কেন গ্রেফতার গর্গ চট্টোপাধ্যায়? যা জানালেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার
কমিশনার জানান, নির্বাচন চলাকালীন গর্গ চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়।
ইভিএম বিকৃতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট এবং তা ঘিরে “ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি” ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বাংলাপক্ষ-র সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ।
কমিশনার জানান, নির্বাচন চলাকালীন গর্গ চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়। পুলিশের দাবি, সেই পোস্ট ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।
অজয় নন্দ বলেন,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তদন্তকারীদের হাতে এমন তথ্য এসেছে বলে দাবি, অন্তত ১৫০ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী, ড্রাইভার-সহ একাধিক পদে এই নিয়োগ হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
“ডিও নর্থ অভিযোগ করেছিলেন যে নির্বাচনের সময় EVM বিকৃতি নিয়ে পোস্ট করেছিলেন। EVM বিকৃতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। ওঁর পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়, বিভ্রান্তি ছড়ায়। রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান আন্দোলন করতে। সেই নিয়ে চারিদিকে গুজব ছড়ায়। এর বিরুদ্ধে ডিও মামলা করেছিলেন।”
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সাইবার ক্রাইম শাখার তরফে দু’বার নোটিস পাঠানো হয়েছিল গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি বলেই দাবি পুলিশের। কমিশনারের কথায়,
“সেই মতো মামলা হয়েছিল। নোটিস দিয়ে দু'বার ডাকা হয়। ওঁকে দু'বারই আসেননি। তার পরই গ্রেফতার করা হয়।”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং নিরুপম সেনের আমলে তিনি শিল্প দপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সিঙ্গুরে টাটাদের জমি অধিগ্রহণের সময় তিনি ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন কালেক্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে প্রশাসনিক স্তরে তাঁর স্বচ্ছতা ও নির্ভীকতা প্রশংসিত হয়েছিল।
কলকাতা থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে শুধু ইভিএম সংক্রান্ত পোস্ট নয়, গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলার কথাও উল্লেখ করেন পুলিশ কমিশনার। সেই মামলাটি দায়ের হয়েছিল ময়দান থানায়।
অজয় নন্দ বলেন,
“পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা ছিল। বার বার ওঁর তরফে পোস্ট আসছিল, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানা কথা বলছিলেন। এতে ভেদাভেদ তৈরি হচ্ছিল। ওই মামলাতেও ওঁকে সংযুক্ত করা হবে।”
গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব গর্গর কাছে কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। এই গুজব ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন বাংলাপক্ষের সহকারী সম্পাদক কৌশিক মাইতি। ইনস্ক্রিপ্টকে তিনি বলেন,
"একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে গর্গকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই পোস্টে ইভিএম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন গর্গ। একটা আইফোন আর একটা ওয়ান প্লাস ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি ওঁর কাছে।”








