দলিতদের ক্ষোভ থেকে রাহুলকে মন্দিরে ঢুকতে বাধা, মন্দির উদ্বোধনে যা হচ্ছে দেশ জুড়ে
Ram Mandir inauguration in Ayodhya: এমনিতেই অযোধ্যা রামমন্দির উদ্বোধন নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই দেশজুড়ে। কেউ দাঁড়িয়েছেন মন্দিরের পক্ষে। কেউ আবার বিরোধিতায় সরব।

অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন। সেখানে নবনির্মীত মন্দিরে প্রতিষ্ঠা হবে রামলালার প্রাণ। এদিকে ঠিক সেদিনই বিক্ষোভে ফাটল কর্ণাটকের একটি ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রাম, যেখানকার পাথর দিয়ে তৈরি হয়েছেন স্বয়ং রামলালা। যে মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে অযোধ্যায়। সোমবার সকালে সেখানকার বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সিমহা গ্রামে ঢুকতে তাঁকে বাধা দেয় স্থানীয় দলিত বাসিন্দারা।
কর্ণাটকের মাইসুরু জেলার ওই এলাকা থেকে দু'বারের লোকসভা সদস্য বিজেপি নেতা প্রতাপ সিমহা। ২০১৪ ও ২০১৯ সাল, দু'বারই লোকসভা ভোটে ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রতাপ। দিন কয়েক আগেই সংসদভবনে অনুপ্রবেশ কাণ্ডে নাম জড়ায় তাঁর। জানা যায়, তাঁরই সাংসদ টিকিট ব্যবহার করেছিল দুষ্কৃতীরা লোকসভায় প্রবেশের জন্য। শুধু তাই নয়, প্রায়শই দলিতদের নিয়ে বিতর্কিত মতামত প্রকাশের জন্যও বিখ্যাত এই বিজেপি সাংসদ।
এবার রামমন্দিরের উদ্বোধনের দিন দলিতদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি সাংসদ। ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, গলায় গেরুয়া বসব জড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সাংসদ। আর সামনে বিক্ষোভরত মানুষজনের ভিড়। কন্নড় ভাষায় ক্ষোভ জানাচ্ছেন তাঁরা। পরে প্রতাপ সিমহার পুলিশ এসকর্টরা এসে ভিড় থেকে বের করে আনেন সাংসদকে। ওই ভিড়ে শুধু স্থানীয় বিধায়করাই ছিলেন না, ছিলেন জনতা দল (সেকুলার)-র জিটি দেবেগৌড়াও। ঘটনাক্রমে কর্ণাটকে বিজেপির জোটসঙ্গী এই দলটি।
In a major embarrassment to
MP Pratap Simha, villagers stopped him from participating in the
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Babri Masjid and Ram Mandir : ২০০৩ সালের ২২ জানুয়ারির ভোর রাতে এই অস্ট্রেলিয়ান পাদ্রী, যিনি ১৯৬৫ সাল থেকে ওড়িশার কুষ্ঠরোগীদের জন্য কাজ করতেন, তাঁকে পুড়িয়ে মেরেছিল বজরং দল।
in
’s Mysuru, claiming he is anti dalit and that he never visited this village before. This is where the rock was sourced for the statue of
.
— Pratiba Raman (@PratibaRaman)
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Babri Masjid Demolition and Ram Mandir Verdict : আদালত মন্দির ভেঙে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
গত কয়েক দশক ধরে ওই এলাকার দলিত বাসিন্দারা অবহেলার শিকার বলে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, হাল্কা সবুজ জামা পরা এক বিক্ষোভকারীকে ক্ষোভপ্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। বারবার তিনি ক্ষোভ দেখিয়ে সাংসদকে বলেন, তাঁরা রামকেও শ্রদ্ধা করেন। তাঁরা সব সময়ে সব কিছু করলেই, তাঁদের জন্য কিছুই করেনি সরকার। এরপর দুদিকেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে। রেগে যান সাংসদ সিমহাও। পরে সেই বাকযুদ্ধ হাতাহাতিতে গড়ানোর পরিস্থিতি এলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
অযোধ্যার রামমন্দির প্রতিষ্ঠার ঠিক আগেই কেন মাইসুরুর ওই গ্রামে বিশেষ সফর করলেন সাংসদ? উঠেছে প্রশ্ন। এদিকে যখন কর্ণাটকে গ্রামে ঢুকতে বাঁধা পাচ্ছেন বিজেপি সাংসদ, অন্য় দিকে, অসমের বটদ্রভ সাত্রা মন্দিরে ঢুকতে পারলেন না কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। পনেরো শতকের অসমের সাধু ও বিদ্বান শ্রীমন্ত শঙ্করাদেবার জন্মস্থান সেটি। অসমের নাগাওয়ে অবস্থিত ওই মন্দিরটি। তবে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি রাহুলকে।
রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা' শুরু করেছে কংগ্রেস। রাহুলের প্রশ্ন, কেন তাঁকে কেন ওই মন্দিরে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এমন কী অপরাধ তাঁরা করেছেন, যে মন্দিরে তাঁরা প্রবেশ করতে পারবেন না। একদিন আগেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা রাহুল গান্ধীকে ভারত জোড়ো যাত্রার পথ পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করেছন। অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাহুলের ভারত জোড়া যাত্রার পথের সঙ্গে সেই অনুষ্ঠানের রাস্তা মিলে গেলে সমস্যা হতে পারে বলে দাবি করা হয়।
मुझे मंदिर नहीं जाने दिया जा रहा है. ये नहीं चाहते कि मैं मंदिर जाऊं.
साफ है कि 'ऊपर' से आदेश आया है.
:
जी
— Congress (@INCIndia)
সোমবার মন্দিরে প্রবেশে বাধা পেয়ে ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধিরা। জানান, এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই কি সিদ্ধান্ত নেবেন, কে মন্দিরে ঢুকবে আর কে ঢুকবে না! একজনই মাত্র মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন এখন। নাগাওয়ের কাছে অবস্থান বিক্ষোভও দেখান রাহুল গান্ধিরা। হিমন্তের বক্তব্য, একদিকে টিভি চ্যানেলগুলি একদিকে রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, সেসময় রাহুল গান্ধি সেসময় মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের জন্মস্থান পরিদর্শন করবেন, ব্যাপারটা ভালো দেখায় না। সেজন্যই এই নিষেধাজ্ঞা।
স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই দেশব্যপী প্রতিবাদ কর্মসূচি করার কথা ঘোষণা করেছে। অসমে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় কনভয়ে 'পরিকল্পিক হামলা'-র অভিযোগ করা হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী বলেও তোপ দেগেছে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। সব মিলিয়ে রামমন্দিরের উদ্বোধন আর কংগ্রেসের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা ঘিরে যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়িয়েছে অসমে। এদিকে, রামমন্দিরে রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা ঘিরে কর্ণাটকেও অশান্তির আবহ।
এমনিতেই অযোধ্যা রামমন্দির উদ্বোধন নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই দেশজুড়ে। কেউ দাঁড়িয়েছেন মন্দিরের পক্ষে। কেউ আবার বিরোধিতায় সরব। এই পরিস্থিতিতে অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সাত হাজারেরও বেশি মানুষের ভিড় হয়েছে সেখানে। একদিন পরে অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে যাবে মন্দিরের দরজা।







