এক প্ল্যাটফর্মেই ৬৫টির বেশি পরিষেবা, ব্যবসার নতুন দরজা খুলল দুবাই

Business in Dubai platform: দুবাইয়ে ব্যবসা শুরু করা এখন কি আরও সহজ হবে? নতুন ‘বিজনেস ইন দুবাই’ প্ল্যাটফর্মে এক জায়গায় মিলবে ৬৫টির বেশি পরিষেবা। এই উদ্যোগ কি আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ, স্টার্টআপ এবং উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করে দুবাইকে বৈশ্বিক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে?

inscript
৩ মিনিট
এক প্ল্যাটফর্মেই ৬৫টির বেশি পরিষেবা, ব্যবসার নতুন দরজা খুলল দুবাই

দুবাইকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিল দুবাই চেম্বার্স। তারা চালু করেছে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বিজনেস ইন দুবাই’, যার লক্ষ্য নতুন ও পুরনো—দু'ধরনের ব্যবসাকেই এক জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলিও সহজে ব্যবসা শুরু, পরিচালনা এবং সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন পরিষেবা পাবে। দুবাই প্রশাসনের মতে, ব্যবসার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত পরিষেবা দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে একটি নতুন ব্যবসা শুরু করতে গেলে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদা আলাদা যোগাযোগ করতে হয়। লাইসেন্স, আইনি নথি, ব্যাঙ্কিং, কর সংক্রান্ত পরামর্শ কিংবা অফিস স্থাপনের মতো বিভিন্ন কাজের জন্য একাধিক সংস্থার দ্বারস্থ হতে হয়। এতে সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনই বাড়ে খরচও। এই সমস্যার সমাধান করতেই ‘বিজনেস ইন দুবাই’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এখানে এক জায়গা থেকেই ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়া যাবে।

দুবাই চেম্বার্স জানিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত একটি ডিজিটাল গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে। এখানে স্বীকৃত অংশীদার সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন কর্পোরেট পরিষেবা একত্রে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়েই সাতটি অনুমোদিত অংশীদারের সহযোগিতায় ৬৫টিরও বেশি পরিষেবা যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও পরিষেবা এবং নতুন অংশীদার যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য, ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করে তোলা। অনেক সময় নতুন উদ্যোক্তারা সঠিক তথ্যের অভাবে নানা সমস্যায় পড়েন। কোন লাইসেন্স লাগবে, কোথায় আবেদন করতে হবে, কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নতুন প্ল্যাটফর্মটি সেই সমস্যাও অনেকটাই দূর করবে। উদ্যোক্তারা একই জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ এবং পরিষেবা পেয়ে যাবেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আইটির নিশ্চিন্ত চাকরি ছেড়ে স্টার্ট আপ! যেভাবে তিলে তিলে মন জয় করল বিরিয়ানি বাই কিলো

Start up food business Biriyani by kilo : হুবহু একই স্বাদের বিরিয়ানি মেলে দেশের সর্বত্র, কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করল বিরিয়ানি বাই কিলো?

দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একের পর এক সংস্কার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ব্যবসা শুরু করার নিয়ম সহজ করা, ডিজিটাল পরিষেবা বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্টার্টআপদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি—এসব ক্ষেত্রেই গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন এই প্ল্যাটফর্ম সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

দুবাই চেম্বার্সের মতে, ব্যবসায়িক পরিবেশ যত ভালো হবে, তত বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উদ্যোক্তা দুবাইকে তাদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেবেন। এতে শুধু নতুন বিনিয়োগই আসবে না, কর্মসংস্থানও বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা, উদ্ভাবনী সংস্থা এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্ল্যাটফর্মটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবসার বিভিন্ন ধাপ একসঙ্গে সম্পন্ন করা যায়। একটি কোম্পানি গঠন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় আইনি নথি তৈরি, কর্পোরেট পরিষেবা, অফিস পরিচালনা কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণ—সব ক্ষেত্রেই একাধিক পরিষেবা এক জায়গায় পাওয়া যাবে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনার সময় অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমে যাবে।

দুবাই চেম্বার্স আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র নতুন ব্যবসা নয়, ইতোমধ্যেই যারা দুবাইয়ে ব্যবসা করছেন, তারাও এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উপকৃত হবেন। ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বাজারে প্রবেশ, প্রয়োজনীয় কর্পোরেট পরিষেবা গ্রহণ এবং অংশীদার খোঁজার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে। অর্থাৎ এটি কেবল ব্যবসা শুরু করার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং ব্যবসার প্রতিটি ধাপে সহযোগিতা করার একটি ডিজিটাল পরিকাঠামো।

বিশ্বজুড়ে এখন বিভিন্ন দেশ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু কর ছাড় বা আর্থিক সুবিধা দিলেই হয় না, ব্যবসা করার পরিবেশও সহজ করতে হয়। যে দেশে কম সময়ে এবং কম জটিলতায় ব্যবসা শুরু করা যায়, সেই দেশই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দুবাই সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল পরিষেবার পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। নতুন এই প্ল্যাটফর্ম তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

দুবাইয়ের অর্থনীতি এখন শুধু তেলনির্ভর নয়। পর্যটন, প্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল অর্থনীতিও দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। এই বহুমুখী অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার জন্য আলাদা সহায়তা দিচ্ছে। নতুন প্ল্যাটফর্মটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।

জেলের ৭১৬ দিন: কী পড়তেন, কী ভাবতেন, কীভাবে লড়তেন ভগৎ সিং?

Bhagat Singh jail life: জেলখানায় ভগৎ সিংয়ের সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিল বই। দ্বারকাদাস লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান শাস্ত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলের ভিতর বই পাচার করতেন। এই ৭১৬ দিনে তিনি প্রায় ৩০০-র বেশি বই পড়েছেন ভগৎ সিংহ।

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

তৃণমূল থেকে এনসিপি, দল ভাঙে, প্রতীক বদলায়, রাজনীতি কোনদিকে যায়?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।