চওড়ায় ২৪০০ ফুট! বিশাল পাথর ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, মহাপ্রলয়ের আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা?

Giant Asteroid Coming towards Earth : বিজ্ঞানীরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিশাল বড় একটি পাথরের টুকরো, অর্থাৎ গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে তীব্র গতিতে ছুটে আসছে।

inscript
২ মিনিট
চওড়ায় ২৪০০ ফুট! বিশাল পাথর ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, মহাপ্রলয়ের আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা?

একসময় মহাপ্রলয়ের দাপটে পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায় ডাইনোসর। হারিয়ে যায় বিশাল লম্বা দাঁতওয়ালা হাতি ‘ম্যামথ’। তাদের জীবাশ্ম এখন পৃথিবীর বিভিন্ন কোণায়, বিভিন্ন মিউজিয়ামে সজ্জিত রয়েছে। আমাদের, মানে মনুষ্যজাতিও কি সেরকমই বিপদে পড়তে চলেছে। ‘মহাপ্রলয়’ কি ফের একবার কড়া নাড়ছে দরজায়? সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের রিপোর্ট দেখে সেই ভয়টাই পাচ্ছেন সবাই। কেন? বিজ্ঞানীরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিশাল বড় একটি পাথরের টুকরো, অর্থাৎ গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে তীব্র গতিতে ছুটে আসছে।

এই মহাবিশ্বের কোথায় যে কী রয়েছে, তার সম্পূর্ণ হদিশ আজও কোনও বিজ্ঞানী পাননি। নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, ছায়ামণ্ডলের ভিড়ে আরও বেশ অনেকগুলি মহাজাগতিক বস্তু ঘোরাফেরা করছে মহাকাশে। সবাই যে ঘুরছে তা নয়, ব্ল্যাক হোলের মতো কেউ কেউ এক জায়গায় বসে তাণ্ডবলীলা ঘটাচ্ছে। যাই হোক, এই মহাজাগতিক বস্তুগুলির মধ্যেই একটি হল গ্রহাণু।

আদতে গ্রহের কোনও অংশ, পাথরের টুকরো বলা চলে। মহাকাশের নানা জায়গায়, নানা ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে এগুলি। পৃথিবীর দিকে এই গ্রহাণুদের ধেয়ে আসা নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে হামেশাই ছোট, মাঝারি গ্রহাণু ঢুকে পড়ে। তারপর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে সেগুলি জ্বলতে জ্বলতে মাটির দিকে নেমে আসে। আমরা একে বলি ‘উল্কাপাত’। অধিকাংশ গ্রহাণুই বায়ুমণ্ডলের ওই ঘর্ষণের জন্য জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যায়। পৃথিবীর ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে না।

কিন্তু সমস্ত গ্রহাণুই তো আর ছোট নয়! এদের মধ্যে বেশকিছু পাথর রয়েছে, যা দানবীয়। বিশাল বড় তার আকার। সেরকমই একটি গ্রহাণু হল 2005 YY128। এই বিশেষ গ্রহাণুটা নিয়েই ভয় পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ? বিস্তর গবেষণা করে ও লাগাতার পর্যবেক্ষণের পর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিশেষ গ্রহাণুটি প্রায় ২৪০০ ফুট চওড়া! মানে, আমেরিকার এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের থেকেও দ্বিগুণ বড়। ঘণ্টায় প্রায় ৮৮,৭৩৫ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে এটি।

সংঘর্ষ হওয়ার প্রচণ্ড সম্ভাবনা রয়েছে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতেই এই গ্রহাণু পৃথিবীর কাছে আসতে পারে। অবশ্য তাঁদের দাবি, আপাতত যা মনে হচ্ছে, তাতে পৃথিবী থেকে ৪.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব রেখে চলে যাবে। কিন্তু একটু এদিক থেকে ওদিক হলে এই গ্রহে এসে পড়বে। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে ৪.৫ মিলিয়ন কিমি দূরত্বটি অনেকটা বেশি মনে হলেও, মহাকাশের বিচারে সেটি ‘নগণ্য’! কিন্তু এরকম বড় গ্রহাণু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকলে সেখানে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। অবধারিতভাবে মাটির সঙ্গে সংঘর্ষ হবে। তাতে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

তবে এসব আশঙ্কার বাইরেও রয়েছে আরও একটি বিষয়। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বছর আরও বেশ কয়েকটি দানবীয় গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। সেগুলির একটির সঙ্গেও সংঘর্ষ হলে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। তাছাড়া ‘বেনোউ’ নামের আরও একটি গ্রহাণুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেটি এখনও অনেকটা দূরে। কিন্তু গতিপথ পৃথিবীর দিকে। সেটি এই গ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটাতে পারে। যদিও ২১৭৫ থেকে ২১৯৫ সালের মধ্যে সেই ঘটনা ঘটবে বলে জানিয়েছে নাসা।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?