খুলল ইউএফও ফাইল: ভিনগ্রহীদের নিয়ে নতুন তথ্য সামনে

মহাকাশে কি সত্যিই ভিনগ্রহের প্রাণীরা ঘুরে বেড়ায়? এলিয়েনদের তৈরি কোনো অত্যাধুনিক যান কি গোপনে নজর রাখছে পৃথিবীর বুকে? এই রহস্য বহু বছরের পুরনো। তবে সম্প্রতি এই চর্চা আবার নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (Department of Defense, যা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ নামে পরিচিত) বেশ কিছু গোপন ফাইল সাধারণ মানুষের জন্য সামনে এনেছে।

inscript
১ মিনিট
খুলল ইউএফও ফাইল: ভিনগ্রহীদের নিয়ে নতুন তথ্য সামনে

মহাকাশে কি সত্যিই ভিনগ্রহের প্রাণীরা ঘুরে বেড়ায়? এলিয়েনদের তৈরি কোনো অত্যাধুনিক যান কি গোপনে নজর রাখছে পৃথিবীর বুকে? এই রহস্য বহু বছরের পুরনো। তবে সম্প্রতি এই চর্চা আবার নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (Department of Defense, যা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ নামে পরিচিত) বেশ কিছু গোপন ফাইল সাধারণ মানুষের জন্য সামনে এনেছে।

২০২৬ সালের মে মাসে কয়েক দফায় এই নথিগুলি সবার সামনে আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমেরিকার মানুষের কাছে মহাকাশ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু সত্যিই কি এর মধ্যে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের যানের কোনো অকাট্য প্রমাণ মিলল?

কী এই নতুন ফাইল?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বিশেষ নির্দেশ জারি করেছিলেন। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে 'পার্সিউ' (PURSUE)। উদ্দেশ্য হলো, সরকারের কাছে থাকা অজানা উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও (UFO) সংক্রান্ত সমস্ত ঘটনা সাধারণ মানুষের সামনে নিয়ে আসা।

  • প্রথম দফা (৮ মে, ২০২৬): প্রথম দফায় ১৬০টিরও বেশি ফাইল ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

  • দ্বিতীয় দফা (২২ মে, ২০২৬): গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় আরও প্রায় ৫০ থেকে ৬৪টি নতুন ফাইল যোগ হয়েছে। যার মধ্যে ৫১টি আসল ভিডিও এবং বেশ কিছু অডিও ক্লিপ রয়েছে।

আমেরিকার যুদ্ধবিমানের পাইলটরা আকাশে ওড়ার সময় তাদের ক্যামেরায় যে সমস্ত অদ্ভুত দৃশ্য বন্দি করেছিলেন, সেগুলিই এখন war.gov/ufo নামের অফিসিয়াল সাইটে গিয়ে যে কেউ দেখতে পারেন।

যুদ্ধবিমানের তাড়া ও লেক হুরনের ঘটনা

প্রকাশিত ফাইলগুলির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি ঘটনা। আমেরিকার মিশিগান ও কানাডা সীমান্তের কাছে 'লেক হুরন' নামের একটি বিশাল হ্রদের উপর একটি অদ্ভুত বস্তুকে উড়তে দেখা যায়। বস্তুটির আকার ছিল কিছুটা অষ্টভুজের মতো এবং সেটি প্রায় ২০ হাজার ফুট উঁচুতে ভাসছিল।

যুদ্ধবিমানের নিশানা অষ্টভুজাকৃতি বস্তুটির উপর লক করা

বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার কথা ভেবে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেটিকে গুলি করার নির্দেশ দেন। আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এফ-১৬ (F-16) ফাইটার জেট থেকে পরপর দুটি মিসাইল ছুড়ে বস্তুটিকে আকাশেই টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের মে মাসে এই ঘটনার একটি ৪৬ সেকেন্ডের আসল ইনফ্রারেড ভিডিও প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায়, যুদ্ধবিমানের নিশানা কীভাবে বস্তুটির উপর লক করা হয় এবং মিসাইল আছড়ে পড়ার পর সেটি কীভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এটিই ইতিহাসে প্রথমবার, যখন কোনো অজানা উড়ন্ত বস্তুকে যুদ্ধবিমান দিয়ে ধ্বংস করার সরাসরি ভিডিও প্রকাশ করা হলো।

ধ্বংসাবশেষ থেকে কী মিলল?

ঘটনার পর কানাডার পুলিশ (RCMP) এবং সেনাবাহিনী ওই হ্রদের তীর থেকে ভেঙে পড়া বস্তুর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শেষের দিকে তদন্তের যে রিপোর্ট সামনে আসে, তাতে রহস্য কিছুটা ভেদ হয়।

বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, ওই বস্তুটি কোনো ভিনগ্রহের মহাকাশযান ছিল না। সেটি ছিল আসলে আবহাওয়া পরিমাপ করার একটি সাধারণ বাণিজ্যিক যন্ত্র বা বেলুন। আসলে তার কিছুদিন আগেই আমেরিকার আকাশে একটি চিনের গুপ্তচর বেলুন ধরা পড়েছিল। সেই কারণে মার্কিন প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে উঠেছিল এবং সামান্য সন্দেহ হতেই এই আবহাওয়া বেলুনটিকে গুলি করে নামায়।

ফাইলে আর কী কী রহস্য লুকিয়ে আছে?

নতুন প্রকাশিত এই ফাইলগুলিতে শুধু সাম্প্রতিক ঘটনা নয়, ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকের পুরনো অনেক ঘটনাও রয়েছে।

  • অদ্ভুত আকৃতির বস্তু: পাইলটদের ক্যামেরায় বিভিন্ন সময়ে জ্বলন্ত আগুনের গোলা, চকচকে থালা বা ডিস্কের মতো বস্তু এবং তারার মতো দেখতে কিছু জিনিস ধরা পড়েছে, যেগুলি অদ্ভুতভাবে আকাশে উড়ছিল।

  • গোয়েন্দা অফিসারের জবানবন্দি: ২০২৫ সালের একটি রিপোর্টে একজন পদস্থ গোয়েন্দা অফিসার জানিয়েছেন, তিনি নিজে আকাশে অসংখ্য উজ্জ্বল কমলা রঙের গোল গোল আলো বা 'অর্ব' ঘুরে বেড়াতে দেখেছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে তিনি এতটাই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে কিছুক্ষণের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।

  • পুরনো অডিও: আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)-র পুরনো অ্যাপোলো-১২ মিশনের কিছু অডিও ক্লিপও এই ফাইলে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? সত্যি কি এলিয়েন আছে?

আমেরিকার এই ইউএফও সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈজ্ঞানিকভাবে তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ সরকারি সংস্থা রয়েছে, যার নাম 'আরো' (AARO)। তারা ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হওয়া সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করেছে।

তাদের স্পষ্ট বক্তব্য: এখনও পর্যন্ত ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েনদের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশে যে সমস্ত অদ্ভুত জিনিস দেখা যায়, তার বেশিরভাগই আসলে সাধারণ ড্রোন, আবহাওয়া বেলুন, পাখি, স্যাটেলাইট অথবা ক্যামেরার লেন্সের কোনো কারিগরি ভুল। তবে হ্যাঁ, কিছু কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে বস্তুগুলি খুব দ্রুত এবং আঁকাবাঁকাভাবে গতি পরিবর্তন করছে। বিজ্ঞানীদের কাছে এই নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘটনার কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা এখনও নেই। সেগুলি এখনও 'রহস্য' হিসেবেই ফাইলের পাতায় বন্দি রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এই ফাইল প্রকাশের কাজ এখানেই শেষ নয়। আগামী দিনে আরও অনেক গোপন তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সরকার কোনো কিছু আড়াল না করে সব তথ্য সামনে রেখে বলছে—ভিডিও এবং প্রমাণগুলি আপনারাই দেখুন, আর নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিন যে আপনারা কী বিশ্বাস করবেন।

তবে আপাতত এটুকুই স্পষ্ট—মহাকাশে ভিনগ্রহের বন্ধুদের খোঁজার লড়াই জারি থাকলেও, নতুন ফাইলে কিন্তু কোনো এলিয়েন বা ভিনগ্রহী যানের হদিশ মেলেনি!

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?