সোনালি ফিরলেও ঝুলে রইল সুইটিদের ভাগ্য, এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন?
Sonali Khatun: গত ২০ অগাস্ট থেকে চাপাইনবাবগঞ্জ সংশোধনাগারে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বন্দি ছিলেন সোনালি খাতুনরা।

বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি খাতুন দেশে ফিরেছেন। তবে তাঁর স্বামী দানিশ শেখ এবং অন্য আরেক পরিযায়ী শ্রমিক সুইটি বিবির দেশে ফেরা এখনও সমান অনিশ্চিত। শুক্রবার শীর্ষ আদালত তাঁদের নথি পরীক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলল।
দীর্ঘ আইনি লড়াই, নানা বাধা অতিক্রম করে অবশেষে দেশে ফিরেছেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন। গত ৫ ডিসেম্বর রাতে মালদহের মেহেদিপুর সীমান্ত দিয়ে আট বছরের পুত্র সন্তান-সহ বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেন সোনালি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে দেশে ফেরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন সোনালির সঙ্গেই বাংলাদেশে ঘাড় ধাক্কা খাওয়া ৩৩ বছর বয়সি সুইটি বিবি ও তাঁর দুই সন্তান কুরবান (৬) ও ইমরান (১২) এবং সোনালির স্বামী দানিশ শেখ। তাঁদের দেশে ফেরানোর জন্য এখনও চলছে আইনি লড়াই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Pregnant Migrant Worker Sunali Khatun: বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারও চায়, সোনালি ও তাঁর পরিবার যেন নিজেদের দেশে ফিরতে পারে।”
শুক্রবার সোনালিদের বাংলাদেশে পুশব্যাকের মামলা শোনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। সোনালি এবং তাঁর আট মাসের সন্তানকে ফেরানো হয়েছে কি না, জানতে চান বিচারপতি প্রধান বিচারপতি। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা জানান, সোনালিরা দেশে ফিরেছেন। তারপর প্রধান বিচারপতি জানতে চান, সোনালির কোনো সাহায্যের প্রয়োজন কি না। বিচারপতি বাগচী উল্লেখ করেন, অন্য আবেদনটি (বাংলাদেশে আটকে থাকা চারজন) আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, “এটি গুরুত্বসহকারে পরীক্ষা করা হবে, তবে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়।” প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশে আটকে থাকা চারজনের নথি জমা করতে বলেছেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, নথিগুলো হাতে পাওয়ার পর সরকার যেন এই ধরনের ক্ষেত্রে মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সময়সীমার মধ্যে কাজ করে।
ঘটনার সূত্রপাত ছয় মাস আগে। বহু বছর ধরেই দিল্লিতে বাস করছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার পাইকরের বাসিন্দা সোনালি ও তাঁর পরিবার। সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন সোনালির বাবা ভদু শেখ এবং স্বামী দানিশ শেখ। গত জুন মাসে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য ‘বাংলাদেশি সন্দেহে’ অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন, তাঁর স্বামী দানিশ শেখ-সহ ছয়জনকে দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ‘ঘাড় ধাক্কা’ দেওয়া হয়। সোনালির পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুন দিল্লির কে. এন কাটজু মার্গ থানার পুলিশ তাঁদের আটক করে। এরপর অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। সীমান্ত পার হতেই বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ গ্রেফতার করে সোনালিদের। গত ২০ অগাস্ট থেকে চাপাইনবাবগঞ্জ সংশোধনাগারে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বন্দি ছিলেন সোনালি খাতুনরা। সোনালিদের ফিরিয়ে আনতে আদালতের দারস্থ হন সোনালির বাবা ভদু শেখ।
মেয়ের মুক্তির দাবিতে ৬ সেপ্টেম্বর সোনালির বাবা ভদু শেখ মামলা করেন কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে জমা করা হয় জমির কাগজ, সোনালির বাবা ও ঠাকুরদার ভোটার কার্ড, সোনালির আট বছরের সন্তানের জন্ম সংশাপত্র। সবকিছু খতিয়ে দেখে ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকারকে নির্দেশ দেয় যে, চার সপ্তাহের মধ্যে সোনালি ও তাঁর সঙ্গে আটক সকলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ দাবি করে, সোনালিরা সত্যিই ভারতীয় কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এ’বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মতামত জানতে চাওয়া হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনো উত্তর মেলেনি। দিল্লি পুলিশের আরও যুক্তি, মামলার প্রধান পক্ষ হলো− দিল্লি পুলিশ নিজে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং ফরেন রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই দিল্লিতে অবস্থিত, তাই মামলার শুনানিও হওয়া উচিত দিল্লিতেই।
এরপর কেন্দ্র সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী শুনানির তারিখ দিয়েছে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি। বেঞ্চ মানবিক বিষয়গুলোকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে এবং ভবিষ্যতে এধরনের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে।






