নতুন গল্পকারের খোঁজে নেটফ্লিক্স, ভারতে চালু ‘নেক্সটজেন রাইটার্স’ প্রোগ্রাম

Netflix NextGen India Writers Program: নেটফ্লিক্সের ‘নেক্সটজেন ইন্ডিয়া রাইটার্স প্রোগ্রাম’ কী? কী ভাবে এই উদ্যোগ নতুন গল্পকার ও চিত্রনাট্যকারদের পেশাদার প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং রাইটার্স রুমে কাজের অভিজ্ঞতা দেবে? ওটিটির জন্য নতুন প্রজন্মের ভারতীয় লেখক তৈরিতে এই কর্মসূচি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

inscript
৩ মিনিট
নতুন গল্পকারের খোঁজে নেটফ্লিক্স, ভারতে চালু ‘নেক্সটজেন রাইটার্স’ প্রোগ্রাম

ভারতে নতুন গল্পকার ও চিত্রনাট্যকারদের খুঁজে বের করতে বড় উদ্যোগ নিল নেটফ্লিক্স। সংস্থাটি চালু করেছে ‘নেটফ্লিক্স নেক্সটজেন ইন্ডিয়া রাইটার্স’ প্রোগ্রাম, যার লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নতুন লেখকদের হাতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং আন্তর্জাতিক মানের গল্প বলার সুযোগ তুলে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরেই নেটফ্লিক্স ভারতীয় ভাষার নানা ধরনের কনটেন্টে বিনিয়োগ করছে। এবার সেই বিনিয়োগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তারা নতুন প্রজন্মের লেখকদের তৈরি করার দিকেই জোর দিচ্ছে।

ভারতকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট বাজার হিসেবে দেখে নেটফ্লিক্স। গত কয়েক বছরে হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম-সহ একাধিক ভাষার সিরিজ ও সিনেমা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পৌঁছেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সংস্থার বিশ্বাস, দেশের নানা প্রান্তে এমন বহু প্রতিভাবান লেখক রয়েছেন, যাঁদের গল্প এখনও বড় পর্দা বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর সুযোগ হয়নি। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই অজানা প্রতিভাদের সামনে আনার চেষ্টা করা হবে।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন এমন লেখকেরা, যাঁদের কাছে নতুন ও মৌলিক গল্পের ধারণা রয়েছে এবং যাঁরা টেলিভিশন বা ওটিটি সিরিজের জন্য চিত্রনাট্য লিখতে আগ্রহী। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা দুই মাসের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এই প্রশিক্ষণ হবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে, অর্থাৎ অনলাইন এবং অফলাইন—দু'মাধ্যমেই ক্লাস ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রশিক্ষণের অন্যতম আকর্ষণ হবে অভিজ্ঞ চিত্রনাট্যকার, শো-রানার এবং শিল্পের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ। অংশগ্রহণকারীরা শুধু গল্প লেখাই নয়, একটি সিরিজ কী ভাবে পরিকল্পনা করা হয়, চরিত্র নির্মাণ, প্লট তৈরি, সংলাপ লেখা, গল্পের গতি বজায় রাখা এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও শিখবেন। বাস্তব লেখকদলের মতো পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতাও দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা পেশাদার জগতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অস্বস্তিকর, শ্বাসরোধী! কেন এই সময়ের সবচেয়ে জরুরি সিরিজ হয়ে উঠল অ্যাডোলেসেন্স?

Adolescence Review: ফিলিপ বারান্তিনি-নির্দেশিত এই সিরিজের চারটি পর্বই ওয়ান টেকে নেওয়া। অর্থাৎ, একটিই মাত্র শটে শুরু থেকে শেষ অবধি দেখানো হয়েছে, মাঝে কোনও কাট নেই।

এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, ‘পিচ বাইবেল’ বা সিরিজের পূর্ণাঙ্গ ধারণাপত্র তৈরি করা। একটি ওয়েব সিরিজ বা টিভি সিরিজ নির্মাণের আগে প্রযোজক বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কাছে যে বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে হয়, সেটিই পিচ বাইবেল নামে পরিচিত। প্রশিক্ষণের শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের গল্পকে সেই পেশাদার রূপে উপস্থাপন করতে পারবেন। এর ফলে ভবিষ্যতে তাঁদের প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও অনেকটাই বাড়বে।

নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়ার কনটেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিকা শেরগিল জানিয়েছেন, প্রতিটি বড় গল্পের শুরু একজন লেখকের হাত ধরেই হয়। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যাঁদের বলার মতো অসাধারণ গল্প আছে। কিন্তু অনেকেই সেই গল্প তুলে ধরার সুযোগ পান না। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই প্রতিভাবান মানুষদের খুঁজে বের করে তাঁদের দক্ষতা আরও উন্নত করার সুযোগ করে দিতে চায় নেটফ্লিক্স।

এই উদ্যোগকে ভারতীয় বিনোদন শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে। দর্শকের কাছে নতুন, বাস্তবধর্মী এবং বৈচিত্র্যময় গল্প পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণে নতুন লেখক ও নতুন চিন্তাধারার চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। নেটফ্লিক্সের এই উদ্যোগ সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিভিন্ন ভাষার ভারতীয় সিরিজ ও সিনেমা বিশ্বের বহু দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ফলে স্থানীয় গল্পও আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন লেখকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ভারতীয় কনটেন্ট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

নেটফ্লিক্স ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন লেখক ও নির্মাতাদের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে ভারতেও কাজে লাগানো হচ্ছে। সংস্থার আশা, এই উদ্যোগ থেকে এমন অনেক লেখক উঠে আসবেন, যাঁদের গল্প আগামী দিনে ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের দর্শকদেরও আকৃষ্ট করবে।

আবেদন প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগ্রহী লেখকেরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক বাছাইয়ের পরে নির্বাচিত প্রার্থীদের এই দু'মাসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা শিল্পের বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী কাজ করার দক্ষতা, পেশাদার নেটওয়ার্ক এবং ভবিষ্যতের সুযোগও অর্জন করবেন।

ভারতের বিনোদন শিল্প দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দর্শক এখন শুধু বড় তারকার উপর নির্ভরশীল গল্প দেখতে চান না; বরং নতুন বিষয়, নতুন চরিত্র এবং ভিন্ন ধরনের গল্প খুঁজছেন। সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন লেখকেরা। তাই নতুন লেখকদের হাতে সুযোগ তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ আগামী দিনে ভারতীয় ওটিটি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নেটফ্লিক্সের এই কর্মসূচি সফল হলে আরও সংস্থা একই ধরনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হতে পারে, যার ফলে ভারতীয় গল্প বলার জগতে নতুন এক প্রজন্মের উত্থান ঘটবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কারও ফেরা হলো না মায়ের কোলে, কারও চোখের সামনেই চলে গেলেন মা, সপ্তমীর ভিড় কেড়ে নিল চেনা মুখগুলো

Kolkata Durga Puja stampede: যে শিশুটি বাবার হাত ধরে মণ্ডপ দেখতে চেয়েছিল, কিংবা যে তরুণ উৎসবের দিনেও শুধু মায়ের হাসিমুখ দেখতে ভিড়ে সামিল হয়েছিল—মুহূর্তের হুড়োহুড়িতে তাদের সব হিসাব ওলটপালট হয়ে গেল।

ভূমিকম্পে নদী শুকোল, গ্রাম ছাড়লেন কারিগররা: আজরাখপুর যেভাবে বাঁচিয়ে রাখল ৪০০ বছরের শিল্পকে

Ajrakh block printing: ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকেই শুকিয়ে যেতে থাকে সরন নদী। নিয়মিত বহমান জল ছাড়া কাপড়ে স্বাভাবিক রং ফোটানো কঠিন হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীরা কূপ খনন করেছিল। নলকূপের জলে অতিরিক্ত মাত্রায় লোহা থাকার কারণে কাপড়ে রঙের কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে ফিকে হতে থাকে প্রাকৃতিক ও ভেষজ রঙের এই ঐতিহ্যবাহী আজরাখ শিল্প। জীবিকার সন্ধানে এক সময় গ্রামের বহু মানুষ ভিন্ন পেশা বেছে নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে পাড়ি দিতে বাধ্য হন।

শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব ধারার মেলবন্ধন: খড়দহে নিত্যানন্দের কাত্যায়নী পুজো

Khardaha Nityananda Prabhu Durga Puja: নিত্যানন্দের পূজিতা দেবী কাত্যায়নী দশভুজা। ঘোড়ামুখো সিংহ তাঁর বাহন। ত্রিশূল হাতে অসুরকে তিনি হত্যা করছেন। তাঁর ডানে জয়া ও বামে বিজয়া। জয়ার নিচে গণেশ আর বিজয়ার নিচে কার্তিকের অবস্থান।

কৈলাসী থেকে দশাবতারী, দুর্গার চালচিত্রে যেভাবে ধরা পড়ে বাংলার পুরাণ ও লোকবিশ্বাস

Durga Puja Chalchitra: প্রতিমার ঠিক পিছনে যে অর্ধবৃত্তাকার বা বিস্তৃত কাঠামো থাকে, তাকে বলা হয় চালি। আর তার উপর অঙ্কিত কাহিনিমূলক চিত্রই হলো চালচিত্র। তবে এই চালচিত্রকে শুধুমাত্র শৈল্পিক অলংকরণ হিসেবে দেখা যায় না, বরং বহু শতাব্দীর ধর্মীয় স্মৃতি, লোকবিশ্বাস, পুরাণকথা, সামাজিক কল্পনা ও নন্দনতাত্ত্বিক চেতনার এক জটিল ও সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হলো এই চালচিত্র।

অথর ইজ ডেড, যে লেখে সে আমি নয় এআই?

Caine Prize winning story AI allegations: ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত।

জমিদারগিন্নির অপমানের জবাব দিতেই শুরু পাঞ্জা বাড়ির দুর্গাপুজো

Panja family Durga Puja: এক বর্ষামুখর দুর্গাষ্টমীর দিনে জমিদারবাড়ির মহিলারা, জমিদারগিন্নির সঙ্গে, বাড় সিউড়ির দুর্গাপ্রতিমা দর্শনে যান। ফেরার পথে কর্দমাক্ত রাস্তা পেরোনোর সময় দামি শাড়ি কাদা থেকে বাঁচাতে তাঁরা শাড়ির পাড় কিছুটা তুলে হাঁটছিলেন। কথিত আছে, তা দেখে পাড়ার কয়েকজন কটূক্তি করে বলেন— “পাঞ্জা বাড়ির বউ কাপড় উঠিয়ে চলছে!”

বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর একাল-সেকাল

Durga Puja in Bangladesh: জমিদারি আমল থেকে বর্তমান থিম পুজো—নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বাংলাদেশে দুর্গাপুজো কেমন হচ্ছে? ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বজনীন সম্প্রীতি ও মিলনের চিরন্তন বার্তা আজও বহন করে চলেছে?

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।