এবার টার্গেট অরুন্ধতী রায়! ভোটের আগে পথের কাঁটা সরানোই লক্ষ্য?

Arundhati Roy : ২০১০ সালে বুকারজয়ী সাহিত্যিক অরুন্ধতী ও কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শওকত হোসেন একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেই বক্তৃতা উস্কানিমূলক দাবি করে দায়ের হয়েছিল এফআইআর।

Sohini Das
৩ মিনিট
এবার টার্গেট অরুন্ধতী রায়! ভোটের আগে পথের কাঁটা সরানোই লক্ষ্য?

বিরোধীকে বলতে না দেওয়াই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এ দেশের রাজনীতিতে। এবার রাজরোষের মুখে বুকারজয়ী সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়। কিছুদিন আগেই আমরা দেখেছি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাজরোষের ফলাফল। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে গ্রেফতার করা হয় স্বাধীন সংবাদমাধ্যম নিউজক্লিকের একাধিক সাংবাদিক ও কর্তাব্যক্তিকে। এবার রাজরোষ এসে পড়ল প্রখ্যাত সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়ের উপরে। মাটি খুঁড়ে তুলে আনা হল তেরো বছর আগের একটি মামলা।

২০১০ সালে বুকারজয়ী সাহিত্যিক অরুন্ধতী ও কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শওকত হোসেন একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেই বক্তৃতা উস্কানিমূলক দাবি করে দায়ের হয়েছিল এফআইআর। তেরো বছর পর সেই মামলা শুরু করার অনুমতি দিয়েছে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা।

মামলাটি দায়ের করেছিল সুশীল পণ্ডিত ও ‘রুটস ইন কাশ্মীর’ নামের এক কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সংগঠন। বুকারজয়ী সাহিত্যিক ও অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ, ১৫৩বি ও ৫০৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 'আজাদি: দ্য অনলি ওয়ে' নামের ওই অনুষ্ঠানে কাশ্মীরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার দাবি তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে এই সংগঠনটি। ওই ভাষণকে উস্কানিমূলক বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অপরের জন্য লিখে সাহিত্যে নোবেল, কে এই জন ফসে?

Nobel Prize in Literature 2023: ফসে তাঁর ভাষার জনপ্রিয়তম সাহিত্যিক। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখাতে তাঁর অবাধ যাতায়াত। উপন্যাস, কবিতা থেকে নাটক, প্রায় সব শাখাতেই তুখোড় তাঁর কলম।

বিরোধিতা করলেই তার বিরুদ্ধে নামছে রাজদণ্ড। এ যেন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকের ভারতে। সংবাদমাধ্যম হোক, বুকার জয়ী সাহিত্যিক। যে কোনও বিরোধীস্বরকে কোণঠাসা করাটাই যেন মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে শাসকদলের। কখনও তা উস্কানিমূলক ভাষণের অভিযোগ, তো কখনও চিনের থেকে অর্থসাহায্য নেওয়ার নালিশ।

দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে অরুন্ধতীদের ওই ভাষণের পরেই তাঁদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতার সমর্থনে মুখ খোলার অভিযোগ তোলা হয়। সেই মামলা দায়ের হয়েছিল ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে। প্রায় ১৩ বছর পর ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইতিহাস খুঁড়ে তুলে আনা হল সেই মামলা। কারণ কি সেই বিরোধীস্বর। যাকেই এতদিন ধরে আমরা বিরোধীস্বর বলে জেনে এসেছি। অরুন্ধতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি দাবি করেছিলেন যে, ‘কাশ্মীর কোনও দিনই ভারতের অংশ ছিল না। তাকে জোর করে সেনা পাঠিয়ে দখল করা হয়েছিল।’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রবীণ সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতাকে বারবার হেনস্থা, কীসের মাশুল?

NewsClick Journalists Harassed : পরঞ্জয় সাম্প্রতিক অতীতে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করে দাবি করেন যে, তাঁর ফোন পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে হ্যাক করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, সাহিত্যিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে নাকি ১২৪এ ধারা প্রয়োগেরও চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে যেহেতু দেশদ্রোহ সংক্রান্ত ওই আইনে আপাতত মামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত, তাই সেই ছাড়টুকু দেওয়া হয় এফআইআরে। দোষী সাব্যস্ত হলে এই মামলায় সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে বিশিষ্ট এই সাংবাদিকের।

১৯৯৭ সালে 'গড অব স্মল থিংস' বইয়ের জন্য বুকার পুরস্কার জেতেন অরুন্ধতি। তাঁর একাধিক লেখা আজও বেস্টসেলার। এরই মধ্যে আবার অরুন্ধতীর লেখা ‘আজ়াদি: ফ্রিডম, ফ্যাসিজ়ম, ফিকশন’-এর ফরাসি অনুবাদ ৪৫তম ‘প্রি অয়রোপিন দ্য লেসাই’ পুরস্কার পেয়েছে। ভারতীয় লেখকদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কারে ভূষিত হলেন। এক বিবৃতিতে জুরি জানায়, ‘অরুন্ধতী রায় প্রবন্ধকে হাতিয়ার করে লড়েছেন। আজকের জীবনে অন্যতম বড় সমস্যা ফ্যাসিজ়মের স্বরূপ উদ্ঘাটন করেছেন নানা স্তরে।

নভেম্বরেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট। রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, মিজোরাম, তেলঙ্গানা ও মধ্যপ্রদেশে বিভিন্ন দফায় ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগ্রহণ। ভোটের ফলাফল আগামী ৩ ডিসেম্বর। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগে কি জাতীয়বাদের ধুয়ো তুলতে চাইছে ভারতের শাসকদল। উসকে তুলতে চাইছে মেরুকরণের রাজনীতি! আজ থেকে নয়, বহু বছর ধরেই বিরোধীস্বরকে সমূলে নির্মূল করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি সরকার। কখনও আর্বান নকশাল তকমা দিয়ে, তো কখনও উস্কানিমূলক ভাষণের অভিযোগ, যে ভাবে ফ্যাসিবাদকেই রাজনীতির পথে পাথেয় করেছে বিজেপি সরকার, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সমাজের বিভিন্ন স্তরের শুভচেতনাসম্পন্ন মানুষই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।