তৃণমূলে ভাঙনের পর বিজেপির নতুন টার্গেট কারা? সংসদের অঙ্কে বাড়ছে জল্পনা

BJP parliamentary strategy: তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ও শিবসেনার একাংশ এনডিএর দিকে যাওয়ার পর কি এবার বিজেপির নজর সমাজবাদী পার্টির দিকে? লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যেই কি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে? এই কৌশল কি সংবিধান সংশোধন, ডিলিমিটেশন ও 'এক দেশ এক ভোট' পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত?

Tanvia Barua
৭ মিনিট
তৃণমূলে ভাঙনের পর বিজেপির নতুন টার্গেট কারা? সংসদের অঙ্কে বাড়ছে জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়। কিন্তু ভোটের ফলের চেয়েও বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লোকসভায় তৃণমূলের এক বড় অংশের সাংসদ দলছাড়া হয়েছেন। একই সময়ে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাতেও ভাঙন দেখা গিয়েছে। এই দুই ঘটনাকে আলাদা করে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এর পিছনে রয়েছে অনেক বড় একটি সংসদীয় কৌশল—লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল ও শিবসেনার পর এবার বিজেপির নজর কি উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির দিকে? শুধু সরকার টিকিয়ে রাখাই নয়, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা অর্জনের লক্ষ্যেই কি বিরোধী দলগুলির সাংসদদের নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে? সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই জল্পনাকেই আরও জোরালো করেছে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। দলটি ২৪০টি আসনে জিতলেও সরকার গঠনের জন্য নির্ভর করতে হয়েছে এনডিএ-র শরিকদের উপর। বিশেষ করে তেলুগু দেশম পার্টি ও জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর সমর্থন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে তৃতীয়বারের মোদী সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই জোটসঙ্গীদের উপর নির্ভরশীল ছিল।

এই অবস্থায় দিল্লির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। লক্ষ্য, বিরোধী শিবিরের এমন সব সাংসদদের একত্রিত করা, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ না দিলেও সংসদে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন। অর্থাৎ, দল ভাঙলেও সবাইকে বিজেপিতে নেওয়া নয়; বরং পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রেখে সংখ্যার অঙ্কে এনডিএকে শক্তিশালী করা।

তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ঠিক এই মডেলই দেখা গিয়েছে। প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ বিজেপিতে যোগ না দিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নামে একটি ছোট দলে যোগ দিয়েছেন। পরে তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে নিজেদেরই আসল তৃণমূল দাবি করে সংসদে পৃথক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চেয়েছেন এবং একই সঙ্গে এনডিএ সরকারকে গঠনমূলক সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন।

দলত্যাগীদের সরাসরি বিজেপিতে নিলে রাজনৈতিক সমালোচনা আরও তীব্র হতে পারত। কিন্তু আলাদা দলে রেখে এনডিএকে সমর্থনের পথ বেছে নেওয়ায় বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সদস্যসংখ্যা না বাড়িয়েও কার্যত সংসদে সমর্থনের ভিত্তি বিস্তৃত করার সুযোগ পাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেক ইন ইন্ডিয়ার স্বপ্ন নির্ভর করছে ক্ষুদ্র উদ্যোগের উপরই?

India unincorporated sector: ভারতের অর্থনীতির আসল ভরসা অসংগঠিত বা আনইনকর্পোরেটেড ক্ষেত্রই? সরকারি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বাড়লেও শ্রমিকের মজুরি, উৎপাদনশীলতার বৈষম্য এবং বিনিয়োগ কমার প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাহলে এই খাতকে শক্তিশালী না করে কি অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব?

একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মহারাষ্ট্রেও। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার একাধিক সাংসদ শিন্ডে শিবসেনার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিন্ডেপন্থী শিবসেনা ইতোমধ্যেই এনডিএর শরিক। ফলে এখানেও বিজেপির সদস্যসংখ্যা না বাড়লেও সরকারের সমর্থনভিত্তি শক্তিশালী হচ্ছে।

এই ঘটনাগুলির পরে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সমাজবাদী পার্টিকে নিয়ে। উত্তরপ্রদেশের এই দলের লোকসভায় ৩৭ জন সদস্য রয়েছেন। দলবদল সংক্রান্ত আইনের আওতায় দুই-তৃতীয়াংশ ভাঙন দেখাতে হলে প্রয়োজন হবে অন্তত ২৬ জন সাংসদের সমর্থন। সেই কারণেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য কি সমাজবাদী পার্টি?

যদিও এ বিষয়ে সরকারি বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য নেই, তবু দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কারণ, সংসদে এখনও বিজেপি কাঙ্ক্ষিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেকটাই দূরে।

তিনটি আসন খালি থাকায় বর্তমানে লোকসভায় কার্যকর সদস্য রয়েছেন ৫৪০ জন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে প্রয়োজন ৩৬০ জন সদস্যের সমর্থন। এনডিএর বর্তমান সংখ্যা প্রায় ২৯৩। তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন এবং উদ্ধবপন্থী শিবসেনার ৬ জনকে যোগ করলে সমর্থনের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩১৯। অর্থাৎ এখনও আরও ৪১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

এই কারণেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির কৌশল এখানেই শেষ হচ্ছে না। সমাজবাদী পার্টিতে যদি উল্লেখযোগ্য ভাঙন ধরানো যায়, তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যার অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে। এরপরও কিছু সংখ্যার ঘাটতি থাকবে, যার জন্য দক্ষিণ ভারতের কোনো বড় দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলায় ইউসিসি বিলের প্রস্তুতি: কী বলছে আইন, কী বলছে রাজনীতি?

Uniform Civil Code: পশ্চিমবঙ্গে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল পেশের সম্ভাবনা ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউসিসি আসলে কী, এটি কি শুধুই মুসলিম পার্সোনাল ল-এর প্রশ্ন, নাকি সব ধর্মের ব্যক্তিগত আইনকে এক আইনি কাঠামোয় আনবে?

এই জায়গাতেই উঠে আসছে ডিএমকের নাম। লোকসভায় ডিএমকের ২২ জন সাংসদ রয়েছেন। তামিলনাড়ুর এই দল দীর্ঘদিন ধরেই সংসদের আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন এবং জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বৃদ্ধির বিরোধিতা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে আসন বৃদ্ধি হলে উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাবে।

এই অবস্থায় ডিএমকের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের জন্য তাদের অবস্থান ভবিষ্যতের সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এত আগ্রহের কারণও স্পষ্ট। সংবিধান সংশোধনের জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মোট সদস্যসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতাও আবশ্যক।

বিজেপির দীর্ঘদিনের কয়েকটি রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা, সংসদের আসন বৃদ্ধি, ডিলিমিটেশন এবং 'এক দেশ এক ভোট' ব্যবস্থা চালুর মতো বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির অনেক ক্ষেত্রেই সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে সংসদে শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিজেপির কাছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

রাজ্যসভার চিত্র অবশ্য লোকসভার তুলনায় এনডিএর পক্ষে কিছুটা সুবিধাজনক। বিভিন্ন সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পরে উচ্চকক্ষে এনডিএর সংখ্যা বেড়েছে। তৃণমূলের কয়েকটি শূন্য আসনে ভবিষ্যতে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। ফলে দুই-তৃতীয়াংশের লক্ষ্যে রাজ্যসভায় দূরত্ব তুলনামূলকভাবে কম।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস ইতোমধ্যেই স্পিকারের কাছে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। দলের বক্তব্য, সাংসদরা দলবিরোধী কাজ করেছেন এবং তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হওয়া উচিত। অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করছে, তারা দলত্যাগ করেনি; বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হিসেবে নতুন অবস্থান নিয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে বিদ্রোহী সাংসদদের অধিকাংশকেই বিজেপি নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেনি। বরং আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে রেখে এনডিএ-র সমর্থক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে দলবদল নিয়ে সরাসরি সমালোচনার চাপ কিছুটা কমে, অন্যদিকে সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থনও পাওয়া যায়। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এই মডেল ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে বিজেপির এই সংসদ-কেন্দ্রিক কৌশল কতটা সফল হয়। সমাজবাদী পার্টিতে কোনো ভাঙন ঘটে কি না, ডিএমকে ভবিষ্যতে কী অবস্থান নেয় এবং স্পিকারের সিদ্ধান্তের পরে আদালত কী রায় দেয়—এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার একাংশের সরে যাওয়া আপাতদৃষ্টিতে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক ঘটনা হলেও, সংসদের সংখ্যার অঙ্কে সেগুলির প্রভাব অনেক বড়। কারণ, এগুলি শুধু সরকার টিকিয়ে রাখার লড়াই নয়; বরং ভবিষ্যতের আইন প্রণয়ন, সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেই এখন রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

ফলে এখন নজর উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি এবং তামিলনাড়ুর ডিএমকের দিকে। আগামী দিনে বিজেপি সংসদে কাঙ্ক্ষিত দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের আরও কাছে পৌঁছতে পারে কি না, সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন পথে এগোবে।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

খ্রিস্টধর্ম পালন করায় পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি, ভাটোরায় আক্রান্ত দম্পতি

Howrah Christian family: হাওড়ার ভাটোরায় প্রায় আট বছর ধরে খ্রিস্টধর্ম পালন করা এক পরিবারের উপর হামলা, মারধর ও গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। কেন ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠছে? স্থানীয়দের একাংশের আচরণের অভিযোগ কতটা সত্য?

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

কুমোরটুলিতে কেন এখনও হাতে গোনা মহিলা মৃৎশিল্পী?

Women in Kumartuli’s Idol-Making Tradition: কুমোরটুলিতে দুর্গার প্রতিমা গড়ার কাজে এখনও কেন হাতে গোনা মহিলা শিল্পী? ‘মেয়েদের কাজ নয়’—এই ধারণা, কাজের শারীরিক পরিশ্রম এবং পুরুষ-প্রধান পরিবেশ পেরিয়ে কীভাবে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন চায়না পাল, মালা পাল, কাকলি পালরা?

ঋষি অগস্ত্যের ব্যাটারি! সংঘ পরিবারের স্কুলগুলোর আজগুবি শিক্ষা ঢুকে পড়ছে সরকারি উচ্চশিক্ষায়

From Vidya Bharati Textbooks to Universities: রাজ্যে বিদ্যাভারতী পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা বেড়ে হাজার হোক, চান মুখ্যমন্ত্রী। সংখ্যায় যতই বাড়ুক, তাদের পাঠ্যক্রম বহির্ভূত শিক্ষা ইতোমধ্যেই সরকারি পাঠক্রমে ঢুকে গিয়েছে। উচ্চশিক্ষাতেও।

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ব্রিকস: অর্থনীতির হিসেব-নিকেশ

BRICS Economic Power: মার্কিন শুল্কনীতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ডলারের আধিপত্য ও পশ্চিমী নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কি ব্রিকস সত্যিই বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে? গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় ব্রিকসের ঘোষিত নীতিগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, ডি-ডলারাইজেশন, বৈশ্বিক করব্যবস্থা এবং সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থের সংঘাত কি ব্রিকসের সেই সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করছে? ভবিষ্যতে এর ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে?

১৯৬৯-এর কংগ্রেস থেকে ২০২৬-এর তৃণমূল: যেভাবে ভারতে দল ভেঙেছে বারবার

Politics of Party Splits in India: ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস ভাঙার মধ্য দিয়ে যে প্রক্রিয়া শুরু, ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন তারই ধারাবাহিকতা। নেতৃত্বের লড়াই, মতাদর্শিক সংঘাত ও নির্বাচনী কৌশল—প্রতিটি ভাঙনের পিছনে একাধিক কারণ। দশম তফসিল ও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ভাঙনকে আইনি কাঠামোয় বাঁধতে চেয়েছে, তবুও 'প্রকৃত দল' বা আদি প্রতিষ্ঠাতা নির্ণয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গিয়েছে বহুবার।

মমতা ফিরে পাবেন তাঁর আঁকা জোড়াফুল?

Mamata Banerjee TMC Symbol: তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক কি শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ফিরবে? জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ কী? কী বলছে আইন?