চাকরি চাই? চাকরি আছে, কত দিতে পারবেন?
তদন্তকারীদের হাতে এমন তথ্য এসেছে বলে দাবি, অন্তত ১৫০ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী, ড্রাইভার-সহ একাধিক পদে এই নিয়োগ হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরই দুর্নীতির তদন্তে গতি! সোমবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করার পর গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, জেরার সময় একাধিক প্রশ্নে অসঙ্গতিপূর্ণ উত্তর দিয়েছেন তিনি এবং তদন্তে সহযোগিতা করেননি। পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে PMLA আইনে এই গ্রেফতারি হয়েছে।
ইডি সূত্রে দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুজিত বসু। তদন্তকারীদের হাতে এমন তথ্য এসেছে বলে দাবি, অন্তত ১৫০ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী, ড্রাইভার-সহ একাধিক পদে এই নিয়োগ হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। শুধু সুপারিশ নয়, চাকরির বিনিময়ে কারও কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে প্রাক্তন দমকল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
তদন্তকারীদের দাবি, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত একটি ‘ক্যাশ ফর জবস’ চক্র গড়ে উঠেছিল। কারও কাছ থেকে নগদ টাকা, কারও কাছ থেকে জমি বা ফ্ল্যাট নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ইডি ইতিমধ্যেই কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক নগদ লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। পাশাপাশি, একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পত্তিকেও ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং নিরুপম সেনের আমলে তিনি শিল্প দপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সিঙ্গুরে টাটাদের জমি অধিগ্রহণের সময় তিনি ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন কালেক্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে প্রশাসনিক স্তরে তাঁর স্বচ্ছতা ও নির্ভীকতা প্রশংসিত হয়েছিল।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, পুরসভার চাকরির জন্য নির্দিষ্ট ‘রেটচার্ট’ তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, লেবার পদে চাকরি পেতে দিতে হত প্রায় ৪ লাখ টাকা। সাফাইকর্মী, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদের ক্ষেত্রেও একই অঙ্ক নেওয়া হত বলে অভিযোগ। আর টাইপিস্ট পদের জন্য দর উঠত প্রায় ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত।
তদন্তে উঠে এসেছে একটি নির্দিষ্ট জমি সংক্রান্ত তথ্যও। ইডির দাবি, একটি জমিতে বাড়ি নির্মাণ করা হলেও জমির মালিককে সম্পূর্ণ অর্থ দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে ওই পরিবারের চার সদস্যকে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় চাকরি দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের মতে, এই নিয়োগই ছিল প্রকৃত ‘লেনদেনের মাধ্যম’।
ইডির আরও দাবি, শুধু দক্ষিণ দমদম পুরসভা নয়, রাজ্যের অন্তত ১৭টি পুরসভায় প্রায় এক হাজার বেআইনি নিয়োগের সূত্র মিলেছে। আর এই গোটা চক্রের নেপথ্যে সুজিত বসুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৪ মে সন্ধ্যার সবচেয়ে বড় চমক ছিল অন্য একটি দৃশ্য। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন যখন এক বিশাল পুষ্পমাল্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে গেলেন, মোদি সেই মালা গ্রহণ না করে উল্টে নিতিনের গলাতেই পরিয়ে দিলেন। কিন্তু এখানেই দর্শকদের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, কেন এই ব্যতিক্রমী আচরণ? কেন এক দুঁদে রাজনীতিকের হাত থেকে মালা নিয়ে তাঁকে পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই পুরসভাগুলিতে নিয়োগে অনিয়মের বিষয় সামনে আসে বলে জানা যাচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই একের পর এক নথি, নিয়োগ তালিকা এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য হাতে পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর সুজিত বসুর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয় বলে খবর। তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বাড়ি থেকে ওষুধ এনে দেওয়া হয়। রাতভর আর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি তাঁকে। মঙ্গলবার সকালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি নেয় ইডি। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও জানানো হতে পারে।
এই একই মামলায় এর আগেও একাধিকবার তলব করা হয়েছে রথীন ঘোষকে। তবে তিনি বারবার হাজিরা এড়িয়েছেন বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। অতীতে বারবার প্রশ্ন উঠেছে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত তো শুরু করে— কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় না।
এখন দেখার, পুর-নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত কোন পথে এগোয়।
যতদূর জানা যাচ্ছে, তদন্ত এখন শুধু দক্ষিণ দমদম পুরসভায় সীমাবদ্ধ নেই। কাঁচরাপাড়া, নিউ ব্যারাকপুর, কামারহাটি, টিটাগড়, বরানগর, হালিশহর-সহ একাধিক পুরসভাতেও একই ধরনের নিয়োগ দুর্নীতির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের বিস্তার আরও বড় হতে পারে।
ইডি-র হাতে গ্রেফতার সুজিত বসু, ঠিক কী কী অভিযোগ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে?






