হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

inscript
৩ মিনিট
হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ায় ডোনা পাওলার বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন নানা পাটেকর। মনিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে CPR দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বুধবার রাত আড়াইটে নাগাদ বন্ধুকে শরীর খারাপের কথা জানিয়ে মেসেজ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বন্ধু মেসেজ দেখেন অনেক পরে। ভোরের দিকে বন্ধু তাঁর গোয়ার বাড়িয়ে পৌঁছে দেখেন নানা ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাচ্ছেন এবং প্রচণ্ড ঘামছেন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আর ফেরানো যায়নি তাঁকে।

ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নানা পাটেকর: ফিরে দেখা অনন্য জীবন

Nana Patekar: ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন বোম্বে রাজ্যের রায়গড় জেলার মুরুদ-জানজিরায় এক মারাঠি পরিবারে জন্মেছিলেন বিশ্বনাথ পাটেকর। পরে সিনেমার দুনিয়ায় তিনি হয়ে ওঠেন ‘নানা পাটেকর’।

CPR-এর পুরো নাম Cardiopulmonary Resuscitation। সহজ ভাষায়, কারও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের চলাচল যতটা সম্ভব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয় এই পদ্ধতির মাধ্যমে। এটি কোনো সাধারণ চিকিৎসা নয়, বরং হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর জরুরি অবস্থায় জীবন বাঁচানোর চেষ্টা।

হৃদযন্ত্র হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত পৌঁছনো বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে মস্তিষ্ক। কারণ মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের জন্য অক্সিজেনযুক্ত রক্ত অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দীর্ঘ সময় অক্সিজেন না পৌঁছলে মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। তাই হৃদযন্ত্র বন্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছনোর আগের সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সময় দ্রুত CPR শুরু করা গেলে শরীরে কিছুটা রক্ত চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করা যায়। ফলে হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বুকে চাপ দিয়েই বাঁচানো যেতে পারে হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে! জানেন সঠিক পদ্ধতি?

Cardiac Arrest CPR: সিপিআর করার প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পরে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে দ্বিগুণ, এমনকী তিনগুণও বাড়াতে পারে।

CPR-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল chest compression বা বুকের মাঝখানে বারবার চাপ দেওয়া। রোগীকে শক্ত ও সমতল জায়গায় চিত করে শুইয়ে তাঁর বুকের মাঝখানে দুই হাত রেখে নির্দিষ্ট ছন্দে চাপ দেওয়া হয়।

বুকের উপর চাপ দেওয়ার ফলে হৃদযন্ত্রের ভিতরের রক্ত শরীরের দিকে যাওয়ার সুযোগ পায়। আবার চাপ ছেড়ে দিলে হৃদযন্ত্রে রক্ত ফিরে আসে। এভাবে বারবার বুকের উপর চাপ দেওয়ার মাধ্যমে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে রক্ত পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়।

CPR-এর সময় দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় ফোন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ প্রশিক্ষিত হলে বুকের চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী rescue breaths বা মুখে শ্বাস দেওয়ার পদ্ধতিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রশিক্ষণ না থাকলেও জরুরি অবস্থায় সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকা এবং বুকের মাঝখানে চাপ দেওয়া শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে প্রথমে দেখতে হবে তিনি সাড়া দিচ্ছেন কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না। যদি কোনো সাড়া না দেন এবং স্বাভাবিক শ্বাসও না নেন, তাহলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় ফোন করতে হবে এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সাহায্যে CPR শুরু করতে হবে। তবে কেউ অজ্ঞান হলেই যে CPR প্রয়োজন হবে, তা নয়। যদি তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন, তাহলে CPR না করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার।

নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে—জরুরি অবস্থায় শুধু চিকিৎসকদের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষও যদি প্রাথমিক জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হওয়া আটকানো সম্ভব।

তাই কারও হঠাৎ জ্ঞান চলে গেলে, সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না থাকলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় ফোন করা, আশপাশের প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সাহায্য নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে CPR শুরু করা জরুরি। কারণ এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল পৌঁছনোর আগের কয়েক মিনিটই কখনও কখনও হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?