হলদিরামের রান্নাঘরে আরশোলা! নামী রেস্তোরাঁয় খাবেন কী ভরসায়?
Cockroaches in Haldiram Prabhuji: নামী রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েও কি নিশ্চিন্ত থাকা যায়? কৈখালির ভিআইপি রোডের ধারে হলদিরাম প্রভুজিতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে রান্নাঘরে আরশোলা ও অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ সামনে এসেছে। দু’দিন রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। এর আগে কলকাতার একাধিক খাবারের প্রতিষ্ঠানেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তাহলে নিরাপদ খাবারের ভরসা কোথায়?
বাইরে ঝকঝকে পরিবেশ, পরিচিত ব্র্যান্ড, খাবারের জন্য মানুষের ভিড়, দামও কম নয়। কিন্তু সেই রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে যদি আরশোলা ঘুরে বেড়ায়, তা হলে খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। এবার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে এমনই ছবি সামনে এল কৈখালির ভিআইপি রোডের ধারে হলদিরাম প্রভুজি রেস্তোরাঁয়। রান্নাঘরে অপরিচ্ছন্নতা ও আরশোলার উপস্থিতি দেখতে পেয়ে দু’দিন রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। তবে এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগে কলকাতা ও আশপাশের একাধিক নামী রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে বাসি খাবার, পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভিযোগ সামনে এসেছিল। তাহলে সাধারণ মানুষ বাইরে খেতে গিয়ে ভরসা করবেন কীসের উপর?
হলদিরাম প্রভুজিতে ঠিক কী ঘটেছে?
২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার, কৈখালির ভিআইপি রোডের ধারে হলদিরাম প্রভুজি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাবার তৈরির জায়গায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আরশোলার উপস্থিতি নজরে আসে তাঁদের। এর পরেই রেস্তোরাঁটি দু’দিন বন্ধ রেখে রান্নাঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রেস্তোরাঁর কর্মী রাঘব পোদ্দার জানান, ফ্লাই ক্যাচার কাজ করছিল না। পাশাপাশি, তার ও কাউন্টারের কিছু সমস্যা মেরামত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রেস্তোরাঁয় পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে পুনরায় পরিদর্শন করবেন আধিকারিকরা। তাঁরা পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সন্তুষ্ট হলেই হলদিরাম পুনরায় খোলার অনুমতি পেতে পারে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Foods Shortening Life Span: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত মাংস (দু' টুকরো বেকনের সমতুল্য) খাওয়া আপনার মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৪% বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর আগে কোথায় কী অনিয়ম সামনে এসেছিল?
হলদিরামের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও, তার আগে কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
নাগেরবাজারের আরসালান ও রং দে বসন্তী ধাবা: সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নাগেরবাজারের একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরসালান ও ডায়মন্ড প্লাজার রং দে বসন্তী ধাবাতেও পরিদর্শন করা হয়েছিল। খাবারের গুণমান, ফ্রিজারে রাখা মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী, মেয়াদ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। তবে এই দুই প্রতিষ্ঠানে ঠিক কোন খাবারে কী অনিয়ম পাওয়া গিয়েছিল, তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে আলাদা করে কোনও অভিযোগকে নিশ্চিত ঘটনা বলা যায় না।
সল্টলেকের একটি রেস্তোরাঁ: সম্প্রতি সল্টলেক সিটি সেন্টারের কাছে একটি রেস্তোরাঁয় অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ পনির ও বাসি মাংস পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
FSSAI Notice: নামী চকোলেট ব্র্যান্ড লটে ইন্ডিয়া (Lotte India), উপহার সামগ্রী ও কেক-চকোলেট বিক্রেতা সংস্থা ফার্নস এন পেটালস (Ferns N Petals) এবং কুবেরা ফুডস (Kubera Foods)-কে কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে FSSAI। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করে FSSAI জানিয়েছে, এই কোম্পানিগুলিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে।
ট্যাংরার বিগ বস রেস্তোরাঁ: কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে এই রেস্তোরাঁর হিমঘরে সংরক্ষিত মাংস ও চিংড়ি এবং পোড়া তেল নিয়ে আপত্তি ওঠে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ব্যবহারের অনুপযুক্ত তেল খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এ ছাড়াও কলকাতার বিভিন্ন জনপ্রিয় খাবারের প্রতিষ্ঠানে অভিযানের সময় রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্নতা, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া উপকরণ, কাঁচামাল সংরক্ষণ এবং পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে।
নামী ব্র্যান্ড মানেই কি নিরাপদ খাবার?
সাধারণত মানুষ পরিচিত ব্র্যান্ডের রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে কিছুটা নিশ্চিন্ত বোধ করেন। মনে করেন, বেশি ক্রেতা এবং বেশি দাম মানেই খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা ভালো হবে। কিন্তু হলদিরামের মতো পরিচিত প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘরেও যদি অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ ওঠে, তা হলে সেই ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আরশোলা নোংরা জায়গা থেকে রান্নাঘরে ঢুকে খাবার, বাসনপত্র ও রান্নার সরঞ্জাম দূষিত করে। এর ফলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
শুধু অভিযান চালিয়ে কোনও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখাই যথেষ্ট নয়। রান্নাঘর পরিষ্কার করা হয়েছে কি না, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কার্যকর কি না, তা পুনরায় পরীক্ষা করা জরুরি। অনিয়ম ধরা পড়লে সংশোধনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থাও নিতে হবে।
একই সঙ্গে অভিযানের ফলাফল সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ ক্রেতারা খাবারের উপাদান, সংরক্ষণের পদ্ধতি কিংবা রান্নাঘরের অবস্থা নিজেরা যাচাই করতে পারেন না। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব খাদ্য ব্যবসায়ীদের।
হলদিরাম হোক বা অন্য কোনও নামী রেস্তোরাঁ, পরিচ্ছন্নতা কোনও অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং নিরাপদ খাবার পরিবেশনের ন্যূনতম শর্ত। সেই শর্ত পূরণ না হলে পরিচিত ব্র্যান্ডের নামও ক্রেতাদের নিশ্চিন্ত করতে পারে না। নামী রেস্তোরাঁয় যদি রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে, তা হলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাবারের ভরসা পাবেন কোথায়?






