মারণ রোগে বিশ্বের প্রথম স্থানে ভারত, সমীক্ষায় উঠে এল যে ভয়ানক তথ্য
Cervical Cancer : সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের প্রধান কারণ হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস

ক্যান্সার। মারণ রোগ। এই মারণ রোগের বিভিন্ন ধরনের মধ্যে অন্যতম হলো সার্ভিক্যাল ক্যানসার। সমীক্ষা বলছে, এই সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে প্রতি বছর ভারতে ৭৭ হাজারের মতো মহিলা মারা যান। সাম্প্রতিক ল্যানসেট সমীক্ষা অনুসারে, এশিয়ার সবথেকে সার্ভিকাল ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ভারতেই। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পার করেও দেশের ৪৫ কোটিরও বেশি নারী ও মহিলা এই মারণ রোগের ঝুঁকিতেও রয়েছেন।
এই সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের প্রধান কারণ হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। মাইল্ড ডিসপ্লাসিয়া সমস্যা হিসেবে শুরু হওয়া এই রোগ ১০ থেকে ২০ বছরের ব্যবধানে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের আকার নেয়। মূলত যোনির রক্তপাত থেকেই ছড়ায় এই রোগের টিস্যু। মাসিকের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এমনকী যৌন মিলনের ক্ষেত্রে মহিলারা যদি অতিরিক্ত ব্যাথা উপলব্ধি করেন, তবে সেটিও ইঙ্গিত দিতে পারে ক্যানসারের। প্রাথমিকভাবে টিস্যু ও প্রজনন অঙ্গগুলির কাছাকাছি টিউমার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্ভিক্যাল ক্যানসার হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Medical science : ফুসফুসের ক্যানসার সারাতে হাজির রোবট, যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের পথে বিজ্ঞানীরা
এছাড়াও যোনি স্রাবের রং যদি ফ্যাকাসে সাদা, গোলাপি, বা লালচে রঙের হয় বা তাতে যদি দুর্গন্ধ থাকে তবে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজন। এগুলি এড়িয়ে গেলে ডেকে আনতে পারেন সমূহ বিপদ। সার্ভিকাল ক্যানসারের অন্য আরেকটি লক্ষণ হল অবিরাম কোমরে যন্ত্রণা। পাশাপাশি এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খিদের পরিমাণ কমে যেতেও দেখা যায় যা সার্বিকভাবে ওজন কমিয়ে দেয়। শুধু তাই নয় এর প্রভাব পড়তে পারে শরীরের হাড়ের ওপরও। ফলে হাড় গুলি ধীরে ধীরে দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায় অনেকক্ষেত্রেই।
সার্ভিক্যাল ক্যান্সারকে রোখার একমাত্র উপায় হল এইচপিভি ভ্যাকসিন এবং এই রোগের নিয়মিত স্ক্রিনিং। সম্প্রতি একটি আলোচনায় ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশন প্রধান ডাঃ এন কে অরোরা জানিয়েছেন, সার্ভিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস খুবই কার্যকরী হতে পারে, এমনকী সঠিক সময়ে রোগটি নির্ণয় করা হলে তা নিরাময়যোগ্য বলেও মনে করেছেন তিনি।
যেহেতু এই রোগের ক্ষেত্রে ভারতের পরিস্থিতি ভয়ানক ছিল তাই প্রয়োজন ছিল শীঘ্র টিকাকরণের।NTAGI-এর তরফে জানানো হয়েছে, আগামী বছর মাঝামাঝি সময়ে ৯-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য টিকাকরণ অভিযান শুরু হবে । ২০২৩-এর এপ্রিল-মে নাগাদ সার্ভিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা ।
সার্ভিক্যাল ক্যানসার থেকে মুক্তির জন্য এই এ টিকাকরণ পদ্ধতি কতটা জরুরী তা আর বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। উপরন্তু বিশ্বের বাজারে এই টিকা একেবারেই নেই তাই ভারতেই টিকা তৈরি হওয়ায় পর্যাপ্ত জোগান মিলবে। অনেক বেশি সংখ্যক নাগরিক এই টিকা নিতে পারবে। বিদেশের উপর নির্ভরশীলতাও অনেকটাই কমবে।






