ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?
Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশায় জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। বুধবার, ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে অর্ণব। সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের আবহাওয়ার উপর নজর রাখা জরুরি।
কোথায় রয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব?
ভারতীয় মৌসম ভবনের ২৬ অক্টোবর রাত ১১টা ৩০ মিনিটের বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল। তখন এর অবস্থান ছিল ১৫.৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। তার আগের ছয় ঘণ্টায় প্রায় ২৩ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছিল ঝড়টি।
সেই সময় অর্ণব ওড়িশার গোপালপুর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ছিল। কাকিনাড়া থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ৪২০ কিলোমিটার। এ ছাড়া মছলিপত্তনম থেকে ৫২০ কিলোমিটার পূর্বে, বাপটলা থেকে ৫৯০ কিলোমিটার পূর্বে এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের শ্রী বিজয়পুরম থেকে ৮৭০ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড়টি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের গতিপথ ও শক্তির দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। বাংলার আবহাওয়ায় কি পড়বে অর্ণবের প্রভাব?
কোথায় ল্যান্ডফল হওয়ার সম্ভাবনা?
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মাঝামাঝি বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যে, ইয়ানামের কাছাকাছি এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে অর্ণব। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫–১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
এই গতিবেগের হাওয়া উপকূলবর্তী এলাকার দুর্বল ঘরবাড়ি, গাছপালা এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ পরিকাঠামোর ক্ষতি করতে পারে। তাই অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বৃষ্টি বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। কোন উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে?
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের সরাসরি আঘাত পশ্চিমবঙ্গে পড়ার পূর্বাভাস নেই। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়ায় পরিবর্তন হতে পারে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলির কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর আবহাওয়ার আরও অবনতি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ ৭০–১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ওই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবরও বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
কতটা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা?
অর্ণবের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রধান আশঙ্কা ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া ঘিরে। নিচু এলাকায় জল জমতে পারে, শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়তে পারে এবং রাস্তাঘাটে যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে পড়া, অস্থায়ী কাঠামোর ক্ষতি এবং স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনার কারণে মৎস্যজীবীদের সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে, কারণ সেখানে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।






