে ডেমোক্র্যাটদের জয় মানেই এই সমস্যাগুলির সমাধান নয়। নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে, মানুষ পরিবর্তন চাইছেন; কিন্তু সেই পরিবর্তনের প্রকৃতি ও পরিসর এখনও নির্ধারিত হয়নি। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কি কর্পোরেট স্বার্থের সঙ্গে প্রচলিত সমঝোতার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে? নাকি ট্রাম্পবিরোধী জনমতকে কাজে লাগিয়ে কেবল ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর আগামী দুই বছরে স্পষ্ট হবে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনরায়ের প্রকৃত রাজনৈতিক তাৎপর্য নির্ভর করবে, এই নির্বাচনী পরিবর্তন আমেরিকার সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে তার উপর।

লিখেছেন
Asish Gupta
Asish Gupta
3 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মিডটার্ম নির্বাচনে কে কত টাকা ঢাললেন?

US midterm elections 2026: আমেরিকার নির্বাচনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ব্যয়। ইলন মাস্ক ও জর্জ সোরোসের মতো ধনকুবেরদের অনুদান, সুপার প্যাক ও ডার্ক মানি কীভাবে আমেরিকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে?

মানুষ টাকা পেয়ে গেলে ভুলে যাবে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সম্পর্কে বললেন বিজেপি বিধায়ক সজল

Sajal Ghosh interview: ‘ভয় ছাড়া ভক্তি আসে না’— আইন-শৃঙ্খলা, দুর্গাপূজা বিতর্ক এবং তৃণমূলের দলবদল নিয়ে নিজের মতামত জানালেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।

ভারতের রাজনীতি কতটা বদলে দিয়েছেন মোদী?

25 years of Narendra Modi: ২৫ বছরে মোদী কতটা বদলে দিয়েছেন ভারতের রাজনীতি? উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রচারের ধরন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং জাতীয় পরিচয়ের ধারণা—কীভাবে বদলেছে দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র?

ব্রাজিল থেকে আমেরিকা যে কারণে দক্ষিণপন্থীদের শাস্তি দিচ্ছে শান্তিকামী মানুষ

The Alt - right Tide Turns: বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের ভিত্তি কেঁপে উঠেছে। হাঙ্গেরিতে ১৬ বছরের অরবান-শাসনের অবসান, সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনী বিজয়, ব্রাজিলে প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও লুলার জয়, আমেরিকায় মিডটার্মে ডেমোক্র্যাটদের সংসদের দুই কক্ষ দখল, সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অতি-দক্ষিণপন্থী জোয়ারে ভাটার সুর। তবে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালিতে দক্ষিণপন্থা এখনও টিকে আছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও চলছে জেনজিদের, শ্রমজীবী অভিবাসী মানুষদের বিক্ষোভ।

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?