এক প্ল্যাটফর্মেই ৬৫টির বেশি পরিষেবা, ব্যবসার নতুন দরজা খুলল দুবাই
Business in Dubai platform: দুবাইয়ে ব্যবসা শুরু করা এখন কি আরও সহজ হবে? নতুন ‘বিজনেস ইন দুবাই’ প্ল্যাটফর্মে এক জায়গায় মিলবে ৬৫টির বেশি পরিষেবা। এই উদ্যোগ কি আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ, স্টার্টআপ এবং উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করে দুবাইকে বৈশ্বিক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে?
দুবাইকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিল দুবাই চেম্বার্স। তারা চালু করেছে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বিজনেস ইন দুবাই’, যার লক্ষ্য নতুন ও পুরনো—দু'ধরনের ব্যবসাকেই এক জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলিও সহজে ব্যবসা শুরু, পরিচালনা এবং সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন পরিষেবা পাবে। দুবাই প্রশাসনের মতে, ব্যবসার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত পরিষেবা দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বর্তমানে একটি নতুন ব্যবসা শুরু করতে গেলে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদা আলাদা যোগাযোগ করতে হয়। লাইসেন্স, আইনি নথি, ব্যাঙ্কিং, কর সংক্রান্ত পরামর্শ কিংবা অফিস স্থাপনের মতো বিভিন্ন কাজের জন্য একাধিক সংস্থার দ্বারস্থ হতে হয়। এতে সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনই বাড়ে খরচও। এই সমস্যার সমাধান করতেই ‘বিজনেস ইন দুবাই’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এখানে এক জায়গা থেকেই ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়া যাবে।
দুবাই চেম্বার্স জানিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত একটি ডিজিটাল গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে। এখানে স্বীকৃত অংশীদার সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন কর্পোরেট পরিষেবা একত্রে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়েই সাতটি অনুমোদিত অংশীদারের সহযোগিতায় ৬৫টিরও বেশি পরিষেবা যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও পরিষেবা এবং নতুন অংশীদার যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য, ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করে তোলা। অনেক সময় নতুন উদ্যোক্তারা সঠিক তথ্যের অভাবে নানা সমস্যায় পড়েন। কোন লাইসেন্স লাগবে, কোথায় আবেদন করতে হবে, কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নতুন প্ল্যাটফর্মটি সেই সমস্যাও অনেকটাই দূর করবে। উদ্যোক্তারা একই জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ এবং পরিষেবা পেয়ে যাবেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Start up food business Biriyani by kilo : হুবহু একই স্বাদের বিরিয়ানি মেলে দেশের সর্বত্র, কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করল বিরিয়ানি বাই কিলো?
দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একের পর এক সংস্কার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ব্যবসা শুরু করার নিয়ম সহজ করা, ডিজিটাল পরিষেবা বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্টার্টআপদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি—এসব ক্ষেত্রেই গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন এই প্ল্যাটফর্ম সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
দুবাই চেম্বার্সের মতে, ব্যবসায়িক পরিবেশ যত ভালো হবে, তত বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উদ্যোক্তা দুবাইকে তাদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেবেন। এতে শুধু নতুন বিনিয়োগই আসবে না, কর্মসংস্থানও বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা, উদ্ভাবনী সংস্থা এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্ল্যাটফর্মটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবসার বিভিন্ন ধাপ একসঙ্গে সম্পন্ন করা যায়। একটি কোম্পানি গঠন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় আইনি নথি তৈরি, কর্পোরেট পরিষেবা, অফিস পরিচালনা কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণ—সব ক্ষেত্রেই একাধিক পরিষেবা এক জায়গায় পাওয়া যাবে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনার সময় অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমে যাবে।
দুবাই চেম্বার্স আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র নতুন ব্যবসা নয়, ইতোমধ্যেই যারা দুবাইয়ে ব্যবসা করছেন, তারাও এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উপকৃত হবেন। ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বাজারে প্রবেশ, প্রয়োজনীয় কর্পোরেট পরিষেবা গ্রহণ এবং অংশীদার খোঁজার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে। অর্থাৎ এটি কেবল ব্যবসা শুরু করার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং ব্যবসার প্রতিটি ধাপে সহযোগিতা করার একটি ডিজিটাল পরিকাঠামো।
বিশ্বজুড়ে এখন বিভিন্ন দেশ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু কর ছাড় বা আর্থিক সুবিধা দিলেই হয় না, ব্যবসা করার পরিবেশও সহজ করতে হয়। যে দেশে কম সময়ে এবং কম জটিলতায় ব্যবসা শুরু করা যায়, সেই দেশই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দুবাই সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল পরিষেবার পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। নতুন এই প্ল্যাটফর্ম তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
দুবাইয়ের অর্থনীতি এখন শুধু তেলনির্ভর নয়। পর্যটন, প্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল অর্থনীতিও দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। এই বহুমুখী অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার জন্য আলাদা সহায়তা দিচ্ছে। নতুন প্ল্যাটফর্মটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।








