সাদা কাগজে কালো কালো কালির রেখায় প্রতিবাদ: কেন মারজান সাতরাপি আজও প্রাসঙ্গিক

Marjane Satrapi: তাঁকে শুধু একজন গ্রাফিক নভেলিস্ট, চলচ্চিত্র নির্মাতা কিংবা লেখক বললে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। তিনি আসলে ছিলেন স্মৃতির এক স্থপতি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ইতিহাসের সঙ্গে তিনি এমন নিখুঁতভাবে জুড়ে দিয়েছিলেন যে, এই দুটিকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব।

UTPAL SARKAR
৬ মিনিট
সাদা কাগজে কালো কালো কালির রেখায় প্রতিবাদ: কেন মারজান সাতরাপি আজও প্রাসঙ্গিক

কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া রেখাগুলি কখনো মুছে যায় না। সময়ের বৃষ্টি, ইতিহাসের ধুলো কিংবা রাজনীতির ঝড়—কোনো কিছুই সেইসব চিহ্নকে মলিন করতে পারে না। মারজান সাতরাপি ছিলেন তেমনই এক অনন্য শিল্পী। সাদা কাগজ আর কালো কালির টানে তিনি মানুষের স্মৃতি, নির্বাসন, প্রতিবাদ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে তাঁর প্রতিটি কাজ আজও সমান জীবন্ত।

১৯৬৯ সালের ২২ নভেম্বর ইরানের রাশত শহরে জন্ম নেওয়া এই দূরদর্শী শিল্পী, ২০২৬ সালের ৪ জুন প্যারিসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাত্র ছাপ্পান্ন বছর বয়সে। তাঁর চলে যাওয়া যেন একটি গোটা শিল্পযুগের অবসান, অথচ তাঁর সৃষ্টি এখনও পৃথিবীর অসংখ্য পাঠকের সঙ্গে কথা বলে চলেছে।

তাঁকে শুধু একজন গ্রাফিক নভেলিস্ট, চলচ্চিত্র নির্মাতা কিংবা লেখক বললে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। তিনি আসলে ছিলেন স্মৃতির এক স্থপতি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ইতিহাসের সঙ্গে তিনি এমন নিখুঁতভাবে জুড়ে দিয়েছিলেন যে, এই দুটিকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। তাঁর হাতে শৈশবের ভয়, পারিবারিক আড্ডা, যুদ্ধের আতঙ্ক, নির্বাসনের একাকিত্ব আর মানুষের দৈনন্দিন হাসি—সবকিছু মিলেমিশে এক সহজ ও চিরন্তন শিল্পভাষা হয়ে গিয়েছিল।

তেহরানে মারজানের বেড়ে ওঠা ছিল এক চরম রাজনৈতিক আলোড়নের মধ্য দিয়ে। তাঁর পরিবারে রাষ্ট্র, সমাজ, ন্যায়বিচার আর স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা ছিল রোজকার ব্যাপার। চোখের সামনেই তখন বদলে যাচ্ছিল পুরো ইরান। এক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটছে, আর অন্য একটি শক্তি ক্ষমতা দখল করছে। কিন্তু ক্ষমতার এই পালাবদলের মাঝেও সাধারণ মানুষের জীবনে রয়ে গিয়েছিল গভীর উদ্বেগ, কড়া নজরদারি আর এক অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কা।

এরই মধ্যে শুরু হয় ইরান-ইরাক যুদ্ধ। সাইরেনের তীক্ষ্ণ শব্দ, বোমার বিস্ফোরণ, চেনা মানুষদের হারিয়ে যাওয়া, কারাগারের নির্মম গল্প আর আড়ালে ফিসফিসিয়ে বলা রাজনৈতিক আলোচনা—সবকিছুই জমা হচ্ছিল মারজানের মনে। এই অভিজ্ঞতাই একদিন জায়গা করে নেয় তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টি Persepolis (পারসেপোলিস)-এর পাতায়। সাদা-কালো ছবির ফ্রেমে তিনি বন্দি করেছিলেন এমন এক সময়কে, যার আসল রঙ তৈরি হয়েছিল ভয়, আশা, ক্ষতি আর প্রতিরোধের মিশ্রণে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পদ্মশ্রী পেলেন, কিন্তু বদলাল না লোকশিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায়ের জীবন

প্রায় এক শতাব্দী দীর্ঘ জীবনে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন সমাজের নানা পরিবর্তন—ব্রিটিশ শাসনের অন্তিম পর্ব থেকে স্বাধীন ভারতের গঠন, তারপর আধুনিকতার দ্রুত বিস্তার। কিন্তু এই পরিবর্তনের ভিড়ে তিনি কখনও নিজের শিকড় ভুলে যাননি।

Persepolis-এর সেই ছোট্ট ‘মারজি’ চরিত্রটি আসলে মারজান সাতরাপির নিজেরই প্রতিচ্ছবি। সে যেমন ছিল একগুঁয়ে, তেমনই সময়ের আগেই বড় হয়ে ওঠা এক সচেতন মানুষ। চারপাশের চেনা পৃথিবীটা যখন ছোট হয়ে আসছিল, তখন মারজির কল্পনা আর প্রশ্নের জগৎ ততটাই বড় হচ্ছিল। সাতরাপির আঁকার রেখাগুলি ছিল আশ্চর্য রকমের সহজ-সরল, কিন্তু সেই সরলতার ভিতরেই লুকিয়ে ছিল গভীর পর্যবেক্ষণ। মানুষের মনের ভয়, কৈশোরের বিদ্রোহ, রাষ্ট্রের দমন-পীড়ন কিংবা টিকে থাকার জন্য মানুষের ছোট ছোট মজার কৌশল—সবকিছুই তাঁর চোখে সমান গুরুত্ব পেত।

মারজান সাতরাপির শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল জীবনের জটিলতাকে মেনে নেওয়ার সাহস। তিনি কখনো সুবিধাজনক কোনো গল্প বলেননি। পশ্চিমা বিশ্বের কাছে ইরানি নারীরা কেবলই অসহায়তার প্রতীক নন, আবার নিজের দেশের শাসনব্যবস্থার চোখেও তাঁরা নিখুঁত আদর্শ নাগরিক নন—এই মধ্যবর্তী সত্যটিই তিনি তুলে ধরেছিলেন। তাঁর গল্পের চরিত্ররা ছিল একদম বাস্তব মানুষের মতো—যারা একই সঙ্গে সাহসী আবার দুর্বল, যেমন প্রেমময় তেমনই ক্ষুব্ধ, কখনো ভীষণ আশাবাদী আবার কখনো তীব্র ভয়ে জড়োসড়ো।

তাঁর সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘নির্বাসন’। কৈশোরে দেশ ছাড়ার পর তিনি ইউরোপে দীর্ঘ সময় কাটান এবং পরবর্তীতে ফ্রান্সে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ভৌগোলিক দূরত্ব কখনো তাঁর মনের স্মৃতিকে দূরে সরাতে পারেনি। তিনি ফরাসি ভাষায় লিখেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর মন বারবার ফিরে গিয়েছে পারস্যের উঠোনে, তেহরানের রাস্তায়, শৈশবের ঘরে আর হারিয়ে যাওয়া মানুষদের কাছে।

Persepolis 2, Embroideries এবং Chicken with Plums—তাঁর প্রতিটি বই যেন একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন রূপ: একটা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কতখানি রাজনৈতিক হতে পারে? আর একজন সাধারণ মানুষের স্মৃতি কি কখনো রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাস থেকে আলাদা থাকা সম্ভব?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
থিয়েটার কি কেবল বিনোদন, নাকি প্রতিরোধেরও ভাষা?

একদিকে রবীন্দ্রসদন বা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস, যেগুলি এখন প্রোসেনিয়াম থিয়েটারের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সেই একই চত্বরে অবস্থিত রানু ছায়া মঞ্চ, যা একটি উন্মুক্ত পারফরম্যান্স স্পেস হওয়া সত্ত্বেও নাগরিক নজরে প্রায় অদৃশ্য। অথচ সাম্প্রতিক ‘রিক্লেইম দ্য নাইট’ আন্দোলনের সময় এই চত্বরটিই হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদ, গান, কবিতা ও শরীরী উপস্থিতির এক বিকল্প মঞ্চ।

যেমন ধরা যাক Embroideries বইটির কথা। সেখানে কয়েকজন নারীর বিকেলের সাধারণ এক আড্ডা ধীরে ধীরে রূপ নেয় সমাজ, প্রেম, যৌনতা, পুরুষতন্ত্র আর স্বাধীনতা নিয়ে এক গভীর আলোচনায়। বাইরে থেকে একে স্রেফ সাধারণ গল্প মনে হলেও, সেখানে নারীদের হাসি, অভিমান, আকাঙ্ক্ষা এবং হতাশা হয়ে ওঠে প্রতিরোধের ভাষা। ক্ষমতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী লড়াইটা যে কখনো কখনো ঘরের ভিতরের চার দেওয়ালের মধ্যেই জন্ম নেয়—সাতরাপি সেই সত্যিটা খুব ভালো করেই জানতেন।

অন্যদিকে Chicken with Plums বইটি মৃত্যুর অপেক্ষার গল্প বলে মনে হলেও, এটি আসলে জীবনে বেঁচে থাকার অর্থ হারিয়ে ফেলার এক করুণ কাহিনি। সেখানে শিল্প, প্রেম আর স্মৃতির টুকরো একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। মারজানের প্রতিটি কাজেই এক আশ্চর্য দ্বৈততা দেখা যায়—হাসির ঠিক পাশেই লুকিয়ে থাকে কান্না, কোমলতার হাত ধরে আসে নির্মমতা, আর ব্যক্তিগত স্মৃতির উপর এসে পড়ে ইতিহাসের দীর্ঘ ছায়া।

যখন তাঁর বিখ্যাত গ্রাফিক নভেল Persepolis চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হলো, তখন তাঁর তৈরি শিল্প পৌঁছে গেল বিশ্বজুড়ে আরও লাখ লাখ মানুষের কাছে। অ্যানিমেশন ছবি হলেও এই সিনেমাটি তার রাজনৈতিক তীক্ষ্ণতা কখনোই হারিয়ে ফেলেনি। একটা অবুঝ শিশুর চোখে দেখা পৃথিবী আর রাষ্ট্রীয় সহিংসতার নির্মম বাস্তবতা সেখানে পাশাপাশি চলেছে। এই সিনেমা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মনে নতুন করে একটা বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল—একটি দেশকে আমরা ঠিক কীভাবে চিনি, আর কাদের চোখ দিয়ে তাকে দেখি?

সাতরাপি তাঁর কাজের মাধ্যমে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো দেশকে কেবল তার সরকার দিয়ে বোঝা যায় না। একটা দেশকে বুঝতে হলে চিনতে হয় তার সাধারণ মানুষকে—তাদের হাসি, ভয়, ভালবাসা, ভুলত্রুটি, প্রতিবাদ আর চোখের স্বপ্ন দিয়ে। তাই মারজান সাতরাপির শিল্পের মূল কেন্দ্রে সবসময় জায়গা পেয়েছে সাধারণ মানুষ, কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভাওয়াইয়া শিল্পী সুনীতি রায়: অভাবের সঙ্গে লড়াই করেও থামেনি মাটির গান

Suniti Roy Bhawaiya singer: শিল্পী সুনীতি রায় এই ঐতিহ্যবাহী ধারাকেই তাঁর কণ্ঠের মাধ্যমে নতুন প্রাণ দিয়েছেন। তাঁর গাওয়া গানগুলোতে মাটির গন্ধ আর সাধারণ মানুষের আবেগ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছেও ভাওয়াইয়াকে সমানভাবে জনপ্রিয় করে তুলছে।

মারজান সাতরাপির কাজের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল গভীর কষ্টের মধ্যেও চমৎকার হাস্যরসের উপস্থিতি। দাদির ছোটখাটো মজার অভ্যাস, এক কিশোরীর নিজেকে চেনার চেষ্টা কিংবা পারিবারিক আড্ডার মৃদু হাসি—এই সাধারণ মুহূর্তগুলি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষ শুধু ভুক্তভোগী নয়। সেই কষ্টের মধ্যেও মানুষ প্রেমে পড়ে, টুকটাক মিথ্যা বলে, আশায় বুক বাঁধে, ভুল করে এবং আবার নতুন করে বাঁচতে শেখে।

বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেও তাঁর অবদান কখনো ভোলার নয়। দীর্ঘদিন ধরে ‘গ্রাফিক নভেল’ বা কমিকসধর্মী বইকে অনেকেই হালকা বা কম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মনে করতেন। কিন্তু সাতরাপি দেখিয়ে দিলেন, স্রেফ কয়েকটি সাধারণ কালো রেখা আর ছোট ছোট খোপের (প্যানেল) মধ্যেও একটা আস্ত জাতির ইতিহাস ধরে রাখা যায়। একটা বিপ্লবের ক্ষত, একটা সাধারণ মেয়ের বড় হয়ে ওঠা আর নির্বাসনের দার্শনিক প্রশ্নকে ধারণ করা সম্ভব, তা তিনি প্রমাণ করেছিলেন। আজ তাঁর কাজ বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকায় নামী সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি সমান মর্যাদায় স্থান পায়।

তাঁর এই সৃজনশীল লড়াই পরবর্তী প্রজন্মের বহু নতুন শিল্পীকে পথ দেখিয়েছে, সাহস জুগিয়েছে। বিশেষ করে নারী শিল্পী এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের লেখকেরা তাঁর কাছ থেকে শিখেছেন যে, নিজের অতি সাধারণ জীবনটাও সাহিত্যের বড় উপাদান হতে পারে। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও কখনো কখনো পৃথিবীর সমস্ত মানুষের চেনা গল্প হয়ে উঠতে পারে।

তবু তিনি নিজেকে কখনো কোনো ‘আদর্শ নায়ক’-এর আসনে বসাতে দেননি। নিজের ভিতরের দুর্বলতা, দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি সবসময় অকপট ও সৎ ছিলেন। এমনকী শিল্পের আসল ক্ষমতা কতটুকু, তা নিয়েও তাঁর মনে প্রশ্ন ছিল। তিনি জানতেন, একটা ভালো গল্প হয়তো মানুষের মনকে নাড়া দিতে পারে, পৃথিবী বদলানোর স্বপ্ন দেখাতে পারে, কিন্তু মনের সব গভীর ক্ষতকে এক নিমেষে সারিয়ে তুলতে পারে না। এই সততাই তাঁকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছিল।

আজ মারজান সাতরাপি নেই। কিন্তু তাঁর আঁকা সেই চেনা কালো রেখাগুলির ভিতর এখনও হেঁটে চলে এক ছোট্ট মেয়ে—যে কোনো অন্যায় দেখলে প্রশ্ন করতে একটুও ভয় পায় না। সেই রেখাগুলির মধ্যেই আজও স্পষ্ট দেখা যায় তেহরানের চেনা রাস্তা, যুদ্ধের কালো ছায়া, নির্বাসনের দীর্ঘশ্বাস আর মানুষের স্বাধীনতার অনন্ত স্বপ্ন।

সাদা কাগজের বুকে কালো কালির টানে তিনি এঁকেছিলেন ইতিহাসের এমন কিছু ধূসর অধ্যায়, যা সহজে চোখে পড়ে না। সেই ছবিগুলির ভিতরেই লুকিয়ে আছে একটি দেশের আত্মা, একটি সাধারণ মেয়ের বড় হয়ে ওঠার গল্প আর মানুষের মনের অবিনশ্বর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। তাঁর আঁকার হাত আজ হয়তো চিরতরে থেমে গিয়েছে, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া রেখাগুলি এখনও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে—নিঃশব্দে, দৃঢ়ভাবে, এক টুকরো উজ্জ্বল আলোর মতো।

তথ্যসূত্র:

Persepolis, Persepolis 2, Embroideries, Chicken with Plums; Encyclopaedia Britannica; Encyclopaedia Iranica; The Guardian; Euronews; The Week এবং মারজান সাতরাপির বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও প্রামাণ্য নথি।

লিখেছেন
UTPAL SARKAR
UTPAL SARKAR
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।

কুম্ভের রাস্তা চওড়া করতে ভাঙা পড়ল মসজিদ, উজ্জয়িনীর ঘটনায় উঠছে যে প্রশ্ন

Legal Battle of ujjain's Shahi masjid: ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতিতে উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের তিন ফুট অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের ২৭২টি ভবনের তালিকায় রয়েছে ৮০টিরও বেশি ধর্মীয় স্থাপনা। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাতভর আলোচনার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ছত্রি চকে ছোড়া হয় পাথর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ছুড়তে হয় কাঁদানে গ্যাস।

নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।