প্রথমার্ধ পার, ভোটের যে ছবি দেখলো বাংলা
West Bengal election 2026: প্রথমার্ধ পার হতেই কেমন ভোটের ছবি দেখল বাংলা? কোথায় বাড়ল ভোটের হার, কোথায় কমল? সামসেরগঞ্জ-সহ স্পর্শকাতর এলাকায় কী ইঙ্গিত মিলছে? ভোটারদের উৎসাহ, নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কী বলছে এই পরিসংখ্যান? শেষ পর্যন্ত এই ট্রেন্ড কি ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে?
আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে সকাল থেকেই একাধিক জেলায় উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। মুর্শিদাবাদের নওদা থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি, পোলিং এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা, মারধর এবং বিক্ষোভের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আজ সকাল থেকেই প্রথম দফার ভোটের দিন মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে। ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে তৃণমূল কর্মীরা ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে গন্ডোগোল শুরু হয় এবং ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পাশাপাশি শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা, যেখানে হুমায়ুন কবীর ও তৃণমূল কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। এমনকী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। এরপর রাস্তা অবরোধ করে তৃণমূল কর্মীরা বসে পড়েন, ফলে হুমায়ুন কবীরের কনভয়ের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি হয়। পাল্টা তিনি মাঝরাস্তায় লরির সামনে চেয়ার পেতে বসে প্রতিবাদ জানান।
দীর্ঘক্ষণ ধরে উত্তেজনা চলার পর পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরানোর চেষ্টা করে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Samsherganj voting: সামশেরগঞ্জে এত বেশি ভোট পড়ল কেন, যখন বহু নাম এসআইআর-এ বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে? যারা ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের জন্যই কি অন্যরা ভোট দিচ্ছেন?
অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের দিন ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে ঘিরে। অভিযোগ, একটি বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্টকে বসতে না দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি সেখানে পৌঁছন। বিজেপির দাবি, ওই বুথে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের এজেন্ট ছাড়া অন্য কাউকে বসতে দেয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে শুভেন্দু সরকারের ঝামেলা বাধে এবং বুথ থেকে বেরিয়ে আসার পর একদল দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে প্রথমে গালিগালাজ, তারপর পুলিশের সামনেই কিল-ঘুষি মেরে মারধর করা হয় তাঁকে। একসময় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে প্রার্থীকে মাঠের মধ্যে দিয়ে দৌঁড়ে সরে যেতে দেখা যায়। এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হয়েছে এবং কমিশনের তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বুধবার রাতে ডোমকলের রায়পুর অঞ্চলের মোক্তারপুর কারিগরপাড়ায় তৃণমূল ও সিপিএম কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রথম দফার ভোট শুরুর আগেই মুর্শিদাবাদের ডোমকল রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। প্রথমে ঝামেলা শুরু হলেও তা দ্রুত ভয়াবহ সংঘর্ষে পরিণত হয়। অভিযোগ ওঠে ধারাল অস্ত্রের কোপে অন্তত চারজন জখম হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিপিএম সমর্থক রাকিবুল আনসারী ও তাঁর বাবা মহবুল আনসারী, পাশাপাশি তৃণমূল কর্মী আমিরউদ্দিন মন্ডল ও তাঁর ছেলে আলামিন মন্ডল। চারজনকেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী, শুরু হয় টহলদারি। এই উত্তেজনার মধ্যে সকাল থেকে শুরু হয় ভোটপর্ব।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ADR report West Bengal election: প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ৬৬টিই ‘রেড অ্যালার্ট’ কেন্দ্র, তিন বা তারও বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ভোটাররা কি এবার প্রার্থীর ভাবমূর্তির বদলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার দিকেও নজর দেবেন?
প্রথম দফার ভোটে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এদিন ভোটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। রহমতনগর হাই স্কুলের বুথ পরিদর্শন সেরে বেরোনোর পর তাঁর চলন্ত গাড়িকে লক্ষ্য করে পিছন দিক থেকে পাথর ছোড়া হয়। এই হামলায় গাড়ির পিছনের কাচের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে যায়। অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, এটি পরিকল্পিত হামলা এবং ভোটের দিন তাঁকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার পরই বিজেপির পক্ষ থেকে হীরাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, ও হামলার অভিযোগের মধ্যেই আসানসোলের এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ভোটের পরিবেশকে অশান্ত করতেই এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানা যায়নি, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম দফার ভোট চলাকালীন রাজ্যের একাধিক এলাকায় বুথের বাইরে উত্তেজনা ও হিংসার অভিযোগ সামনে আসায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইলেকশন কমিশনের তরফ থেকে, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনায় হুমায়ূন কবীরের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ও তাঁর সমর্থকদের ঘিরে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর সমর্থকদের উপর অযথা কড়া ব্যবহার করেছে, যার প্রতিবাদে তিনি রাস্তার মাঝখানে বসে ধর্না দেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ ভোট ও বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানান।
একইভাবে এই অশান্তির ঘটনায় বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন বলেন, “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে" অর্থাৎ যে অভিযোগগুলি উঠছে, তার পেছনে কিছু সত্যতা থাকতে পারে বলেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক তরজার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রমাণ সামনে এনে তদন্ত করা উচিত।






