৩১ বছর পর বন্ধ হয়ে গেল ইন্টারনেটের অন্যতম পুরোনো প্রকাশনা স্যালন
Salon Magazine Shutdown: তিন দশক পর কেন বন্ধ হয়ে গেল ইন্টারনেটের অন্যতম পুরোনো প্রকাশনা স্যালন? ১৯৯৫ সালে সান ফ্রান্সিসকো থেকে শুরু হয়ে কীভাবে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভিত্তি গড়েছিল এই ম্যাগাজিন? কেন বিজ্ঞাপন কমে যাওয়া, এআই আর বদলে যাওয়া ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবসায়িক পরিস্থিতির চাপে আর টিকতে পারল না স্যালন? পুরোনো আর্কাইভ কি এখনও পড়া যাবে?
ইন্টারনেটের শুরুর দিকের অন্যতম অগ্রণী প্রকাশনা স্যালন তিন দশকেরও বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে গেল। ৩১ বছর চলার পর ৫ নভেম্বর ২০২৬ প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা করেছে যে তারা আর প্রকাশনা চালাবে না। ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল স্যালন। তার বন্ধ হওয়ার খবরে স্তব্ধ অনুরাগীরা।
১৯৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে শুরু হয়েছিল স্যালন। সে সময় ইন্টারনেট এখনকার মতো এত উন্নত ছিল না। বেশিরভাগ মানুষই কম্পিউটারে খুব কম সময় কাটাতেন। সেই সময় কিছু সাংবাদিক মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তারা অনলাইনেই একটি নতুন ধরনের ম্যাগাজিন তৈরি করবেন। তাদের লক্ষ্য ছিল রাজনীতি, শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীন ও সাহসী লেখা প্রকাশ করা। স্যালনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন ডেভিড ট্যালবটসহ কয়েকজন সাংবাদিক। তারা চেয়েছিলেন পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে এবং এমন সব বিষয় তুলে ধরতে যা সাধারণ সংবাদপত্রে কম দেখা যায়।
১৯৯৫ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে প্রতিষ্ঠিত স্যালন বলেছে, এর কাজ “সাংবাদিকতার এমন একটি ধারার পথপ্রদর্শক হতে সাহায্য করেছিল যা প্রকাশনার এক সম্পূর্ণ নতুন যুগের সূচনা করবে।"
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mahatma Gandhi's Journalism and Subscription Economy: বিজ্ঞাপন ছাড়াই সংবাদপত্র টিকে থাকতে পারে? গান্ধীজি কীভাবে ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’, ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’, ‘নবজীবন’ ও ‘হরিজন’-এর মতো পত্রিকাকে শুধুমাত্র গ্রাহকদের অর্থে চালিয়েছিলেন? তাঁর সাংবাদিকতা, গ্রাহক-অর্থনীতি ও স্বাধীন গণমাধ্যমের সেই মডেল আজকের বাণিজ্যিক সংবাদমাধ্যমের জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
প্রকাশনাটি ১৯৯০-এর দশক জুড়ে তার কাজের জন্য অসংখ্য পুরস্কার জিতেছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টাইম ম্যাগাজিনের ১৯৯৬ সালের বর্ষসেরা ওয়েবসাইট এবং বিজনেসউইকের ১৯৯৭ সালের সেরা ওয়েবসাইটের পুরস্কার।
২০০০-এর দশকে স্যালনের অনেক সম্পাদকীয় কর্মী নিউইয়র্কে চলে যান। ২০১১ সালে কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ স্যালনকে ইন্টারনেটের সবচেয়ে পুরোনো সাধারণ আগ্রহের প্রকাশনা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এটি রাজনীতি, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার বিষয়ে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ ও মতামত প্রকাশের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে। অনেক বিখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক এখানে লিখেছেন।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমেছে, পাঠকদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সার্চ ইঞ্জিনের পরিবর্তনও অনেক অনলাইন মিডিয়াকে চাপে ফেলেছে। স্যালন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “গত কয়েক বছরে স্বাধীন ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবসায়িক বাস্তবতা ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। সবদিক বিবেচনার পর আমরা এই কঠিন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, আমাদের প্রকাশনা মডেলটি আর চলনসই নয়। আমরা জানি, এই খবরটি আপনাদের অনেকের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হবে এবং আমরাও সেই দুঃখের অংশীদার।”
স্যালনের অফিসিয়াল বিদায়ী বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “স্যালন কখনোই শুধু একটি ওয়েবসাইট ছিল না। এটি ছিল সাংবাদিকতা কী হতে পারে, সেই সম্পর্কিত একটি ধারণা; যার জন্ম হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন ইন্টারনেট ছিল মূলত এক অনাবিষ্কৃত ক্ষেত্র।” তারা তাদের সাংবাদিক, সম্পাদক, ফটোগ্রাফার, ডিজাইনার এবং সব সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছে। পাঠকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছে যারা বছরের পর বছর ধরে পড়েছেন, শেয়ার করেছেন এবং মতামত দিয়েছেন।
স্যালনের জন্মদিন ২০ নভেম্বর। তার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই এই ঘোষণা করা হয়। স্যালন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, "একত্রিশ বছর একটি অসাধারণ যাত্রা, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই বছরগুলোতে যা ঘটেছে: সাংবাদিকতা, ভাবনা, কণ্ঠস্বর, আলোচনা এবং সেগুলোকে ঘিরে গড়ে ওঠা সম্প্রদায়। ডিজিটাল সাংবাদিকতা কী হতে পারে এবং কী হয়ে উঠতে পারে, তা দেখাতে স্যালন সাহায্য করেছে। আমরা আশা করি, আজকের পরেও এই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বজায় থাকবে।"
এখন স্যালনের পুরোনো আর্কাইভ কিছুদিনের জন্য অনলাইনে থাকবে বলে জানা গিয়েছে। যারা পুরোনো লেখা পড়তে চান, তারা এখনও দেখতে পারবেন। তবে নতুন কোনো লেখা আর প্রকাশ হবে না।







