উন্নয়নের মানচিত্রে নেই আদিবাসী?

Ken Betwa River Linking Project and International Day of the World's Indigenous Peoples: বুন্দেলখণ্ড বললে রাষ্ট্রের চোখে ভেসে ওঠে কেবল একটি ‘অনগ্রসর এবং খরাপ্রবণ এলাকা’। রাষ্ট্রের সোজা হিসাব—যেখানে জল নেই, সেখানে নদীজুড়ে প্রকাণ্ড সিমেন্টের বাঁধ দাও, বড় বড় খাল কাটো, আর নদী থেকে জল তুলে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দাও। এই আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর চিন্তাভাবনা বা ‘টেকনোক্র্যাটিক’ মডেল ধরে নেয় যে, স্থানীয় সাধারণ মানুষের এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই। এই বুন্দেলখণ্ডেই শত শত বছর আগে গোণ্ড এবং সহরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায় প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জল ব্যবস্থাপনার এক অদ্ভুত সুন্দর মডেল তৈরি করেছিলেন।

Deepsubhra Mahato
৫ মিনিট
উন্নয়নের মানচিত্রে নেই আদিবাসী?

প্রতি বছর অগাস্টের ৯ তারিখ এলে ওদের অধিকার, ওদের সংস্কৃতি এবং জল-জঙ্গল-জমির উপর ওদের স্বাধিকার নিয়ে অনেক কথা হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বজুড়ে ওরাই ‘প্রকৃতির আসল রক্ষক’ বলে প্রশংসিত হয়। ওই একদিনই। আর মঞ্চের আলো নিভে গেলেই ওদের লড়াই জারিই থাকে নিজেদের ভিটেমাটির জন্য।

মধ্য ভারতের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে বাস্তবায়িত হতে চলা কেন-বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পকে সরকার তুলে ধরছে এক ঐতিহাসিক উন্নয়ন হিসেবে। বলা হচ্ছে, এই প্রকল্প বুন্দেলখণ্ড এলাকার দীর্ঘদিনের তীব্র জলসংকট ও খরা চিরতরে মিটিয়ে দেবে। কিন্তু তার পরিবর্তে কেবল কয়েক হাজার মানুষকে তাঁদের ভিটেমাটি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, বরং মুছে ফেলা হচ্ছে হাজার বছর ধরে টিকে থাকা আদিবাসী সমাজ, তাঁদের জল-পরিবেশ সংক্রান্ত জ্ঞান এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের গভীর আত্মিক সম্পর্ককেও।

বুন্দেলখণ্ড বললে রাষ্ট্রের চোখে ভেসে ওঠে কেবল একটি ‘অনগ্রসর এবং খরাপ্রবণ এলাকা’। রাষ্ট্রের সোজা হিসাব—যেখানে জল নেই, সেখানে নদীজুড়ে প্রকাণ্ড সিমেন্টের বাঁধ দাও, বড় বড় খাল কাটো, আর নদী থেকে জল তুলে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দাও। এই আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর চিন্তাভাবনা বা ‘টেকনোক্র্যাটিক’ মডেল ধরে নেয় যে, স্থানীয় সাধারণ মানুষের এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই। ইঞ্জিনিয়ারদের বানানো নকশাই নাকি জলসংকট মেটানোর একমাত্র উপায়।

কিন্তু ইতিহাস তা বলে না। এই বুন্দেলখণ্ডেই শত শত বছর আগে গোণ্ড এবং সহরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায় প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জল ব্যবস্থাপনার এক মডেল তৈরি করেছিলেন।

গোণ্ডদের জলপ্রযুক্তি ছিল সম্পূর্ণভাবে অঞ্চলটির ভূতাত্ত্বিক গঠন অর্থাৎ গ্রানাইট ও বেলেপাথরের বিন্যাস বোঝার উপর প্রতিষ্ঠিত। জবলপুর ও গারহা-মান্ডলা অঞ্চলে গোণ্ড রাজাদের আমলে তৈরি করা হয় ‘চেইন অফ ট্যাঙ্কস’। তারা নদীর মূল ধারায় বিশাল বাঁধ না দিয়ে, পাহাড়ি ঢাল থেকে নেমে আসা জলধারাকে কাজে লাগাত। সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত পাহাড়ি গ্রানাইট পাথরের উপর তৈরি হতো মূল সঞ্চয়ী পুকুর, যেমন মহারাজতাল। সেখান থেকে জল উপচে একে একে নিচে নেমে আসত কোলাতাল, দেওতাল, সুপাতাল হয়ে সমতলের গঙ্গাসাগর পর্যন্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রান্তিক মানুষকে উচ্ছেদ করেই কেন বাস্তবায়নের মুখে দেশের প্রথম নদী সংযোগ প্রকল্প?

Ken-Betwa project: দেশের উন্নয়নের বলি হিসেবে বারবার প্রান্তিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁরা বারেবারে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কেন এমনটা ঘটে?

এই শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে জলাধারের আকার ও গভীরতা নির্ধারণ করা হতো মাটির জলধারন ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে। পলিমাটির এলাকায় তৈরি হতো জল আটকে রাখার সঞ্চয়ী ট্যাঙ্ক, আর শিলাযুক্ত বেলেপাথরের এলাকায় তৈরি হতো রিচার্জ ট্যাঙ্ক, যা সরাসরি মাটির ভিতরের জলস্তরকে পুষ্ট করত। কোনো চুন-সুরকি বা সিমেন্টের আধুনিক আবরণ ছাড়াই, কেবল প্রাকৃতিক খাঁজ ও পাথরের বাঁধাই দিয়ে এই ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে বর্ষার পলি এক জায়গায় জমে পুরো জলাধার অকেজো না হয়ে পড়ে। এক ট্যাঙ্কের অতিরিক্ত পলি ও জল পরবর্তী ট্যাঙ্কে পরিশ্রুত হয়ে পৌঁছত।

অন্যদিকে, বুন্দেলখণ্ডের ‘হ্যাভেলি বান্ধি’ ব্যবস্থাটি ছিল আদিবাসী কৃষি-জলবিদ্যার আরেক উদাহরণ। বুন্দেলখণ্ডের কালো মাটির জল ধরে রাখার ক্ষমতা অদ্ভুত। আদিবাসীরা মাটির এই চরিত্রকে কাজে লাগিয়ে ৩০০-৪০০ বছর আগে এই ব্যবস্থার প্রচলন করেন। বর্ষা আসার আগেই চাষের জমির চারপাশে তিন থেকে চার ফুট উঁচু মাটির শক্ত বাঁধ তৈরি করা হতো। বর্ষার জল সেই আবদ্ধ জমিতে মাসের পর মাস জমে থাকত।

এর মূল উদ্দেশ্য দুটি—প্রথমত, দীর্ঘ সময় জল জমে থাকার ফলে কালো মাটি নিজের প্রয়োজনীয় জল শুষে নেওয়ার পর ভূগর্ভস্থ জলের স্তরকে ২ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত উঁচুতে তুলে আনত। দ্বিতীয়ত, বর্ষার জলে ভেসে আসা পলি জমিতে থিতিয়ে পড়ে মাটির উর্বরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিত। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে রবি শস্য বপনের ঠিক আগে বাঁধের জল সাবধানে পাশের নিচু নালা বা পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হতো। এরপর সেই ভিজে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে কোনো কৃত্রিম সেচ বা বোরওয়েলের পাম্প ছাড়াই গম বা ছোলার অবিশ্বাস্য ফলন হতো। এমনকী খরার বছরেও, যে জমিতে হ্যাভেলি ব্যবস্থা সক্রিয় থাকত, সেখানকার মাটির আর্দ্রতা ফসলকে শুকিয়ে যেতে দিত না।

সহরিয়াদের মতো বন-নির্ভর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানও কম নয়। শিবপুরী ও মোরেনা অঞ্চলের সহরিয়ারা বনাঞ্চলের সালে বা সালাই গাছের বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে ভূগর্ভস্থ জলের গভীর সম্পর্ক বুঝতেন। তাঁরা জানতেন কোনো পাহাড়ি ঝরনার মুখে ছোট পাথরের বাঁধ বা চেকা বাঁধ দিলে কীভাবে বনভূমির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং প্রাকৃতিক স্প্রিংগুলি বছরের পর বছর বেঁচে থাকে।

এখন যখন হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নদী বাঁধার বড় বড় প্রকল্প তৈরি হচ্ছে, তখন গোণ্ড বা সহরিয়াদের এই সুপ্রাচীন ও পরিবেশবান্ধব জ্ঞান হয়ে যাচ্ছে ‘অবৈজ্ঞানিক’ বা ‘অপ্রাসঙ্গিক’।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন-বেতোয়া প্রকল্পে ক্ষোভ বিস্ফোরণ: জ্বলন্ত চিতায় শুয়ে প্রতিবাদ, আদিবাসীদের দাবি ‘ন্যায় দাও, না হলে মেরে ফেলো’

Ken Betwa Link Project: সমাজকর্মী ও জননেতা অমিত ভটনাগরকে পুলিশ আটক করে। আন্দোলনকারী নেত্রী দিব্যা আহিরওয়ারের অভিযোগ, পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তার কারণ অমিত ভটনাগর কেন-বেতোয়া প্রকল্পে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার একটি দুর্নীতি সর্বসমক্ষে নিয়ে আসছিলেন।

স্থানীয়দের প্রতিবাদ

কেন-বেতোয়া প্রকল্পের মূল চিন্তাটাই দাঁড়িয়ে আছে নদীকে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে না দেখে, তাকে স্রেফ কতগুলি পাইপলাইনের জোড়াতালি হিসেবে দেখার উপর। সরকারি খাতায় ধরে নেওয়া হয়েছে ‘কেন’ নদীতে নাকি অতিরিক্ত জল আছে, আর ‘বেতোয়া’ নদীতে জলের অভাব। তাই কেন নদীর জল কেটে বেতোয়ায় নিয়ে যেতে হবে।

কিন্তু জলবায়ু বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি আস্ত নদীর বাস্তুতন্ত্রে এই ‘উদ্বৃত্ত’ বা অতিরিক্ত জল বলে কিছু হয় না। নদীর জল কেবল মানুষের খাওয়ার জন্য নয়; নদী তার সঙ্গে পলি বয়ে আনে, নদীর উপর নির্ভর করে চারপাশের জঙ্গল টিকে থাকে, নদীর জলে ভেসে বেড়ায় মাছ, আর দুই তীরের জীববৈচিত্র্য বাঁচে।

গোণ্ড এবং কোল আদিবাসীদের কাছে কেন নদী স্রেফ একটি জলের উৎস নয়, তাঁদের জীবন ও ঐতিহ্যের এক পবিত্র অংশ। নদী এবং তার সংলগ্ন পান্না জঙ্গল ছিল তাঁদের যৌথ সম্পদ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাঁরা বনের কাঠ, ফলমূল, ভেষজ উদ্ভিদ আর নদী থেকে নেওয়া পরিমিত জল দিয়ে নিজেদের জীবন চালিয়ে এসেছেন, আবার জঙ্গলকেও রক্ষা করেছেন।

আজ কেন-বেতোয়া প্রকল্পের দৌলতে পান্না ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকার হাজার হাজার হেক্টর ঘন জঙ্গল জলের তলায় তলিয়ে যেতে বসেছে। কেটে ফেলা হচ্ছে কোটি কোটি গাছ। নদীকে বাস্তুতন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে যখনই তাকে স্রেফ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে জল নিয়ে যাওয়ার কৃত্রিম নালা বানিয়ে ফেলা হয়, তখন নদী তার প্রাণ হারায়। আর নদী প্রাণ হারালে ধ্বংস হয়ে যায় সেই নদীর উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা আদিবাসী সমাজও।

আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে ভারত নিজেদের পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরে, বা ‘মিশন লাইফ’ (Lifestyle for Environment)-এর মতো বিশ্বজনীন উদ্যোগের মাধ্যমে আদিবাসীদের ‘প্রকৃতির বন্ধু’ বলে প্রশংসায় ভরিয়ে দেয়। কিন্তু কেন-বেতোয়া প্রকল্পের জন্য সমস্যায় পড়ছেন তাঁরাই। একদিকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে বন রক্ষা করার এবং কার্বন নির্গমন কমানোর, আর অন্যদিকে পান্নার মতো একটি সমৃদ্ধ বনভূমি পুরোপুরি জলে ডুবে যেতে বসেছে।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আদিবাসী মানুষের সুরক্ষায় যে সব আইন রয়েছে, সেগুলির কী হলো? আন্তর্জাতিক স্তরে জাতিসংঘের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে—যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মতামত ও স্বাধীন সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক, যাকে বলা হয় 'ফ্রি, প্রায়োর অ্যান্ড ইনফর্মড কনসেন্ট' (FPIC)। ভারতেও ২০০৬ সালের ‘বন অধিকার আইন’ (FRA) অনুযায়ী, গ্রামসভাগুলির কাছে ক্ষমতা দেওয়া আছে তাঁদের বনাঞ্চলের উপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

তাহলে এক্ষেত্রে কী হলো? অভিযোগ উঠেছে, বুন্দেলখণ্ডের ধুলোউড়ো গ্রামগুলিতে কেন-বেতোয়া প্রকল্পের জন্য গ্রামসভাগুলির সম্মতি নেওয়ার যে ঘটনা, তা স্রেফ আইওয়াশ। অনেক ক্ষেত্রে আদিবাসী মানুষের কাছে প্রকল্পটির প্রকৃত ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয়নি। কোথাও আবার কোনো বৈঠক না করেই নথিপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুন্দেলখণ্ডের জলসংকট কোনো বানানো গল্প নয়, সংকটটি অত্যন্ত বাস্তব। কিন্তু তার সমাধান কি স্রেফ নদীকে ধ্বংস করে, আদিবাসীদের উচ্ছেদ করেই সম্ভব?

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।

কর্নওয়ালিস স্ট্রিট থেকে বিধান সরণি, ধর্মতলা থেকে লেনিন সরণি: যেভাবে ক্ষমতাসীনরা বদলেছে কলকাতার রাস্তার নাম

Renaming politics of kolkata's street: লটারি কমিটির কর্নওয়ালিস স্ট্রিট নির্মাণ থেকে বামফ্রন্টের লেনিন সরণি, হো চি মিন সরণি—কলকাতার রাস্তার নামকরণ প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ছিল। ২০২৬ সালে, বিজেপি সরকারের উৎসাহে দশ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে লেনিন, কার্ল মার্কস ও হো চি মিন সরণির নাম বদলের সুপারিশ করতে। কিন্তু নাম বদলালেই কি মানুষের স্মৃতি বদলায়?

মাছে-ভাতে বাঙালি, দুর্গাপুজোর ভোগেও আমিষের চল, কী বলছে শোভাবাজার রাজবাড়ির ২৭০ বছরের ইতিহাস?

Durga Puja non vegetarian food: পুজোর দিনগুলিতে সকালে রাজবাড়ির সদস্যরা উপোস করে অঞ্জলি দেন এবং পুজোর কাজে অংশ নেন। দিনের সেই সময়ে তাঁরা নিরামিষ খাবারই গ্রহণ করেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর আমিষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। অর্থাৎ পুজোর প্রত্যেক দিনই পরিবারের সদস্যরা মাছ-মাংস খান।

বাংলা কবিতায় যুক্তি ও আবেগের সেতু গড়েছিলেন বিনয় মজুমদার

Binoy Majumdar: বিনয় মজুমদারের কাব্যভাষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল প্রচলিত ‘কবিত্ব’-এর থেকে সচেতন দূরত্ব। তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা অনেক সময় কবিতার পরিবর্তে কোনো বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত নোট, গাণিতিক অনুমান অথবা যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের মতো মনে হয়।

স্বাধীনতার আগেই নেতাজি যেভাবে এঁকেছিলেন আধুনিক ভারতের অর্থনীতির নকশা

Subhas Chandra Bose economic vision: “কদম কদম বঢ়ায়ে যা, খুশি কে গীত গায়ে যা…” যখনই এই গান বেজে ওঠে, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাপতি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি। খাকি উর্দি, চোখে গোল চশমা আর হাতে উদ্যত তরবারি। কিন্তু এই সৈনিক রূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন এক অসামান্য অর্থনৈতিক দূরদর্শী—যিনি কেবল ব্রিটিশদের তাড়ানোর স্বপ্ন দেখেননি, দেশ স্বাধীন হলে তার কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ কীভাবে দু’মুঠো ভাত পাবে, সেই হিসেবও কষেছিলেন নিখুঁত অঙ্কে।

গণতন্ত্রের আলো প্রতিফলিত হয় ব্যক্তির চরিত্রে, শিখিয়েছিলেন সুমিত সরকার

Historian Pradip Kumar Datta on Sumit Sarkar's historiographical legacy: ‘হিস্ট্রি ফ্রম বিলো’ থেকে আখ্যান বিশ্লেষণ, সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস থেকে হিন্দুত্বের উত্থান—সুমিত সরকারের চিন্তার নানা পর্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৌদ্ধিক সম্পর্ক রয়েছে ইতিহাসবিদ প্রদীপ কুমার দত্তের। ‘কারভিং ব্লকস’ ও ‘হেটেরোজিনিয়েটিস’-এর সূত্র ধরে ইতিহাস, সাম্প্রদায়িকতা ও মিথ-হিস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় অত্রি ভট্টাচার্য।