কংগ্রেস ভেঙে কী ভাবে বেরিয়েছিলেন মমতা?
Mamata Banerjee: কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনৈতিক জীবনের শুরু হলেও কেন দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নব্বইয়ের দশকে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ কতটা গভীর হয়েছিল? কী ভাবে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তুলেছিলেন তিনি, আর সেই সিদ্ধান্তই বা কী ভাবে বদলে দিয়েছিল বাংলার রাজনীতির গতিপথ?
বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সবচেয়ে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্যতম। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার শুরুটা হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরেই। আটের দশকে তরুণ নেত্রী হিসেবে যাঁর উত্থান, সেই মমতাকে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে তুলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি, যুব কংগ্রেসের নেতৃত্বে উঠে আসা, পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া—সবটাই হয়েছিল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলির একটি ছিল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দল গঠন করা। অথচ তাঁর রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরেই। সত্তর ও আশির দশকে ছাত্র ও যুব রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা মমতা দ্রুতই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৮৪ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএমের প্রবীণ নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছিলেন তিনি। এরপর যুব কংগ্রেসের নেতৃত্ব, সাংসদ পদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেয়ে তিনি কংগ্রেসের অন্যতম উদীয়মান নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পান।
কিন্তু নব্বইয়ের দশকে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের অন্দরে দ্বন্দ্ব ক্রমশ তীব্র হতে শুরু করে। সেই সময় প্রদেশ কংগ্রেসের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী নেতা ছিলেন সোমেন মিত্র। সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ, বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কৌশল এবং দল পরিচালনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোমেন মিত্রের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে থাকে। মমতার অভিযোগ ছিল, রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্ব সিপিএমের বিরুদ্ধে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক নয় এবং বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর বিরোধী রাজনীতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের একাংশ মনে করত, মমতা অত্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি করছেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা মানছেন না।
১৯৯৬-৯৭ সালের মধ্যে এই সংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসে। মমতা তখন বারবার দাবি করতে থাকেন, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে এবং বামফ্রন্ট বিরোধী ভোটকে একত্র করতে হবে। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব এতটাই বাড়ে যে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরেই তাঁকে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।
১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক বৃহৎ সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস থেকে আলাদা রাজনৈতিক পথের ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন দলের জন্য আবেদন করা হয় এবং সেই বছরের শুরুতেই আত্মপ্রকাশ করে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নামেই ছিল বার্তা—কংগ্রেসের ‘তৃণমূল’ স্তরের কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা।
তৃণমূল গঠনের সময় মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী বেরিয়ে এলেও প্রদেশ কংগ্রেসের বড় অংশ সোমেন মিত্রের সঙ্গেই থেকে যায়। ফলে বাংলার বিরোধী রাজনীতি কার্যত দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে—একদিকে কংগ্রেস, অন্যদিকে নবগঠিত তৃণমূল কংগ্রেস। পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে তৃণমূল দ্রুত কংগ্রেসের রাজনৈতিক জমি দখল করতে শুরু করে। দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলায় কংগ্রেসের সংগঠন ভেঙে তৃণমূলের দিকে চলে যায়। ধীরে ধীরে তৃণমূলই পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Trinamool Congress: তৃণমূল কংগ্রেস তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর বড় প্রশ্ন উঠছে, দলের প্রতীক ও সম্পত্তির দাবিদার কে? কী বলে আইন? নির্বাচন কমিশন কী ভাবে ঠিক করে কোন গোষ্ঠী আসল দল? শিবসেনা ও এনসিপির মতো নজির কি তৃণমূলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেস ত্যাগ ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্র বদলের সূচনা। যে সংঘাত একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোমেন মিত্রের মধ্যে শুরু হয়েছিল, তার ফলেই বাংলার রাজনীতিতে কংগ্রেসের জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে।
জাতীয় রাজনীতিতে নিজের জায়গা শক্ত করতে তিনি হাত মেলান অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির সঙ্গে। কেন্দ্রের এনডিএ সরকারে মন্ত্রীও হন। ১৯৯৯ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির থেকে দূরত্ব বাড়ে তৃণমূলের। ২০১১ সালের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে আবার কংগ্রেসের সঙ্গেই জোট করে লড়াইয়ে নামে তৃণমূল। সেই জোটই বাংলার ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটায়। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর আবারও কংগ্রেস ও তৃণমূলের পথ আলাদা হয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ তীব্র হতে থাকে। কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী তৃণমূলে যোগ দেন। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজ্যে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কংগ্রেসকে দুর্বল করার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই অভিযোগের পিছনে নানা ঘটনাও রয়েছে। ২ মার্চ ২০২৩ সালে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন বায়রন বিশ্বাস। কিন্তু জয়ের তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, ২৯ মে ২০২৩-এ তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। একইভাবে দলবদলের রাজনীতির খেলায় কংগ্রেস পরিচালিত ঝালদা পুরসভাও দখল করেছিল তারা। ২০১৫ সালের পুরভোটে মুর্শিদাবাদ জেলার ৭টি পুরসভার একটিতেও জেতেনি তৃণমূল। কিন্তু, বিরোধী দল ভাঙিয়ে একে একে সবকটি পুরসভা দখল করে তারা। দল ভাঙিয়ে কংগ্রেস শাসিত জেলা পরিষদও দখল করেছিল তৃণমূল।
একই অভিযোগ উঠেছিল পুর রাজনীতিতেও। ২০২২ সালে পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভায় ১৪টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছিল ৫টিতে, তৃণমূলও পেয়েছিল ৫টি আসন। বাকি আসনগুলি গিয়েছিল নির্দল ও অন্যান্য প্রার্থীদের দখলে। নির্বাচনের পর নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থনে কংগ্রেস বোর্ড গঠন করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একাধিক কাউন্সিলরের দলবদল ও সমর্থন পরিবর্তনের জেরে পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল পুরসভার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসে। কংগ্রেস অভিযোগ করে, নির্বাচনে জনগণের রায় তাদের পক্ষে থাকলেও রাজনৈতিক চাপ ও দলবদলের মাধ্যমে সেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
মুর্শিদাবাদেও একই ধরনের অভিযোগ বহুবার উঠেছে। ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে জেলার সাতটি পুরসভার একটিতেও জয় পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। বহরমপুর, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ, ধুলিয়ান, জঙ্গিপুর, কান্দি, বেলডাঙা এবং মুর্শিদাবাদ—অধিকাংশ পুরসভাতেই কংগ্রেস বা বামপন্থীরা এগিয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তী কয়েক বছরে বিরোধী দলের একাধিক কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দেন। তার ফলে ধীরে ধীরে একের পর এক পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যায় এবং তৃণমূল বোর্ড গঠনে সক্ষম হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Trinamool Congress: ৫০-এর বেশি বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নতুন সমীকরণ স্পষ্ট করে দিল, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত আর সকলের কাছে শেষ কথা নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ এবং তৃণমূলের প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্র কোথায়, সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
জেলা পরিষদের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল কংগ্রেসের হাতে। অধীর চৌধুরীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় দীর্ঘদিন কংগ্রেসের প্রভাব বজায় ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একাধিক জেলা পরিষদ সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় কংগ্রেস। ২০১৬ সালে তৃণমূল জেলা পরিষদের দখল নেয়। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনে জিতে নয়, বরং জনপ্রতিনিধিদের দলবদল করিয়ে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলির কারণে কংগ্রেসের একাংশের মধ্যে এখনও ক্ষোভ রয়েছে। তাদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ার পিছনে শুধু নির্বাচনী পরাজয় নয়, তৃণমূলের ধারাবাহিকভাবে নেতা, বিধায়ক, কাউন্সিলর ও জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দলে টেনে নেওয়ার রাজনীতিও বড় কারণ। সেই কারণেই আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতা বাড়ার জল্পনা তৈরি হতেই প্রদেশ কংগ্রেসের একটি বড় অংশ পুরনো অভিজ্ঞতার কথা তুলে প্রশ্ন তুলছে।
এই ইতিহাসই আজ আবার সামনে চলে এসেছে। কারণ, দিল্লিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজনৈতিক বৈঠক নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। ১০ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক হয় তাঁর বাসভবন ১০ জনপথে। এরপর ১১ জুন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখা করেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে।
দু'টি বৈঠকের পরই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন নিয়েও জল্পনা ছড়াতে শুরু করে। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে এই সমস্ত জল্পনায় দ্রুত জল ঢেলে দেয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ এক্সে (টুইটার) জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনো পদ দেওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে লেখেন, এই ধরনের খবর নিছক গুজব এবং বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
তবুও প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এই বৈঠকগুলির রাজনৈতিক তাৎপর্য কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমানে তৃণমূল এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে জাতীয় স্তরে শক্তিশালী মিত্রের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেশি। গত কয়েক মাসে দলের ভিতরে ভাঙনের খবর, একাধিক নেতার দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং সংগঠনের নানা সমস্যার কারণে তৃণমূলের অবস্থান আগের মতো দৃঢ় নেই বলে বিরোধীদের দাবি। সেই পরিস্থিতিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী রাখার প্রশ্নে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখাটা তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রয়োজনও হতে পারে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের অবস্থানও সহজ নয়। পশ্চিমবঙ্গে দল এখনও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেসের একটি বড় অংশ মনে করে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল তাদের রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে দিল্লির নেতৃত্ব যদি তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতেও চায়, তা সহজে মেনে নিতে রাজি নন অনেক রাজ্য নেতা।
জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে একজোট করার প্রয়োজনীয়তা যেমন রয়েছে, তেমনই বাংলায় কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতও বাস্তব।
তাই আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরা নিয়ে যতই আলোচনা হোক, তাঁর পক্ষে কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখনও দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূল নেতৃত্বও বলছে, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। কংগ্রেসও আনুষ্ঠানিকভাবে জল্পনা খারিজ করেছে।
তবে ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস বলছে, এখানে অসম্ভব বলে কিছু নেই। যে মমতা একসময় কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজের রাজনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, সেই মমতাকেই আবার কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা যাচ্ছে। সেটা কেবল বিরোধী ঐক্যের স্বার্থে, নাকি তার পিছনে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা এখনই বলা কঠিন।







