মুকুল প্রয়াণে যা বলছেন রাজনৈতিক নেতারা
Mukul Roy passes away: দীর্ঘ রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অঘোষিত ‘নম্বর টু’ এবং দুঁদে সংগঠক হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি গত কয়েক বছর ধরেই অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে।
বাংলার রাজনীতির এক বর্ণময় ও দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান হলো। দীর্ঘ রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অঘোষিত ‘নম্বর টু’ এবং দুঁদে সংগঠক হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি গত কয়েক বছর ধরেই অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।
বাবার দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা জানান ছেলে শুভ্রাংশু রায়। তিনি বলেন,
উনি প্রায় কোমাতেই ছিলেন। চলাফেরা করতে পারতেন না, কিছু বলতে পারতেন না। এমনকি চোখের পাতাও পড়ত না। খুবই কষ্টে ছিলেন। প্রচুর লড়াই করেছিলেন, শেষ যুদ্ধটা জিততে পারলেন না।
তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে।
মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের যুযুধান রাজনৈতিক শিবিরের নেতারা। মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে মুকুলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন,
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি'র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।
মোদিজী মুকুলের পরিবার এবং অনুগামীদেরও সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিজেপির সর্বভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও সহযোদ্ধার সহসা প্রয়াণে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন-
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mukul Roy Political journey: মুকুল রায় প্রথমবার সরাসরি ভোটের ময়দানে নামেন জগদ্দল কেন্দ্র থেকে। যদিও ফরওয়ার্ড ব্লকের হরিপদ বিশ্বাসের কাছে তিনি হেরে যান, কিন্তু পরাজয় তাঁকে সংগঠন থেকে দূরে সরাতে পারেনি।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া 'X'-এ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন,
মুকুল রায়ের প্রয়াণে শেষ হল বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসের একটা অধ্যায়। একজন অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতা। এই রাজ্যের সাধারণ জনগণের তথা রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সৃষ্টির অন্যতম সেনানি। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শুরু দিন থেকেই যিনি দলের সাংগঠনিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জনজীবনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।
মুকুল রায়ের প্রয়াণে বাংলার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো। তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দলের সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন অভিষেক।
আবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,
বরিষ্ঠ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের দুঃখজনক মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। তাঁর পরিবারের প্রতি হার্দিক সমবেদনা। তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করছি।
দিলীপ ঘোষ স্মরণ করেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিজেপিতে থাকাকালীন মুকুল রায়ের অবদানের কথা।
বিজেপিতে থাকার সময় তাঁকে অনেক সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯-২০২১ পর্যন্ত তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে টিএমসিতে চলে যান। শেষ ২-৩ বছর অসুস্থ ছিলেন। তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে মুকুল রায়ের স্মৃতিচারণা করে বলেন, মমতাদির পরম অনুগত হিসেবে দলের কঠিন সময়ে তিনি তৃণমূল ভবন আগলে পড়ে থাকতেন।
কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,
মুকুল রায় প্রয়াত, চিরশান্তিতে থাকুক। দীর্ঘকাল চিনি। সাংবাদিক হিসেবে বা পরে রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে। মমতাদির পরম অনুগত। দলের কঠিন সময়েও তৃণমূলভবন আগলে পড়ে থাকত।
মুকুল রায়ের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং বাংলার রাজনীতির একটি ঘরানার অবসান। দল নির্বিশেষে সকলের কাছেই তিনি ছিলেন ‘দাদা’ বা ‘মুকুল দা’। পর্দার আড়ালে থেকে সংগঠন সাজানো বা বিবাদ মিটিয়ে ফেলার অসামান্য দক্ষতা তাঁর ছিল।






