আপৎকালীন ভাণ্ডারে ছ'দিনের তেল সঞ্চিত রয়েছে ভারতের কাছে, তারপর?
India oil reserves: ছ’দিনের তেলেই কি চলবে ভারত? পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সরবরাহ বন্ধ হলে কী হবে জ্বালানি নিরাপত্তা, দাম ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ?
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে। ভারতের ভান্ডারে যা তেল রয়েছে তাতে বড়জোর ছ'দিন চলবে।। একটি সরকারি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে তেল সরবরাহ ব্যহত বিশ্বজুড়েই। ভারত যেহেতু বেশিরভাগ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে, তাই এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কা বাড়ছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের রাজ্যসভায় দেওয়া লিখিত জবাবে এই তথ্য স্পষ্ট হয়েছে। মন্ত্রী সুরেশ গোপি জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেডের (আইএসপিআরএল) কাছে বর্তমানে প্রায় ৩৩ লক্ষ ৭২ হাজার টন ক্রুড অয়েল মজুত রয়েছে। এটি মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৬৪ শতাংশ। বিশাখাপত্তনম, মঙ্গালুরু ও পাদুরে তিনটি ভূগর্ভস্থ রিজার্ভার রয়েছে। পুরোপুরি ভর্তি হলে এই তিনটি জায়গায় ৫৩ লক্ষ টন তেল রাখা যায়। সেক্ষেত্রে দেশের দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী প্রায় সাড়ে নয় দিনের তেল পাওয়া যাবে। কিন্তু বর্তমান মজুত অনেক কম। ফলে বাস্তবে মাত্র ছয় দিন জোগান অব্যবহত রাখা সম্ভব হবে। সুরেশ গোপী আরও বলেছেন, ঠিক কতদিন চলবে তা নির্ভর করবে দৈনিক খরচের উপর।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Iran Conflict: ইরান-আমেরিকা সংঘাতে আদৌ কি কোনো পক্ষ জিততে পারবে?শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে? এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?
ভারতের তেল আমদানির পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। দেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ ক্রুড তেল বিদেশ থেকে আসে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আসে। জাহাজ চলাচলে সমস্যা না মিটলে হলে ভারতের তেল সরবরাহ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ ব্যাহত হলে দামও আকাশছোঁয়া হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (Strategic Petroleum Reserve বা SPR) হলো দেশের জন্য আপত্কালীন তেলের জোগান। এটি সাধারণ তেলের ভাণ্ডার নয়। বিশেষ করে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক সংকট বা তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা যাতে থেমে না যায়, সেজন্য সরকার এই বিশেষ সঞ্চয় গড়ে তোলে।সহজ কথায়, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বীমা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Iran US conflict: ইরান-আমেরিকা সংঘাত নতুন করে ভিয়েতনাম যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে? ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিত, হরমুজ প্রণালী বন্ধ ও তেলবাজারের অস্থিরতায় প্রশ্ন উঠছে, এটি কি চাপে পড়ে নতি স্ৱীকার নাকি আমেরিকার পিছু হটা?
এদিকে কেন্দ্রের তরফে মজুত বাড়ানোর জন্য বাজেটে যথেষ্ট টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ৫ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে খরচ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছ বরাদ্দ আরও কমিয়ে ২০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে মজুত বাড়ানোর কাজ ধীরগতিতে চলছে। বারংবার প্রশ্ন উঠছে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে।
সরকারি ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। দেশের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে, তেলের চাহিদাও তত বাড়ছে। গাড়ি, কলকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই তেলের প্রয়োজন। যদি আমদানি বন্ধ হয় বা দাম বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শিল্প পর্যন্ত সবকিছু প্রভাবিত হবে। তাই মজুত তেলের পরিমাণ বাড়ানো এখন খুব জরুরি।
সরকারের তরফে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা কেউ জানে না। তাই নিজেদের তেলের মজুত যতটা সম্ভব বাড়িয়ে রাখা উচিত। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই সতর্কবার্তা কতটা গুরুত্ব দিয়ে নেয় এবং মজুত বাড়ানোর কাজ কত দ্রুত এগোয়। ভারতের মতো বড় অর্থনীতির পক্ষে তেলের নিরাপত্তা শুধু একটি অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও অংশ।
উল্লেখ্য, ন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সি (IEA) সদস্য দেশগুলিকে ৯০ দিনের মজুত রাখার পরামর্শ দেয়। ভারতের বাণিজ্যগোষ্ঠাগুলির কাছে এই মুহূর্তে মোট ৭৪ দিনের তেল সঞ্চিত রয়েছে, ভাঁড়ারে তেলের পরিমাণ সেই মানদণ্ডেরও নীচে। ফলে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।






