চওড়ায় ২৪০০ ফুট! বিশাল পাথর ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, মহাপ্রলয়ের আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা?
Giant Asteroid Coming towards Earth : বিজ্ঞানীরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিশাল বড় একটি পাথরের টুকরো, অর্থাৎ গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে তীব্র গতিতে ছুটে আসছে।

একসময় মহাপ্রলয়ের দাপটে পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায় ডাইনোসর। হারিয়ে যায় বিশাল লম্বা দাঁতওয়ালা হাতি ‘ম্যামথ’। তাদের জীবাশ্ম এখন পৃথিবীর বিভিন্ন কোণায়, বিভিন্ন মিউজিয়ামে সজ্জিত রয়েছে। আমাদের, মানে মনুষ্যজাতিও কি সেরকমই বিপদে পড়তে চলেছে। ‘মহাপ্রলয়’ কি ফের একবার কড়া নাড়ছে দরজায়? সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের রিপোর্ট দেখে সেই ভয়টাই পাচ্ছেন সবাই। কেন? বিজ্ঞানীরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিশাল বড় একটি পাথরের টুকরো, অর্থাৎ গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে তীব্র গতিতে ছুটে আসছে।
এই মহাবিশ্বের কোথায় যে কী রয়েছে, তার সম্পূর্ণ হদিশ আজও কোনও বিজ্ঞানী পাননি। নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, ছায়ামণ্ডলের ভিড়ে আরও বেশ অনেকগুলি মহাজাগতিক বস্তু ঘোরাফেরা করছে মহাকাশে। সবাই যে ঘুরছে তা নয়, ব্ল্যাক হোলের মতো কেউ কেউ এক জায়গায় বসে তাণ্ডবলীলা ঘটাচ্ছে। যাই হোক, এই মহাজাগতিক বস্তুগুলির মধ্যেই একটি হল গ্রহাণু।
আদতে গ্রহের কোনও অংশ, পাথরের টুকরো বলা চলে। মহাকাশের নানা জায়গায়, নানা ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে এগুলি। পৃথিবীর দিকে এই গ্রহাণুদের ধেয়ে আসা নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে হামেশাই ছোট, মাঝারি গ্রহাণু ঢুকে পড়ে। তারপর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে সেগুলি জ্বলতে জ্বলতে মাটির দিকে নেমে আসে। আমরা একে বলি ‘উল্কাপাত’। অধিকাংশ গ্রহাণুই বায়ুমণ্ডলের ওই ঘর্ষণের জন্য জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যায়। পৃথিবীর ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে না।
কিন্তু সমস্ত গ্রহাণুই তো আর ছোট নয়! এদের মধ্যে বেশকিছু পাথর রয়েছে, যা দানবীয়। বিশাল বড় তার আকার। সেরকমই একটি গ্রহাণু হল 2005 YY128। এই বিশেষ গ্রহাণুটা নিয়েই ভয় পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ? বিস্তর গবেষণা করে ও লাগাতার পর্যবেক্ষণের পর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিশেষ গ্রহাণুটি প্রায় ২৪০০ ফুট চওড়া! মানে, আমেরিকার এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের থেকেও দ্বিগুণ বড়। ঘণ্টায় প্রায় ৮৮,৭৩৫ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে এটি।
সংঘর্ষ হওয়ার প্রচণ্ড সম্ভাবনা রয়েছে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতেই এই গ্রহাণু পৃথিবীর কাছে আসতে পারে। অবশ্য তাঁদের দাবি, আপাতত যা মনে হচ্ছে, তাতে পৃথিবী থেকে ৪.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব রেখে চলে যাবে। কিন্তু একটু এদিক থেকে ওদিক হলে এই গ্রহে এসে পড়বে। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে ৪.৫ মিলিয়ন কিমি দূরত্বটি অনেকটা বেশি মনে হলেও, মহাকাশের বিচারে সেটি ‘নগণ্য’! কিন্তু এরকম বড় গ্রহাণু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকলে সেখানে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। অবধারিতভাবে মাটির সঙ্গে সংঘর্ষ হবে। তাতে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
তবে এসব আশঙ্কার বাইরেও রয়েছে আরও একটি বিষয়। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বছর আরও বেশ কয়েকটি দানবীয় গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। সেগুলির একটির সঙ্গেও সংঘর্ষ হলে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। তাছাড়া ‘বেনোউ’ নামের আরও একটি গ্রহাণুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেটি এখনও অনেকটা দূরে। কিন্তু গতিপথ পৃথিবীর দিকে। সেটি এই গ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাতে পারে। যদিও ২১৭৫ থেকে ২১৯৫ সালের মধ্যে সেই ঘটনা ঘটবে বলে জানিয়েছে নাসা।






