গৃহবন্দি, চিকিৎসাও পাচ্ছেন না! সু চি-র দিন যে ভাবে কাটছে

Aung San Suu Kyi, Myanmar: প্রচণ্ড দাঁতে ব্যথা নিয়ে শয্যাশায়ী তিনি। মাড়ি ফুলেছে, যার জেরে ভালো করে খেতে পাচ্ছেন না। তার সঙ্গে বমি ভাব, মাথাও ঘুরছে। সব মিলিয়ে প্রচণ্ড রকম শারীরিক অসুবিধার মধ্যে রয়েছে সু চি।

Sohini Das
৩ মিনিট
গৃহবন্দি, চিকিৎসাও পাচ্ছেন না! সু চি-র দিন যে ভাবে কাটছে

এককালে তিনি ছিলেন মায়ানমারের সর্বময় নেত্রী। শান্তির জন্য পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারও। আবার তার রাজত্বেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ভয়ঙ্করতম অত্যাচারের নজির দেখেছে বিশ্ব। এমনই এক অদ্ভুত বৈপিরিত্যের নাম অং সান সু চি। ইতিহাস জানে উত্থানের ওপিঠে পতন অনিবার্য। ঠিক সেভাবেই একদিন খসে পড়ে সু চি-র সাম্রাজ্য। ২০২১ সালে মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর আপাতত গৃহবন্দি সু চি। এককালের দাপুটে নেত্রী, যার এক কথায় দিন থেকে রাত হত মায়ানমারে, সেই সু চি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। দাঁতে ব্যথায় কাতর। প্রয়োজন জরুরি চিকিৎসার। অথচ জুন্টা সরকার নাকি ৭৮ বছরের নেত্রীর জন্য ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকুও করছে না। বরং বাধার পাথার দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে তাঁর চিকিৎসার পথে। এমনই অভিযোগ করেছেন সু চি-র ছেলে কিম অ্যারিস।

মায়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের উপর দিনের পর দিন নিগ্রহ হয়েছে রাজ্যে। চলছে গণহত্যা। একটা সময় অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করেন রোহিঙ্গা মুসলমানরা। প্রতিবেশী দেশগুলির সীমান্তে বাড়তে থাকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভিড়। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। উচ্ছিষ্টের মতো এ পাত থেকে ও পাতে চালান হতে থাকে উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা। অথচ বিশ্ব আদালতে রোহিঙ্গা সমস্যার দায় কাঁধ থেকে ঝেরে ফেলেন মায়ানমারের সর্বময় নেত্রী। অবশেষে দেশে সেনা অভ্যুত্থান হয় মায়ানমারে। ধ্বসে পড়ে সু চি-র সাম্রাজ্য। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই গৃহবন্দি তিনি। তাঁর ঘাড়ে রয়েছে অনেকগুলি মামলার খাঁড়া। যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ ও হিংসায় উস্কানি দেওয়ার মতো অভিযোগ। মোটামুটি সেই সব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কম করে হলেও একশো বছরের কারাবাস বাঁধা সু চির।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পুড়ে ছাই দু'হাজার বাড়ি, সর্বস্ব খুইয়ে মাথায় হাত, নতুন বছরেও দুর্দশাই সঙ্গী রোহিঙ্গাদের?

Fire at Rohingya Camp Bangladesh : কীভাবে তাঁরা বাঁচবেন, কীভাবে বেঁচে থাকার রসদ খুঁজবেন, সেটা নিয়েই চিন্তায় রোহিঙ্গারা।

তবে দূরের কথা দূরে। আপাতত জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত সু চি। প্রচণ্ড দাঁতে ব্যথা নিয়ে শয্যাশায়ী তিনি। মাড়ি ফুলেছে, যার জেরে ভালো করে খেতে পাচ্ছেন না সু চি। তার সঙ্গে বমি ভাব, মাথাও ঘুরছে। সব মিলিয়ে প্রচণ্ড রকম শারীরিক অসুবিধার মধ্যে রয়েছে সু চি। আর সেই অসুস্থতাকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছে না সে দেশে ক্ষমতায় থাকা জুন্টা সরকার। তাঁর চিকিৎসার জন্য কোনও ব্যবস্থাই করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তুলেছে সু চির পরিবার।

যদিও জুন্টা সরকারের তরফে এক সামরিক প্রতিনিধি দাবি করেছেন, সু চি-র পরিবারের সমস্ত দাবিই মিথ্যা। ইতিমধ্যেই সু চি-কে দেখেছেন সামরিক ডাক্তার। তার বাইরেও এক চিকিৎসককে দিয়ে পরীক্ষা করানো হয়েছে প্রাক্তন নেত্রীকে। তিনি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন বলেই দাবি করেছেন ওই প্রতিনিধি। নিয়মিত চিকিৎসা চলছে তাঁর। যদিও সু চির পরিবারের দাবি, দু'দিন আগেই বাইরের চিকিৎসককে দিয়ে শারীরিক পরীক্ষার দাবিকে নাকচ করে দিয়েছিল জুন্টা সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কখনও বেঁচে থাকার মরিয়া চেষ্টা, কখনও মৃত্যু, গোটা বছর সমুদ্রেই কাটল রোহিঙ্গাদের জীবন

Rohingya Refugee issue Bangladesh Myanmar : নেই আনন্দ উদযাপনের সুযোগ। ‘আনন্দ’ – এই শব্দটাই হারিয়ে গিয়েছে রোহিঙ্গাদের জীবন থেকে।

২০২১ সালে দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের পরের দিনই গ্রেফতার করা হয় অং সান সু চি-কে। মায়ানমারের রাজধানী নেপিডো থেকে স্থানান্তরিত করা হয় সু চি-কে। তিনি গৃহবন্দি, তবে কোথায় আছেন, তা সেনা ব্যতিত কেউ জানে না। সু চি-র ছেলে, বছর ছেচল্লিশের অ্যারিস আপাতত ব্রিটেনে রয়েছেন। সেখান থেকেই বারবার মায়ের মুক্তির দাবি তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, একজন বন্দির শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়ার দায়িত্ব সরকারেরই। নিজের কর্তব্য পালন করছে না জুন্টা সরকার।

এর আগেও বারবার আদালতে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সু চি। তাঁর ছেলে অ্যারিসও দাবি করেছেন, অন্যায় ভাবে তাঁর মাকে বন্দি বানিয়েছে জুন্টা সরকার। সেনাবাহিনী রাজনীতির খেলা খেলছে তাঁর মা-কে নিয়ে। অবহেলা করছে তাঁর চিকিৎসা নিয়েও। এখনও সু চি-র স্বাস্থ্য নিয়ে পদক্ষেপ না-করলে অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যারিস।

নোবেলজয়ী সু চি যদি ইঁট হন, তাহলে পাথর জুন্টা সরকার। মায়ানমারে গণ অভ্যুত্থান ঘটল বটে, তবে অন্ধকার কাটল না পুরোপুরি। সু চি-র বহু সিদ্ধান্তই স্বৈরাচারী ছিল, রোহিঙ্গাদের প্রতি তাঁর আমলে যে নির্যাতন, অত্যাচার হয়েছে, তা সমগ্র বিশ্বের কাছে লজ্জার। জুন্টা সরকার যেন তারই উল্টোপিঠ। সম্প্রতি জুন্টা সরকারের বিরোধিতা করে একটি জনসভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল কাচিন প্রদেশে। সেখানে আকাশপথে হামলা চালায় জুন্টা সেনা। সেই হামলায় আদিবাসী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর লোক তো মারা গিয়েইছে। তার সঙ্গে মারা গিয়েছে শিল্পী, শ্রোতা-দর্শকও। ঘটনায় শিশু ও মহিলা-সহ মোট ৮০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যেভাবে বিদ্রোহ দমন করতে আকাশ থেকে মুহুর্মুহু বোমা ফেলা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থলে, তা নজিরবিহীন বলেই মনে করেছে মানবাধিকার দলগুলি। ফলে এই সরকার যে সু চি-র চিকিৎসায় কতটা গুরুত্ব দেবে তা নিয়ে সন্দিহান শুধু তাঁর পরিবার নয়, দেশের মানুষও। সু চি-কে সরিয়েও মায়ানমার সুরক্ষিত হাতে নেই, তা এই কদিনেই বেশ ঠাওর করতে পারছে মায়ানমারবাসী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?