ইরান সংকট: এক দশক পর ট্রাম্পের চিন সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ?

Trump Xi Jinping meeting: ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে বেজিংয়ে মুখোমুখি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। এই বৈঠক কি ইরান সংকট কমাতে পারবে? নাকি যুক্তরাষ্ট্র-চিন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করবে? বিশ্বের রাজনীতিতে কতটা বড় পরিবর্তন আনতে পারে এই শীর্ষ বৈঠক?

Tanvia Barua
৫ মিনিট
ইরান সংকট: এক দশক পর ট্রাম্পের চিন সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বেজিং। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। এই বৈঠক হবে ১৪-১৫ মে। এমন এক সময়ে এই বৈঠক হচ্ছে, যখন পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বেজিংয়ে ট্রাম্পের এই সফরকে অনেকেই তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর বলে মনে করছেন। কারণ এই বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে একসঙ্গে বহু জটিল বিষয়—ইরান যুদ্ধ, মার্কিন-চিন বাণিজ্য সম্পর্ক, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিরল খনিজ এবং প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফর ৩১ মার্চ-২ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সংঘাতের জেরে সেই সফর পিছিয়ে যায়। ট্রাম্প মনে করেছিলেন, দ্রুত সামরিক সাফল্য অর্জন করে শক্তিশালী অবস্থানে বেজিংয়ে পৌঁছবেন। বাস্তবে তা হয়নি। ব্যাপক হামলা ও কড়া হুঁশিয়ারির পরেও ইরান নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। বরং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের উপর চাপ বাড়িয়েছে। ট্রাম্প এখন কূটনৈতিকভাবে চাপে। হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরান জানিয়েছে, আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বলে রাখা ভালো, চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই কখনও টানাপোড়েনের, কখনও সহযোগিতার। গত ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি ঘোষণা করে, যা নিয়ে চিন তীব্র আপত্তি জানায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প নিজে তাইওয়ানকে রক্ষার বিষয়ে খুব জোরালো অবস্থান নেননি। বরং গত বছর তিনি তাইওয়ানের পণ্যের উপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, তাইওয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সুবিধা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, ওয়াশিংটন ও বেজিং উভয়েই বুঝছে, পরস্পরের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া উপায় নেই। 

এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইরান সংকট নিয়ে চিনের সহযোগিতা চাওয়া। চিন ইরানের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক অংশীদার এবং তেহরানের উপর তার যথেষ্ট কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের আশা, বেজিং চাইলে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চিন মধ্যস্থতা করাতে পারে।

তবে চিন ভালো করেই জানে, ইরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের বড় শক্তি। তাই বেজিং বিনা শর্তে ওয়াশিংটনের অনুরোধ মেনে নেবে, এমন সম্ভাবনা কম। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বেইজিং সফর দেখিয়েছে, তেহরানের উপর চিনের প্রভাব এখনও যথেষ্ট। মার্কন যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, যদি চিন ইরান প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে তার বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাণিজ্য শুল্ক কমানো, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা বা সেমিকন্ডাক্টর রফতানির উপর কিছু ছাড় চাইতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হরমুজ প্রণালী: মাঝ সমুদ্রে মৃত্যুভয়ে দিন কাটছে ২০ হাজার নাবিকের

Strait of Hormuz crisis: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের খবরে আমরা তেলের দাম দেখি, মিসাইলের সংখ্যা দেখি। কিন্তু সেই যুদ্ধে আটকে পড়া ২০ হাজার নাবিকের কথা কতটা জানি?

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে এই সফরে রয়েছেন একাধিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা। তাঁদের মধ্যে আছেন এলন মাস্ক এবং জেনসেন হুয়াং। এই উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন চিনের বাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলির প্রবেশাধিকারের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

চিনের পক্ষেও এই বৈঠকের গুরুত্ব কম নয়। চিনের অর্থনীতি এখনও ধীর গতিতে এগোচ্ছে। এই অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা বেজিংয়ের স্বার্থে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানেন, যদি দু'দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়, তবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে এবং অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আলোচনার টেবিলে বহু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মতভেদ বহুদিনের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র ও নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে থাকে, আর চিন মনে করে তাইওয়ান তাদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একইভাবে উন্নত চিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিরল খনিজ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়েও দু'দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।

ট্রাম্পের বলে থাকেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিনের সাহায্য 'অবশ্যক' নয়। তবে এখন তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, ইরান সংকট মোকাবিলায় বেজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এই ধরনের বক্তব্যকে অনেকেই কূটনৈতিক দরকষাকষির অংশ হিসেবে দেখছেন।

বেজিংয়ে সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন-চিন সম্পর্কের ওঠানামা চিনের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বিশ্ব অর্থনীতির দিক থেকেও এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি। তাদের সম্পর্কের সামান্য পরিবর্তনও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তেলের দাম, শেয়ারবাজার, প্রযুক্তি খাত, উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল—সব ক্ষেত্রেই এই বৈঠকের ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চুক্তি নাও হতে পারে। কিন্তু যদি দু'পক্ষ অন্তত যোগাযোগের পথও খোলা রাখে, তবেই তা বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইরান যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক দেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চিন যদি মধ্যস্থতায় ভূমিকা নেয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কিছু কৌশলগত ছাড় দেয়, তবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও হতে পারে।

ট্রাম্প বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে তাঁর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। বেজিং সফরের আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,

“I have a very good relationship with President Xi.”

অতীতেও দুই নেতা ব্যক্তিগত কূটনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। যদিও শুধু ভালো ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। এই বৈঠক বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনাগুলির একটি। এই বৈঠকে হয়তো সব সমস্যার সমাধান হবে না, কিন্তু যদি ইরান সংকট প্রশমনে কিছু অগ্রগতি হয়, বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ সুগম হয়, তবে সেটাই হবে বড় সাফল্য।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।

আরও চাপে জ্ঞানেশ কুমার, দু'দশকের পুরনো মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

Gyanesh Kumar Under Scrutiny: ২০০৬ সালে কেরলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

যন্তর মন্তর বিক্ষোভ: তিন মহিলা সাংবাদিকের হেনস্থার অভিযোগ, তদন্তে ক্রাইম ব্রাঞ্চ

Delhi Protest: দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন তিন মহিলা সাংবাদিক। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগগুলি নিউ দিল্লি জেলা পুলিশ থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কামলা মার্কেট শাখায় পাঠানো হয়েছে।

মুম্বই বিক্ষোভে অভিজিৎ দীপকে-সহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর

CJP Protest Against Gyanesh Kumar: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ ঘিরে কেন এফআইআর দায়ের করল পুলিশ? সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে-সহ ৪০০-র বেশি মানুষের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ায় কোথায় কোথায় বিক্ষোভ?

Annapurna Bhandar Protest Timeline: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বারবার বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও মহিলারা বিডিও বা পুরসভা ঘেরাও করেছেন, কোথাও হয়েছে রাস্তা ও রেল অবরোধ। কোন কোন জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে, পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এবং এই বিক্ষোভের পিছনে মূল অভিযোগগুলি কী?

রামরাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার দায় আর কতদিন এড়াবে বিজেপি?

Politics of denial By BJP: ২০২৬ সালের ৪ মে ২০৭টি আসনে জিতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর মাত্র চার দিনেই রাজ্যজুড়ে ৬৪টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল। ‘এসিএলইডি’ (ACLED)-র তথ্যে উঠে আসে, এর মধ্যে ৪২টিতেই হামলাকারী ছিল বিজেপি। নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখের মৃত্যু, লেনিনের মূর্তি ভাঙচুর কিংবা বামপন্থীদের সভায় হামলা— তাণ্ডবের এই ধারা এখনও অব্যাহত। যদিও, প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, আমাদের 'কোনো কর্মী এবিষয়ে জড়িত নন'। এহেন, দায় এড়ানোর রাজনীতি আর কতদিন?

মধুর থেকে অম্ল: যেভাবে পাল্টাচ্ছে মুরলী মনোহর যোশী ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর সম্পর্ক

Rebel in the Margdarshak Mandal: ৯২ বছর বয়সি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী 'অমর উজালা'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতে শিক্ষার সরকারি বাজেট ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে তিনি দুর্নীতির রাজনীতির ফলাফল বলেছেন। বদ্রীনাথের সরকারি ডিজে ইভেন্টকে, 'সাংস্কৃতিক পবিত্রতার লঙ্ঘন' বলে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন। 'মার্গদর্শক মণ্ডল'-এ ঠেলে দেওয়া এই নেতার সোচ্চার মোদীবিরোধী অবস্থান বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি তৈরি করেছে।