প্রিসাইডিং অফিসারের নাম বাদ, SIR পরবর্তী বাংলায় ভোট হচ্ছে যেভাবে
এবার ভোটে চতুর্থবারের জন্য প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন বলে ইনস্ক্রিপ্ট-কে জানিয়েছেন আখতার আলি। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা তিনি। সেখানকারই এক উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক।
পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে গণতন্ত্রের উৎসব। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। রেকর্ড হারে এবার ভোট পড়ছে। দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে রাজ্যে। মনে করা হচ্ছে, ৯০% শতাংশ পার করবে ভোটদানের হার। উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রথম দফার নির্বাচনে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে সামশেরগঞ্জে। সেখানে দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোটের হার ৮৭.৫৩ শতাংশ। এই জেলাতেই (মুর্শিদাবাদে) সর্বাধিক নাম বাদ পড়েছে এসআইআর-এ। ৭.৪ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বারবার কাগজ দেখিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন সামশেরগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা।
এবার ভোট না দিলে তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে, এই আশঙ্কাতেও ভোটপ্রদানের হার বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ভিনরাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভোট দিতে ভিড় জমিয়েছেন নিজভূমে। কিন্তু নির্বাচনের দিনও SIR বিতর্ক থামছে না। নিজে ভোট দিতে পারছেন না, কারণ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে। অথচ সেই ব্যক্তিই ভোট পরিচালনার গুরু দায়িত্ব পালন করছেন। এবার ভোটে চতুর্থবারের জন্য প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন বলে ইনস্ক্রিপ্ট-কে জানিয়েছেন আখতার আলি। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা তিনি। সেখানকারই এক উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Samsherganj voting: সামশেরগঞ্জে এত বেশি ভোট পড়ল কেন, যখন বহু নাম এসআইআর-এ বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে? যারা ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের জন্যই কি অন্যরা ভোট দিচ্ছেন?
ইনস্ক্রিপ্ট-কে আখতার আলি জানিয়েছেন, খসড়া তালিকায় তাঁর নাম ছিল। এরপর বিএলও হঠাৎ একদিন জানান যে, তাঁকে কিছু নথি জমা করতে হবে। ম্যাপিং ভোটার হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিকের শংসাপত্র জমা দিয়েছিলেন বলে জানান আখতার আলি। তবুও তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন নাম বাদ, কারণ জানাচ্ছে না কেন নির্বাচন কমিশন? আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই কেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ?”
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আখতার আলি। তিনি বলেন, “এত তাড়াহুড়ো কেন? যদি এক-দেড় বছর আগে এসআইআর-টা করা হতো, তাহলে তো সবার নথিপত্র সময় নিয়ে সঠিকভাবে যাচাই করতে পারত। যেটা কমিশন করতে পারেনি। কারণ আমি নিজে তিনটে বৈধ নথি দিয়েছি, তারপরও কেন আমার নাম আসেনি?”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal election 2026: প্রথমার্ধ পার হতেই কেমন ভোটের ছবি দেখল বাংলা? কোথায় বাড়ল ভোটের হার, কোথায় কমল? সামসেরগঞ্জ-সহ স্পর্শকাতর এলাকায় কী ইঙ্গিত মিলছে? ভোটারদের উৎসাহ, নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কী বলছে এই পরিসংখ্যান? শেষ পর্যন্ত এই ট্রেন্ড কি ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে?
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় মৃত ও পরিযায়ী হিসেবে ৬৪ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আরও ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে তথাকথিত ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’র কারণে, যদিও তাঁরা ফর্ম পূরণ করেছিলেন। আলিও সেই তালিকায়। তাঁদের আপিল এখন সুপ্রিম কোর্ট-নির্ধারিত ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
১৩ এপ্রিল থেকে ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করে। ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, ভোটের দুদিন আগে ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্র দিলে ভোট দেওয়া যাবে। ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ১৩৯ জনের নাম তোলা হয় ভোটার তালিকায়। অর্থাৎ এঁরাই ভোট দিতে পারবেন। যারা ঝুলে রইলেন তাঁদের ভবিষ্যত নিয়েও সংশয় রয়ে যাচ্ছে।
সামশেরগঞ্জ বিধানসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৬১,৪৩৫ জন। এর মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১,৬৮৫ জনের নাম বাতিলের তালিকায় চলে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ভোটগ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রকাশিত ট্রাইব্যুনালের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় সেই বিপুল সংখ্যক বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে জায়গা পেলেন মাত্র একজন। বিপুল সংখ্যক ভোটারকে বাদ দিয়েই ভোট। সেই ক্ষোভেরই কি বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সামশেরগঞ্জে তথা মুর্শিদাবাদে ভোটবাক্সে!






