মুকুল প্রয়াণে যা বলছেন রাজনৈতিক নেতারা

Mukul Roy passes away: দীর্ঘ রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অঘোষিত ‘নম্বর টু’ এবং দুঁদে সংগঠক হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি গত কয়েক বছর ধরেই অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে।

inscript
৫ মিনিট
মুকুল প্রয়াণে যা বলছেন রাজনৈতিক নেতারা

বাংলার রাজনীতির এক বর্ণময় ও দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান হলো। দীর্ঘ রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অঘোষিত ‘নম্বর টু’ এবং দুঁদে সংগঠক হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি গত কয়েক বছর ধরেই অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।

বাবার দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা জানান ছেলে শুভ্রাংশু রায়। তিনি বলেন,

উনি প্রায় কোমাতেই ছিলেন। চলাফেরা করতে পারতেন না, কিছু বলতে পারতেন না। এমনকি চোখের পাতাও পড়ত না। খুবই কষ্টে ছিলেন। প্রচুর লড়াই করেছিলেন, শেষ যুদ্ধটা জিততে পারলেন না।

তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে।

মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের যুযুধান রাজনৈতিক শিবিরের নেতারা। মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে মুকুলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন,

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি'র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।

মোদিজী মুকুলের পরিবার এবং অনুগামীদেরও সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিজেপির সর্বভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও সহযোদ্ধার সহসা প্রয়াণে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন-

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুকুল রায়: ফিরে দেখা রাজনৈতিক জীবন

Mukul Roy Political journey: মুকুল রায় প্রথমবার সরাসরি ভোটের ময়দানে নামেন জগদ্দল কেন্দ্র থেকে। যদিও ফরওয়ার্ড ব্লকের হরিপদ বিশ্বাসের কাছে তিনি হেরে যান, কিন্তু পরাজয় তাঁকে সংগঠন থেকে দূরে সরাতে পারেনি।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া 'X'-এ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন,

মুকুল রায়ের প্রয়াণে শেষ হল বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসের একটা অধ্যায়। একজন অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতা। এই রাজ্যের সাধারণ জনগণের তথা রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সৃষ্টির অন্যতম সেনানি। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শুরু দিন থেকেই যিনি দলের সাংগঠনিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জনজীবনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।

মুকুল রায়ের প্রয়াণে বাংলার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো। তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দলের সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন অভিষেক।

আবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,

বরিষ্ঠ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের দুঃখজনক মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। তাঁর পরিবারের প্রতি হার্দিক সমবেদনা। তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করছি।

দিলীপ ঘোষ স্মরণ করেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিজেপিতে থাকাকালীন মুকুল রায়ের অবদানের কথা।

বিজেপিতে থাকার সময় তাঁকে অনেক সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯-২০২১ পর্যন্ত তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে টিএমসিতে চলে যান। শেষ ২-৩ বছর অসুস্থ ছিলেন। তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে মুকুল রায়ের স্মৃতিচারণা করে বলেন, মমতাদির পরম অনুগত হিসেবে দলের কঠিন সময়ে তিনি তৃণমূল ভবন আগলে পড়ে থাকতেন।

কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,

মুকুল রায় প্রয়াত, চিরশান্তিতে থাকুক। দীর্ঘকাল চিনি। সাংবাদিক হিসেবে বা পরে রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে। মমতাদির পরম অনুগত। দলের কঠিন সময়েও তৃণমূলভবন আগলে পড়ে থাকত।

মুকুল রায়ের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং বাংলার রাজনীতির একটি ঘরানার অবসান। দল নির্বিশেষে সকলের কাছেই তিনি ছিলেন ‘দাদা’ বা ‘মুকুল দা’। পর্দার আড়ালে থেকে সংগঠন সাজানো বা বিবাদ মিটিয়ে ফেলার অসামান্য দক্ষতা তাঁর ছিল।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।