‘সব ভুল হয়ে গিয়েছে’ ভাবছেন? ৩৫-এর পরও জীবন ও কেরিয়ার নতুন করে সাজানো যায়

Ankur Warikoo career advice: কর্মজীবনে ৩৫ বছর বয়সে এসে ধাক্কা খাওয়াটা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে যখন মনে হয়, বছরের পর বছর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তাঁর আর নেই। সম্প্রতি এমন এক কর্মী উদ্যোক্তা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অঙ্কুর ওয়ারিকুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর শিক্ষাগত জীবনের ব্যাকগ্রাউন্ড, মানসিক লড়াই, কেরিয়ারের অনিশ্চয়তা এবং ছাঁটাইয়ের আশঙ্কার কথা জানান। ওয়ারিকু সেই কর্মীকে কিছু পরামর্শ দেন।

inscript
৩ মিনিট
‘সব ভুল হয়ে গিয়েছে’ ভাবছেন? ৩৫-এর পরও জীবন ও কেরিয়ার নতুন করে সাজানো যায়

অঙ্কুর ওয়ারিকুকে এক ৩৫ বছর বয়সি কর্মী একটি ইমেইল পাঠান। ওই কর্মী জীবনের এক 'ক্রিটিক্যাল টার্নিং পয়েন্ট'-এ দাঁড়িয়ে আছেন। বছরের পর বছর খারাপ সিদ্ধান্ত, দীর্ঘসূত্রতা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকার পরিণতি এই পরিস্থিতি।

শিক্ষা জীবনেও একের পর এক বাধা এসেছে তাঁর। একাদশ শ্রেণিতে অনুত্তীর্ণ হয়ে স্কুল পরিবর্তন, এরপর দ্বাদশ শ্রেণিতেও অকৃতকার্য হওয়া—সব মিলিয়ে পড়াশোনার পথটা সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত এনআইওএস-এর মাধ্যমে স্কুলের গণ্ডি পার হন তিনি। পরবর্তীতে বিসিএ-তে ভর্তি হলেও মনোযোগের অভাব এবং মাদক ও মদের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে পড়াশোনা অসম্পূর্ণ রেখেই বেরিয়ে আসতে হয় তাঁকে।

২০-এর কোঠায় তিনি বিপিও এবং কাস্টমার সার্ভিস রোলে কাজ করেছেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। ২০১৮ সালে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তীব্র মানসিক উদ্বেগে ভোগেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর তিনি পুরোপুরি অ্যালকোহল ছেড়ে দেন। ২০২০ সালে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করেন। তারপর স্ত্রীই তাঁকে সেই সময় সাহায্য করেছে।

কর্মজীবনেও ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করেছিল। ২০২২ সালে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই 'স্পিচ-টু-টেক্সট' সিস্টেমের কোয়ালিটি এবং টেস্টিং বিভাগে স্থানান্তরিত হন। তিন বছর পর, ২০২৫ সালে তিনি 'গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালিস্ট' পদে পদোন্নতি পান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পরিবেশ বাঁচাতে ১৪ বছরের কিশোরের অভিনব আবিষ্কার, ৩০ দিনে মাটিতে মিশে যায় প্লাস্টিকের বিকল্প ট্রে

Biodegradable food tray: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুপারমার্কেট বা স্থানীয় বাজারে ফল, শাকসবজি কিংবা কাঁচা মাংস প্যাকেজিংয়ের জন্য সাদা রঙের যেসব হালকা ট্রে ব্যবহার করা হয়, সেগুলির বড় অংশই এক্সপ্যান্ডেড পলিস্টাইরিন বা স্টাইরোফোম দিয়ে তৈরি। দেখতে সুন্দর এবং অত্যন্ত হালকা হওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের কাছেই এটি বেশ জনপ্রিয়।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়, অগ্রগতি সত্ত্বেও পেশাজীবনে পুনরায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের কারণে এক মাসের মধ্যে অন্য কোনো পদ সুরক্ষিত করতে না পারায় তাঁর চাকরি শেষ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো, তাঁর কোনো স্নাতক ডিগ্রি নেই, শক্তিশালী কারিগরি দক্ষতাও নেই। যোগ্যতার চেয়ে ভাগ্যের জোরেই যেন তাঁর কর্মজীবনের উন্নতি ঘটেছে—এমন ধারণাও তাঁর মনে তৈরি হয়। জীবনে প্রথমবারের মতো তিনি নিজের সব ধরনের সিদ্ধান্তের "সম্পূর্ণ দায়" নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখান থেকেই নতুন কিছু গড়ে তোলার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন তা বুঝতে না পেরে তিনি অঙ্কুর ওয়ারিকুর কাছে জানতে চান, এমন পরিস্থিতিতে ওয়ারিকু নিজে থাকলে কী পদক্ষেপ নিতেন।

অঙ্কুর ওয়ারিকুর দেওয়া ৫টি পরামর্শ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যে শালপাতার থালা আমরা ভুলে গিয়েছি, ইউরোপে তার দাম ১৫০ টাকা!

Eco Friendly Sal Leaf Products: আমাদের দেশের রাস্তাঘাট থেকে শালপাতার থালা-বাটিগুলি যখন আস্তে আস্তে হেলায় হারিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে সুদূর ইউরোপে এগুলি খুঁজে পেয়েছে এক অভূতপূর্ব সম্মান। জার্মানির একটি স্টার্টআপ ‘লিফ রিপাবলিক’ ২০১৬ সাল নাগাদ পাতায় তৈরি ফেলে দেওয়ার মতো থালা-বাটি বাজারে এনে বিশ্বজুড়ে দারুণ আলোড়ন ফেলে দেয়।

১. ছোট ছোট বিষয় গুছিয়ে নেওয়া: ওয়ারিকুর পরামর্শ শুরু হয় অত্যন্ত সহজ একটি বিষয়ের মধ্য দিয়ে। তিনি তরুণকে পরামর্শ দেন কৈশোরকালে তৈরি করা পুরনো, অনানুষ্ঠানিক ইমেল আইডির বদলে একটি পেশাদার ইমেল আইডি ব্যবহার শুরু করার। ছোটখাটো বিষয়গুলি ঠিক করা দিয়ে শুরু করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

২. অতীত নিয়ে আফসোস না করা: ওয়ারিকুর দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শটি ছিল অতীতের অনুশোচনা সামলানো। তিনি ওই কর্মীকে বলেন, তিনি চাইলে বিগত ১৫ বছরের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ভেবে আফসোস করে সময় নষ্ট করতে পারেন, অথবা আগামী ৩০ বছর নিজের জীবনকে উন্নত করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। ওয়ারিকু মনে করিয়ে দেন, অতীতকে কখনো বদলানো সম্ভব নয়; কিন্তু ভবিষ্যতের পদক্ষেপগুলি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

৩. একবারে একটি পদক্ষেপ: পুরো কেরিয়ারের সমস্যাকে একটি বিশাল ও কঠিন পাহাড় হিসেবে না দেখার পরামর্শ দেন ওয়ারিকু। তিনি 'একবারে একটি পদক্ষেপ' নেওয়ার কথা বলেন। সামনে যে বড় পাহাড় ডিঙাতে হবে, কেবল সেটির কথা ভেবে দিশেহারা না হয়ে যে কাজ করা হচ্ছে, তাতে মনোযোগ দিতে বলেন। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপটি হলো: জীবনপঞ্জি (Resume) সুন্দরভাবে গুছিয়ে তৈরি করা এবং বর্তমান অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে, এমন পদে আবেদন করা শুরু করা। কী কী ভুল হতে পারে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার বদলে এখন যে কাজটুকু করা সম্ভব, সেটুকু শেষ করার দিকেই নজর দেওয়া দরকার।

৪. প্রতিদিনের অভ্যাসে শেখার আগ্রহ বাড়ানো: শেখার আগ্রহকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করার উপর জোর দিয়েছেন অঙ্কুর ওয়ারিকু। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট নতুন কিছু শেখার পিছনে ব্যয় করা প্রয়োজন। এটি হতে পারে ইউটিউবের কোনো টিউটোরিয়াল, বই কিংবা অনলাইনে গঠনমূলক কোনো আলোচনা। এই শেখার উদ্দেশ্য কেবল নতুন চাকরি পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং শেখাকে স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করা এবং যেসব বিষয় সত্যিই কৌতূহল বাড়ায়, সেগুলিকে জানার চেষ্টা করা দরকার। যাঁরা কারিগরি দক্ষতার অভাবে দুশ্চিন্তায় থাকেন, তাঁদের জন্য এই কৌশলটি অত্যন্ত কার্যকর। রাতারাতি সব কিছু শেখার মানসিক চাপ না নিয়ে ধীরে ধীরে জ্ঞান অর্জনের বাস্তবসম্মত পথ দেখায় এই পদ্ধতি।

৫. 'অভিযোগ নয়, অজুহাতও নয়': শেষ পরামর্শটি ছিল সবচেয়ে স্পষ্ট ও কঠিন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকেন, তবে দুটি শর্ত মানতেই হবে: কোনো ধরনের অভিযোগ করা যাবে না এবং কোনো অজুহাত দেওয়া চলবে না।

অঙ্কুর ওয়ারিকুর দেওয়া এই ৫ পরামর্শ শুধু ওই কর্মীর জন্যই নয়, বরং মধ্য বয়সি কেরিয়ারের সমস্যায় ভোগা যেকোনো মানুষের জন্যই দিকনির্দেশনা হতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।