প্যাকেটে এক, ভিতরে আরেক! লটে-সহ ৩ সংস্থাকে কড়া নোটিশ FSSAI-এর
FSSAI Notice: নামী চকোলেট ব্র্যান্ড লটে ইন্ডিয়া (Lotte India), উপহার সামগ্রী ও কেক-চকোলেট বিক্রেতা সংস্থা ফার্নস এন পেটালস (Ferns N Petals) এবং কুবেরা ফুডস (Kubera Foods)-কে কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে FSSAI। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করে FSSAI জানিয়েছে, এই কোম্পানিগুলিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে।
প্যাকেটে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘১০০% নিরামিষ’, ‘একদম খাঁটি’ কিংবা ‘কোনো কৃত্রিম রং বা কেমিক্যাল নেই’। আর আমরাও প্যাকেটের সেই লেখাগুলি দেখে চোখ বন্ধ করে ওই খাবার কিনে নিই। কিন্তু সেই চকচকে প্যাকেটের ভিতরে কি সবসময় সেই একই বস্তু থাকে, যা দাবি করা হয়?
খাবারের প্যাকেটে এমন ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ক্রেতাদের ঠকানোর অভিযোগে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল দেশের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSSAI। নামী চকোলেট ব্র্যান্ড লটে ইন্ডিয়া (Lotte India), উপহার সামগ্রী ও কেক-চকোলেট বিক্রেতা সংস্থা ফার্নস এন পেটালস (Ferns N Petals) এবং কুবেরা ফুডস (Kubera Foods)-কে কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে তারা।
ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করে FSSAI জানিয়েছে, এই কোম্পানিগুলিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। তারা যদি সন্তোষজনক কারণ দেখাতে না পারে, তবে ‘খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লটে ইন্ডিয়া: '১০০% নিরামিষ' চকো পাই নিয়ে বড় প্রশ্ন!
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Organic products: ‘অর্গানিক’, ‘ন্যাচারাল’, ‘ইকো-কনশাস’, ‘সাসটেইনেবলি সোর্সড ইনগ্রেডিয়েন্টস’, ‘প্লাস্টিক-নিউট্রাল প্যাকেজিং’—এই লেবেলগুলি কি সত্যিই আমাদের স্বাস্থ্যের কিংবা প্রকৃতির কোনো উপকার করছে, নাকি পুরোটাই আমাদের পকেট কাটার একটা কর্পোরেট মার্কেটিং কৌশল?
আমাদের চেনা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্র্যান্ড 'লটে চকো পাই' (Lotte Choco Pie) নিয়ে বড়সড় গরমিল খুঁজে পেয়েছে FSSAI। তদন্তে দেখা গিয়েছে লটে চকো পাই-এর তিনটি জনপ্রিয় ফ্লেভার—'রিচ মার্শম্যালো', 'রিয়েল অরেঞ্জ' এবং 'চকো বার্স্ট'-এর প্যাকেটে '১০০% ভেজিটেরিয়ান' বা নিরামিষ বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি তদন্তে দেখা গিয়েছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর। লটে-র 'ফ্রুটস এক্লেয়ার্স' (Fruitz Eclairs) চকোলেটের আম, কমলালেবু ও স্ট্রবেরি ফ্লেভারের প্যাকেটে ফলের ছবি ও নাম থাকলেও, ভিতরে আসলে কোনো ফলের উপাদানই নেই। তাদের 'পেপেরো ক্রাঞ্চি বিস্কুট স্টিকস' এবং 'পেপেরো অরিজিনাল বিস্কুট স্টিকস'-এর প্যাকেটে নিয়ম অনুযায়ী পুষ্টির সঠিক তালিকা (যেমন কত ক্যালোরি বা ফ্যাট আছে) দেওয়া হয়নি। লটে-র 'ললি ব্লিস ললিপপ'-এ সরকারি নিয়ম মেনে যতটা ভিটামিন থাকার কথা, তা পাওয়া যায়নি। এছাড়া কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই কোম্পানিটি তাদের প্যাকেটে পুরনো নাম ব্যবহার করে আসছিল।
কুবেরা ফুডস: সামনে এক, পিছনে আরেক!
কুবেরা ফুডসের 'সফট অ্যান্ড ফ্রেশ ক্রিম বান পাইনঅ্যাপেল' নামক পাউরুটির প্যাকেটে যে জালিয়াতি ধরা পড়েছে, তা একপ্রকার চোখ কপালে তোলার মতো।
কোম্পানিটি তাদের এই বানের প্যাকেটের সামনের দিকে বড় বড় করে লিখে রেখেছে—"১০০% ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক" এবং "কোনো প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম রং বা ফ্লেভার নেই"। অথচ ক্রেতারা যখন প্যাকেটের পিছনের উপাদানের তালিকা (Ingredient list) উল্টে দেখবেন, সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে—এতে কৃত্রিম রং, কৃত্রিম ফ্লেভার এবং প্রিজারভেটিভ (যেমন INS 282, INS 110) মেশানো হয়েছে! আইন অনুযায়ী এইভাবে 'খাঁটি' বা 'তাজা' শব্দ ব্যবহার করে ক্রেতাদের ঠকানো দণ্ডনীয় অপরাধ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Consumer Rights: শ্রিঙ্কফ্লেশন (Shrinkflation) নামের এক নীরব চোরও আছে। আপনার প্রিয় বিস্কুটের প্যাকেটের দাম ১০ টাকাই আছে, কিন্তু ওজন কমে গেছে ১০ গ্রাম। আপনি ভাবছেন দাম বাড়েনি, অথচ আপনি আসলে ঠকছেন প্রতি কামড়ে।
ফার্নস এন পেটালস: 'প্রিমিয়াম' চকোলেটের আড়ালে সস্তা চর্বি
উপহারের জন্য ফার্নস এন পেটালস-এর চকোলেটের বেশ নাম ডাক রয়েছে। কিন্তু তাদের 'রোস্টেড অ্যালমন্ড চকোলেট' (Roasted Almond Chocolate)-এর প্যাকেজিংয়েও বড়সড় গলদ পেয়েছে FSSAI।
চকোলেট তৈরিতে সাধারণত দামি 'কোকো বাটার' ব্যবহার করার কথা। কিন্তু এই চকোলেটে ব্যবহার করা হয়েছে সস্তা দামের 'হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল ফ্যাট' বা ডালডা জাতীয় চর্বি। অথচ প্যাকেটের সামনে বুক ফুলিয়ে লেখা হয়েছে 'প্রিমিয়াম চকোলেট'। এছাড়া এই চকোলেটে কতটা বাদাম আছে বা দৈনিক শরীরের জন্য কতটা পুষ্টি এতে মিলবে, তার কোনো সঠিক হিসাব প্যাকেটে দেওয়া নেই।
খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা FSSAI ইদানীং ক্রেতাদের স্বাস্থ্য ও স্বার্থ রক্ষায় ভীষণ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনো সাধারণ ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে, আবার অনেক সময় কোনো অভিযোগ ছাড়াই সংস্থাটি নিজে থেকে বাজারচলতি খাবার পরীক্ষা করে এই ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিছুদিন আগেই ‘হেরিটেজ ফুডস’ নামের একটি সংস্থাকেও তাদের "ফ্রেশ পনির" নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
আজকাল FSSAI তাদের এই সমস্ত অ্যাকশনের কথা সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিয়মিত শেয়ার করছে, যাতে সাধারণ মানুষ সচেতন হতে পারেন।
তাই এরপর থেকে যেকোনো প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় শুধু প্যাকেটের সামনের চটকদার বিজ্ঞাপন বা বড় বড় লেখা দেখে ভুলবেন না। প্যাকেটটি ঘুরিয়ে পিছনের ছোট ছোট অক্ষরে লেখা উপাদানের তালিকা (Ingredients) এবং পুষ্টির বিবরণী (Nutritional Information) ভালো করে পড়ে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। সচেতনতাই আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখবে।






