অদিতি দেবরাজদের আইনি সহায়তায় বিকাশরঞ্জন, বাম রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতাতেই ধাক্কা?
Bikash Ranjan Bhattacharya: দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের হয়ে আদালতে দাঁড়ানো কি শুধুই একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নও? বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ভূমিকাকে ঘিরে কেন ক্ষুব্ধ বাম সমর্থকদের একাংশ? আদর্শ বনাম পেশার এই বিতর্কে আসলে কোন বার্তা যাচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে?
বাংলার রাজনীতিতে মতাদর্শের সংঘাত নতুন নয়। কিন্তু কখনও কখনও এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে, যা রাজনৈতিক শিবিরের অন্দরেই অস্বস্তি তৈরি করে। এবার তেমনই বিতর্কের কেন্দ্রে প্রবীণ আইনজীবী ও বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সী এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে আদালতে সওয়াল করাকে ঘিরে বাম সমর্থকদের একাংশের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল সর্বত্রই এই নিয়ে নানান উঠছে প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ‘বেআইনি সম্পত্তি’ বা ‘ডিসপ্রোপোরশনেট অ্যাসেটস’ মামলাকে কেন্দ্র করে। বিধাননগর সিটি পুলিশের দায়ের করা মামলায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন দেবরাজ চক্রবর্তী এবং অদিতি মুন্সী। কলকাতা হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দায়ের করা অভিযোগপত্র। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী হলফনামায় ঘোষিত সম্পত্তির সঙ্গে বাস্তব সম্পত্তির অমিল থাকতে পারে।
এই মামলার আইনি লড়াইয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের উপস্থিতিই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। কারণ, তিনি শুধুমাত্র একজন আইনজীবী নন, দীর্ঘদিনের বামপন্থী মুখও। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র, রাজ্যসভার সাংসদ এবং সিপিএমের পরিচিত নেতা হিসেবেও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তৃণমূলের নেতাদের হয়ে আদালতে দাঁড়ানোকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর বলে মনে করছেন।
বাম সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, বাংলার রাজনীতিতে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ধারালো রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে বামেরা। পঞ্চায়েত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক আন্দোলন থেকে শিক্ষক সংগঠন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে বামপন্থী সংগঠনগুলি। সেই জায়গা থেকে একজন প্রবীণ বাম নেতা যখন তৃণমূল নেতাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ান, তখন অনেক সমর্থকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, আদর্শ এখন কোথায়?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যেই এই নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ লিখছেন, আদালতে আইনজীবীর কাজ পেশাগত দায়িত্ব, সেটিকে সরাসরি রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখা ঠিক নয়। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, রাজনীতিতে প্রতীকী বার্তার গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে যখন অভিযুক্তরা শাসকদলের পরিচিত মুখ, তখন বামপন্থী রাজনীতির একজন পরিচিত নেতা তাঁদের পক্ষে দাঁড়ালে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।
এই আবহেই নাম না করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন,
একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, যিনি প্রায়শই নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রণী যোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরেন, সেই তিনি এখন দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং তাঁর স্বামীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করছেন।
কল্যাণের এই মন্তব্যের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়। কারণ, তৃণমূলের পক্ষ থেকেও কার্যত প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সরব থাকা একজন ব্যক্তি কী ভাবে আবার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে দাঁড়ান।
বাম সমর্থকদের একাংশও একই প্রশ্ন তুলছেন। নাট্যকার তথা সিপিএম সমর্থক সৌরভ পালোধি ফেসবুকে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি লেখেন,
যে পার্টির চুরি আর দুর্নীতির জন্য আপনারা পার্টির হাজার হাজার কর্মী খুন হলো, তাদের চুরি যে চুরি নয়, এটা প্রমাণ করতে আপনি কোর্টে লড়বেন?
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হতাশা। তিনি আরও লেখেন,
এটাকে আবার আপনি আপনার ‘কাজ’ বলে ন্যারেটিভ সেট করবেন। এটা কেমন কমরেডশিপ?
সৌরভের পোস্টে উঠে এসেছে আদর্শ বনাম পেশার সেই দ্বন্দ্ব। তিনি লিখেছেন,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal Left politics: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ে উচ্ছ্বসিত পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীরা কি নিজেদের রাজনৈতিক সংকট আড়াল করছেন? আদর্শের লড়াই ছেড়ে কি বামপন্থা এখন শুধুই ‘স্টেটাস সিম্বল’?
আমরা রইলাম আমাদের আদর্শ আঁকড়ে। পার্টির খারাপ সময় থেকে পার্টির সমর্থক। জিতেছে বলে আখের গোছানোর জন্য পার্টি সমর্থক হইনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন বামপন্থী নেতার কাছে রাজনৈতিক আদর্শই হওয়া উচিত মূল বিষয়, শুধুমাত্র পেশাগত যুক্তি নয়।
সৌরভ আরও প্রশ্ন তোলেন,
আপনি প্রার্থী ছিলেন অনেকবার। আপনি আপনার শত্রু শিবিরের হয়ে কোর্টে সওয়াল করবেন?
তাঁর মতে, এখানে শুধু আইনজীবীর ভূমিকা দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। তিনি কটাক্ষ করে লেখেন,
আপনার শুধু ‘কাজ’ আছে। সুদীপ্ত, মইদুলের কোনো ‘কাজ’ ছিল না।
অন্যদিকে আবার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সমর্থনেও কিছু আওয়াজ উঠেছে। বাম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বিকাশরঞ্জনের অনুজ বলেই পরিচিত, তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করে তাঁর পাশে দাঁড়ান। যদিও পরে সেই পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া হয়। ফলে তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে বাম নেতা শতরূপ ঘোষ সরাসরি কিছু না বললেও একটি দলীয় সমর্থকের পোস্ট শেয়ার করেছেন, যা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ওই পোস্টে দেবাশিস নন্দী নামে এক ব্যক্তি তাঁর রিকশাচালক বাবার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন, তাঁর বাবা কোনো দিন আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি। এমনকি ২০০ টাকার বিনিময়ে কংগ্রেস ভোটের দিন রিকশা চালানোর জন্য বুকিং করলেও তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। পোস্টে লেখা হয়েছে,
প্রফেশনাল এথিক্সকে বলে বলে গোল দিয়েছে বাবার চেতনা।
এই পোস্ট শেয়ার হওয়ার পর অনেকেই মনে করছেন, বাম শিবিরের ভেতরেই আসলে আদর্শ বনাম পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, আদালতে দাঁড়ানো আইনজীবীর পেশাগত অধিকার। আবার অন্য অংশ মনে করছে, রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলে সেই পেশাগত সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
এই বিতর্কের মধ্যে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেন। তিনি লেখেন,
কাউকে দেখে কমিউনিস্ট রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হইনি। ব্যক্তির থেকে আদর্শ সর্বদা উপরে রেখেছি।
তবে একইসঙ্গে তিনি তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লেনিনের মূর্তিতে এই 'গেরুয়াকরণ' আসলে একটি সঙ্কেত; যেখানে আক্রমণকারীরা শুধু লেনিনকে মুছে দিচ্ছে না, বরং ‘নতুন হিন্দু ভারত’-এর জন্য হিন্দুত্বের একগুচ্ছ নতুন উপাদানকে প্রধান রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
বিকাশবাবুকে গাল পাড়ার আগে একটু অপেক্ষা করে দেখুন কী হয়।
অর্থাৎ, বাম সমর্থকদের মধ্যেও মতভেদ স্পষ্ট। কেউ সরাসরি ক্ষুব্ধ, কেউ আবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পক্ষে।
তবে এখনও পর্যন্ত সিপিএমের পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি। যদিও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুজন চক্রবর্তীর একটি পোস্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। সেখানে তিনি তোলাবাজদের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। যদিও সরাসরি কারও নাম করেননি।
এই পুরো বিতর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য। ইনস্ক্রিপ্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন,
বিকাশ ভট্টাচার্য কী, সেটা বাম সমর্থক এবং কর্মীদেরই বুঝতে হবে।
সুমনের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে রাজনৈতিক দ্বিচারিতার প্রশ্ন। তিনি বলেন,
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তো তাঁর টুইটে ঠিকই বলেছেন, যিনি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে এত সরব ছিলেন, মামলা করেছিলেন, তিনিই আবার দেবরাজ-অদিতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে আইনি ঢাল হয়ে সামনে আসছেন কেন?
তাঁর মতে, এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অসঙ্গতি। একদিকে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে দাঁড়ানো—এই দুই অবস্থানকে একসঙ্গে মেলানো কঠিন।
সুমন ভট্টাচার্য আরও বলেন,
এটা যদি বিকাশ ভট্টাচার্যের পেশাদারি দায়িত্ব হয়, তাহলে ১০০ কোটি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দেবরাজ-অদিতির ফি-টাই কি মূল কথা?
তিনি প্রশ্ন তোলেন,
কোনটা দুর্নীতি আর কোনটা দুর্নীতি নয়, সেটা কি তাহলে ফি দিয়ে নিরূপণ হয়?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকেই দিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বাম কর্মী-সমর্থকদেরও নিজেদের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।
সুমন ভট্টাচার্য আরও বলেন,
এটাও হতে পারে, বিকাশবাবু এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তৃণমূলের যাকে বিজেপি নিশানা করবে, যার বিরুদ্ধে মামলা হবে, যাকে জেলে পোড়ার চেষ্টা হবে, তাকে আইনি সহায়তা দেবেন বিকাশবাবু।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি সেটাই রাজনৈতিক অবস্থান হয়, তাহলে তা স্পষ্ট করে ঘোষণা করা উচিত। তিনি কটাক্ষ করে বলেন,
দেবরাজ থেকে জাহাঙ্গীর—সবাইকে আইনি সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব তিনি নিচ্ছেন, সেটা খোলাখুলি বলা দরকার।
এমনটা হলে তৃণমূলের আইনজীবী সেলও কিছুটা স্বস্তি পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু আইনজীবী হিসেবেই নয়, রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সুমন। তাঁর কথায়,
রাজনৈতিক দিক থেকে তিনি অত্যন্ত খারাপ রাজনীতিক।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সাইবাড়ি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন,
যিনি কংগ্রেসের সমর্থনে রাজ্যসভায় গিয়ে সাইবাড়ির খুনের রাজনীতিকে সমর্থন করেছিলেন, তিনি বারবার বুঝিয়ে দেন যে তিনি কোনো গণতান্ত্রিক, সুস্থচিন্তার রাজনীতির সঙ্গে থাকতে পারেন না।
সংবাদিক অর্ক ভাদুড়িও বলেন,
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বড় মাপের আইনজীবী। আবার তিনি বামপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ। এর আগে তিনি বিজেপি নেতাদের হয়ে মামলা লড়েছেন, মালিকপক্ষের হয়ে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা লড়েছেন৷ এখন লড়ছেন তৃণমূলের নেতার পক্ষে। তাঁর এই ধরনের পেশাদারি কাজকর্ম যে বিপুল সংখ্যক বামপন্থী মানুষজনকে গভীরভাবে আঘাত করেছে, তা তো বলাই বাহুল্য। বিকাশবাবু আদালতে দাঁড়িয়ে এমন কিছু কাজ করেছেন, যেগুলি ভীষণ জরুরি৷ যেমন তাঁর উদ্যোগেই হকার উচ্ছেদের বিষয়ে স্থগিতাদেশ এসেছে। তিলজলায় বুলডোজার রাজের বিরুদ্ধেও তাঁর আইনি লড়াই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিজেপি-তৃণমূলের নেতাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ালে এই কাজগুলির গ্রহণযোগ্যতা কিঞ্চিৎ কমে যায় বলেই মনে হয়৷
তিনি আরও বলেন,
উনি পেশা এবং রাজনীতিকে আলাদা করছেন৷ কিন্তু আক্রান্ত মানুষের পক্ষে উকিল বিকাশরঞ্জন এবং বামপন্থী নেতা বিকাশরঞ্জনকে আলাদা করে দেখা কঠিন৷ অনেকেই রাম জেঠমালানি বা কপিল সিব্বলের উদাহরণ দিতে পারেন৷ সেক্ষেত্রে বলার, বাম এবং ডান রাজনীতির ক্ষেত্রে বিচারের মাপকাঠি এক নয়৷ বামপন্থীদের ইউএসপি হলো মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতা। সেই জায়গাটি নড়ে গেলে সার্বিকভাবেই বাম রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই৷ ডানপন্থীরা বহু বিষয়ে 'ছাড়' পেতে পারেন, কিন্তু বামপন্থীদের সেই 'ছাড়' পাবেন না তাঁদের ঋজু ইতিহাস ও মতাদর্শগত দায়বদ্ধ
তার কারণেই৷ কোনো এক প্রবীণ বামপন্থী নেতার মুখে শুনেছিলাম, ভাত পচলে খাওয়া যায়, পোলাও পচলে খাওয়া যায় না৷








